যেমন হতে হবে কোরবানির পশুর বয়সসীমা

ঈদুল আজহায় উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া কোরবানি করা যায়। তবে এসব পশুর একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা রয়েছে। সে অনুযায়ী বয়স না হলে, এগুলো জবাই করলে কোরবানি হবে না। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কোরবানির পশুর বয়সসীমা যেমন হতে হবে সে সম্পর্কে- 

 

কোরবানির পশুর গুণাগুণ:

কোরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি। গুণগত দিক থেকে সর্বোত্তম হলো-

 

পশুটি দেখতে হবে সুন্দর।

 

নিখুঁত বা দোষত্রুটি মুক্ত।

 

অধিক গোশত সম্পন্ন এবং

 

হৃষ্টপুষ্ট। এক কথায় প্রথম দেখায় যা পছন্দ হয়ে যায়।

 

কোরবানির পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হওয়ার জন্য নবিজী (সা.)- এর নির্দেশনাও রয়েছে। হাদিসে এসেছে-

 

হজরত বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী (সা.) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন আর আমার হাত তার হাতের চেয়েও ছোট, তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি করে তা জায়েজ হবে না। আর তাহলো-

 

অন্ধ : যে গরু চোখে দেখতে পায় তা স্পষ্ট।

 

রোগাগ্রস্ত : রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

 

পঙ্গু : যে পশু হাটাচলা করতে পারে না।

 

আহত : যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে তা স্পষ্ট।

 

হাদিস গ্রন্থ নাসাঈতে ‘আহত পশুর স্থলে ‘পাগল’উল্লেখ করা হয়েছে। (তিরমিজি, নাসাঈ) হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এ সব পশু দ্বারা কোরবানি করলে তার কোরবানি পরিপূর্ণ হবে না।

 

তাই পশু কেনার সময় উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে। যাতে কোনো ভাবেই হাদিসে নিষেধ এমন পশু কোরবানির জন্য ক্রয় করতে না হয়।

কোরবানির পশুর বয়স
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানির পশুর বয়সের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আর তাহলো-

 

উট :কোরবানির সময় উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। সহজে উট বা উষ্ট্রী পাওয়া গেলে তা যেন পাঁচ বছরের নিচে না হয়।

 

গরু-মহিষ :কোরবানির সময় গরু বা মহিষের বয়স দুই বছর হতে হবে।

 

ছাগল, ভেড়া, দুম্বা :কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার এক বছর বয়সের হতে হবে।

 

তবে কোনো পশু যদি দেখতে ৫, ২ ও ১ বছর বয়স না হয়, কিন্তু দেখতে ৫, ২ ও ১ বা তার চেয়েও বেশি বলে মনে হয়। অর্থাৎ দেখতে নাদুস-নুদুস হয় তবে ঐ পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে।

 

একান্তই যদি উল্লেখিত বয়সের কোনো পশু পাওয়া না যায়, তবে সে ক্ষেত্রে এরচেয়েও কম বয়সী পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে। হাদিসে এসেছে-

 

হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ( সা.)  বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই মুসিন্না (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর (পাওয়া কষ্টকর) হলে ছয় মাসের মেষশাবক কোরবানি করতে পারবে। (মুসলিম)

কোরবানির পশুর ভাগে ক্ষেত্রে  :উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। অর্থাৎ কোরবানির পশুতে এক সপ্তমাংশ বা এর অধিক যে কোনো অংশে অংশীদার হওয়া জায়েজ। এক্ষেত্রে ভগ্নাংশ-  যেমন, দেড় ভাগ, আড়াই ভাগ, সাড়ে তিন ভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই।  (মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)

 

উল্লেখ্য, কোরবানি করতে হবে সাধ্যের মধ্যে উৎকৃষ্ট পশু দিয়ে এবং তা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে বিশুদ্ধ নিয়তে সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক বয়সের পশু কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূূএ:ডেইলি বাংলাদেশ

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মঙ্গলবার গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়

» মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার

» বাইডেনকে হারাতে পারবেন না ট্রাম্প, বললেন নিকি হ্যালি

» বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যার অভিযোগ

» গণধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি ২১ বছর পর গ্রেফতার

» কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

» ট্রেনের টিকেটসহ ৫ কালোবাজারি গ্রেফতার

» গাজা থেকে বেসামরিক মানুষকে সরাতে চায় ইসরায়েলি সেনা!

