রমজানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করবে ১০ ভ্রাম্যমাণ আদালত: মেয়র মো. আতিক

রমজান মাসে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ডিএনসিরির তরফ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। 

 

বৃহস্পতিবার  সকালে গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবনের হল রুমে এক কর্মশালায় তিনি একথা জানান।

 

রমজান উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইফতার প্রস্তুতকরাসহ বিপণনে জড়িত ব্যবসায়ীদের নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক এই কর্মশালার আয়োজন করে ডিএনসিসি। কর্মশালায় মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কাওরানবাজার, মহাখালীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুই শতাধিক রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীরা অংশ নেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আতিক বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে এই কর্মশালার খুবই দরকার ছিল। আমরা কোনো রেস্তোরাঁকে জরিমানা করতে চাই না। রেস্তোরাঁ মালিকদের পুরস্কার দিতে চাই। আশা করবো, সবাই মিলে চেষ্টা করবেন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে।

 

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। আর সেজন্য প্রচার-প্রচারণা বেশি বেশি করা দরকার। তারই অংশ হিসেবে রেস্তোরাঁর মালিকদের নিয়ে আমাদের এই কর্মশালার আয়োজন। খাদ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে।

 

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ থাকবে না। আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা অসুস্থ হয়ে যাবেন। তবে এটাও ঠিক, রাজধানীতে অনেক ভালো মানের রেস্টুরেন্টও আছে। খোলা বাজারে যেসব দোকান রয়েছে-বিশেষ করে চটপটি, ফুচকা, বার্গার, নুডুলস, পরোটাসহ এসব দোকানগুলোতে নিরাপদ খাদ্য নেই। এসব দোকানের খাবারের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

 

রমজান মাসে স্ট্রিট ফুড, বিশেষ করে ইফতারসামগ্রীর মান নিরাপদ নিশ্চিতে ডিএনসিসি এলাকায় ১০০টি খাদ্যের গাড়ি নামানো হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘এই গাড়িগুলোতে করে তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া), বিধবা, অসহায় নারীরা খাবার তৈরি করে তা বিক্রি করবেন। এসব গাড়িতে পরীক্ষামূলক খাবার বিক্রির ওপর আমরা মনিটরিং করবো। আমরা দেখবো, তারা কীভাবে খাদ্য তৈরি করে। এই কার্যক্রম সফল হলে আরও ১০০টি ফুডের গাড়ি রাস্তায় দেওয়া হবে। এভাবে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে চাই।

 

ঢাকা প্রিয় শহর উল্লেখ করে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই শহরের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং যানজট নিরসন আমাদের দায়িত্ব। আমরা সবাই নিজেদের এই শহরকে ভালোবাসবো। রমজানে কেউ খাদ্যে ভেজাল দিলে এবং ধরা পড়লে আইনের যত ধারা আছে, তার পুরোটাই প্রয়োগ করা হবে। এ ছাড়াও, পৃথকভাবে ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলিক কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

 

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. কাইউম সরকার, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, এফ এ এ এর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার জন টেইলর বক্তব্য রাখেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» নাশকতার মামলায় র‌্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ২২৮

» নাশকতাকারী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» মৃত্যুযন্ত্রণা সম্পর্কে কোরআন-হাদিসে যা বলা হয়েছে

» চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৫ ‌

» নাইকো দুর্নীতি মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্য ২০ আগস্ট

» বিতর্ক আর শঙ্কা নিয়ে শুরু হচ্ছে প্যারিস অলিম্পিক

» নাশকতাকারীরা যেন ঢাকা না ছাড়তে পারে সেই পরিকল্পনা করছে ডিএমপি : বিপ্লব কুমার

» দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে: নৌবাহিনী প্রধান

» হামলার নীলনকশা আগেই প্রস্তুত করে রেখেছিল বিএনপি: কাদের

» সহিংস আন্দোলনের জন্য অহিংস আন্দোলনকে ব্যবহার করেছে বিএনপি-জামায়াত: জয়

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

রমজানে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে কাজ করবে ১০ ভ্রাম্যমাণ আদালত: মেয়র মো. আতিক

রমজান মাসে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ডিএনসিরির তরফ থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। 

 

বৃহস্পতিবার  সকালে গুলশানে ডিএনসিসির নগর ভবনের হল রুমে এক কর্মশালায় তিনি একথা জানান।

 

রমজান উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইফতার প্রস্তুতকরাসহ বিপণনে জড়িত ব্যবসায়ীদের নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে সচেতনতামূলক এই কর্মশালার আয়োজন করে ডিএনসিসি। কর্মশালায় মিরপুর, মোহাম্মদপুর, কাওরানবাজার, মহাখালীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার প্রায় দুই শতাধিক রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মীরা অংশ নেন।

 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আতিক বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে এই কর্মশালার খুবই দরকার ছিল। আমরা কোনো রেস্তোরাঁকে জরিমানা করতে চাই না। রেস্তোরাঁ মালিকদের পুরস্কার দিতে চাই। আশা করবো, সবাই মিলে চেষ্টা করবেন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে।

 

ডিএনসিসি মেয়র বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন জনসচেতনতা। আর সেজন্য প্রচার-প্রচারণা বেশি বেশি করা দরকার। তারই অংশ হিসেবে রেস্তোরাঁর মালিকদের নিয়ে আমাদের এই কর্মশালার আয়োজন। খাদ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে।

 

তিনি বলেন, ‘নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম সুস্থ থাকবে না। আমাদের আত্মীয়-স্বজনরা অসুস্থ হয়ে যাবেন। তবে এটাও ঠিক, রাজধানীতে অনেক ভালো মানের রেস্টুরেন্টও আছে। খোলা বাজারে যেসব দোকান রয়েছে-বিশেষ করে চটপটি, ফুচকা, বার্গার, নুডুলস, পরোটাসহ এসব দোকানগুলোতে নিরাপদ খাদ্য নেই। এসব দোকানের খাবারের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

 

রমজান মাসে স্ট্রিট ফুড, বিশেষ করে ইফতারসামগ্রীর মান নিরাপদ নিশ্চিতে ডিএনসিসি এলাকায় ১০০টি খাদ্যের গাড়ি নামানো হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘এই গাড়িগুলোতে করে তৃতীয় লিঙ্গ (হিজড়া), বিধবা, অসহায় নারীরা খাবার তৈরি করে তা বিক্রি করবেন। এসব গাড়িতে পরীক্ষামূলক খাবার বিক্রির ওপর আমরা মনিটরিং করবো। আমরা দেখবো, তারা কীভাবে খাদ্য তৈরি করে। এই কার্যক্রম সফল হলে আরও ১০০টি ফুডের গাড়ি রাস্তায় দেওয়া হবে। এভাবে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে চাই।

 

ঢাকা প্রিয় শহর উল্লেখ করে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই শহরের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং যানজট নিরসন আমাদের দায়িত্ব। আমরা সবাই নিজেদের এই শহরকে ভালোবাসবো। রমজানে কেউ খাদ্যে ভেজাল দিলে এবং ধরা পড়লে আইনের যত ধারা আছে, তার পুরোটাই প্রয়োগ করা হবে। এ ছাড়াও, পৃথকভাবে ডিএনসিসির ১০টি অঞ্চলিক কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন।

 

ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমানের সভাপতিত্বে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. কাইউম সরকার, ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা, এফ এ এ এর চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার জন টেইলর বক্তব্য রাখেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com