» শীতের পোশাক আলমারিতে তোলার সময় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

» টস জিতে ফিল্ডিংয়ে তামিমের বরিশাল

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

যেমন হতে হবে কোরবানির পশুর বয়সসীমা

ঈদুল আজহায় উট, গরু, মহিষ, দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া কোরবানি করা যায়। তবে এসব পশুর একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা রয়েছে। সে অনুযায়ী বয়স না হলে, এগুলো জবাই করলে কোরবানি হবে না। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক কোরবানির পশুর বয়সসীমা যেমন হতে হবে সে সম্পর্কে- 

 

কোরবানির পশুর গুণাগুণ:

কোরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি। গুণগত দিক থেকে সর্বোত্তম হলো-

 

পশুটি দেখতে হবে সুন্দর।

 

নিখুঁত বা দোষত্রুটি মুক্ত।

 

অধিক গোশত সম্পন্ন এবং

 

হৃষ্টপুষ্ট। এক কথায় প্রথম দেখায় যা পছন্দ হয়ে যায়।

 

কোরবানির পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হওয়ার জন্য নবিজী (সা.)- এর নির্দেশনাও রয়েছে। হাদিসে এসেছে-

 

হজরত বারা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, নবিজী (সা.) আমাদের মাঝে দাঁড়ালেন আর আমার হাত তার হাতের চেয়েও ছোট, তারপর বললেন, চার ধরনের পশু, যা দিয়ে কোরবানি করে তা জায়েজ হবে না। আর তাহলো-

 

অন্ধ : যে গরু চোখে দেখতে পায় তা স্পষ্ট।

 

রোগাগ্রস্ত : রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।

 

পঙ্গু : যে পশু হাটাচলা করতে পারে না।

 

আহত : যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে তা স্পষ্ট।

 

হাদিস গ্রন্থ নাসাঈতে ‘আহত পশুর স্থলে ‘পাগল’উল্লেখ করা হয়েছে। (তিরমিজি, নাসাঈ) হাদিসের অন্য বর্ণনায় এসেছে যে, এ সব পশু দ্বারা কোরবানি করলে তার কোরবানি পরিপূর্ণ হবে না।

 

তাই পশু কেনার সময় উল্লেখিত বিষয়গুলো খেয়াল করতে হবে। যাতে কোনো ভাবেই হাদিসে নিষেধ এমন পশু কোরবানির জন্য ক্রয় করতে না হয়।

কোরবানির পশুর বয়স
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে কোরবানির পশুর বয়সের দিকেও বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। আর তাহলো-

 

উট :কোরবানির সময় উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। সহজে উট বা উষ্ট্রী পাওয়া গেলে তা যেন পাঁচ বছরের নিচে না হয়।

 

গরু-মহিষ :কোরবানির সময় গরু বা মহিষের বয়স দুই বছর হতে হবে।

 

ছাগল, ভেড়া, দুম্বা :কোরবানির জন্য ছাগল, ভেড়া ও দুম্বার এক বছর বয়সের হতে হবে।

 

তবে কোনো পশু যদি দেখতে ৫, ২ ও ১ বছর বয়স না হয়, কিন্তু দেখতে ৫, ২ ও ১ বা তার চেয়েও বেশি বলে মনে হয়। অর্থাৎ দেখতে নাদুস-নুদুস হয় তবে ঐ পশু দিয়ে কোরবানি করা যাবে।

 

একান্তই যদি উল্লেখিত বয়সের কোনো পশু পাওয়া না যায়, তবে সে ক্ষেত্রে এরচেয়েও কম বয়সী পশু দ্বারা কোরবানি করা যাবে। হাদিসে এসেছে-

 

হজরত জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ ( সা.)  বলেছেন, ‘তোমরা অবশ্যই মুসিন্না (নির্দিষ্ট বয়সের পশু) কোরবানি করবে। তবে তা তোমাদের জন্য দুষ্কর (পাওয়া কষ্টকর) হলে ছয় মাসের মেষশাবক কোরবানি করতে পারবে। (মুসলিম)

কোরবানির পশুর ভাগে ক্ষেত্রে  :উট, গরু, মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কমে যেকোনো সংখ্যা যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। অর্থাৎ কোরবানির পশুতে এক সপ্তমাংশ বা এর অধিক যে কোনো অংশে অংশীদার হওয়া জায়েজ। এক্ষেত্রে ভগ্নাংশ-  যেমন, দেড় ভাগ, আড়াই ভাগ, সাড়ে তিন ভাগ হলেও কোনো সমস্যা নেই।  (মুসলিম, হাদিস: ১৩১৮; বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৭)

 

উল্লেখ্য, কোরবানি করতে হবে সাধ্যের মধ্যে উৎকৃষ্ট পশু দিয়ে এবং তা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে বিশুদ্ধ নিয়তে সঠিক পদ্ধতিতে সঠিক বয়সের পশু কোরবানি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সূূএ:ডেইলি বাংলাদেশ

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com