জাহান্নামের খাবার

পরকালে নেককারদের জান্নাতের বিপরীতে গুনাহগারদের জন্যে রয়েছে জাহান্নাম। গুনাহের পরিমাণ বিবেচনা করে অপরাধীদের পাঠানো হবে জাহান্নামের উপযুক্ত স্তরে। জাহান্নামে যে খাবার দেওয়া হবে তাও এক প্রকার শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

জাহান্নামের আগুনের তীব্রতায় তার অধিবাসীদের পিপাসায় বুক ফেটে যাওয়ার উপক্রম হবে। তারা পানির জন্য হাহাকার করবে। তখন তাদের দেওয়া হবে পুঁজমিশ্রিত রক্ত, দুর্গন্ধযুক্ত উত্তপ্ত পানি বা শরীর থেকে নির্গত ঘাম। খাবারের মধ্যে রয়েছে কাঁটাযুক্ত তেতো খাবার, বিষাক্ত কাঁটাবিশিষ্ট ফল, পুঁজমিশ্রিত রক্ত ইত্যাদি।

কোরআন হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী জাহান্নামিদের চার ধরনের খাবার দেওয়া হবে। নিচে সেগুলোর আলোচনা করা হলো।

১. জাক্কুম
জাক্কুম হলো এক ধরনের কাঁটাযুক্ত গাছ। যে গাছে তেতো ফল ধরে। এটি এমন গাছ, যা দুনিয়ায় পাওয়া যায় না। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন শাস্তির মতো এটাকেও সৃষ্টি করবেন। তবে খাবার হিসেবে জাক্কুমের অর্থ হবে তেতো কাঁটাযুক্ত এক ধরনের ভারী খাবার। এটি খাদ্য হিসেবে জাহান্নামিদের দেওয়া হবে। তা জাহান্নামের নিম্নদেশ থেকে উদগত হবে। এর গুচ্ছ হবে শয়তানের মাথার মতো। এটা খেয়ে জাহান্নামিরা তাদের উদর পূর্ণ করবে। আল্লাহ তাআলা জাক্কুম সম্পর্কে বলেন, ‘আপ্যায়নের জন্যে কি এটাই শ্রেষ্ঠ, নাকি জাক্কুম বৃক্ষ? এটি আমরা জালেমদের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ তৈরি করেছি। এ বৃক্ষ উদগত হয় জাহান্নামের তলদেশ থেকে। তার গুচ্ছ যেন শয়তানের মস্তক। অবশ্যই তারা এটা থেকে ভক্ষণ করবে এবং তাদের পেট পূর্ণ করবে।’ (সুরা সাফফাত: ৬২-৬৬)

 

হাদিসে জাক্কুমের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওই জাক্কুমের সামান্য পরিমাণ যদি জাহান্নাম থেকে পৃথিবীতে আসে, পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় তার বিষাক্ততায় বিনষ্ট হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি: ২৫৮৫)

২. দরি
দরি হলো আগুনের একটি গাছের নাম অথবা জাহান্নামের পাথর। এই গাছে বিষাক্ত কাঁটাবিশিষ্ট ফল ধরে থাকবে। খাবার হিসেবে দরি বলা হয় সর্বাধিক কদর্যপূর্ণ কাঁটাযুক্ত শুষ্ক খাবারকে। এটি হবে দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্য ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট আহার্য। এই খাবারে দেহ পুষ্ট হবে না, ক্ষুধাও নিবৃত হবে না এবং অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। ইমাম বুখারি (রহ) মুজাহিদের সূত্রে বলেন, এটি এক ধরণের কাঁটাযুক্ত গাছ এবং এক ধরনের বিষাক্ত আগাছা। ( তাফসিরে ইবনে কাসির: ৮/৩৮৫)

 

এই গাছ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তাদের জন্যে বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত গাছ ছাড়া কোনো খাবার থাকবে না, যা তাদের পরিপুষ্টও করবে না এবং ক্ষুধাও নিবৃত করবে না।’ (সুরা গাশিয়া: ৫-৭)

৩. জা-গুচ্ছাহ
জা-গুচ্ছাহ হলো এমন খাবার, যা কণ্ঠনালিতে আটকে যায়। খাবারটা কদর্যতা, দুর্গন্ধ ও তিক্ততার কারণে আটকে থাকবে। যেখান থেকে কিছু বের হতে পারবে না এবং কোনো কিছু ভেতরেও ঢুকতে পারবে না। এমনভাবে তাদের প্রতি শাস্তি অব্যাহত থাকবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমাদের কাছে আছে শৃঙ্খল ও প্রজ্বলিত বহ্নিশিখা। আর আছে এমন খাদ্য, যা গলায় আটকে যায় এবং যন্ত্রণাদায়ক কঠিন শাস্তি।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল: ১২-১৩)

৪. গিসলিন
গিসলিন মানে রক্ত ও পুঁজ। জাহান্নামিদের শরীরের পচা দুর্গন্ধযুক্ত মাংসকে বা ফোঁড়া থেকে নির্গত পুঁজ ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিকে গিসলিন বলা হয়। কেউ কেউ বলেন, ক্ষত নিঃসৃত স্রাবকে গিসলিন বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, অতএব সেখানে তার কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না এবং কোনো খাদ্য থাকবে না—রক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ ছাড়া। যা শুধুমাত্র অপরাধীরাই ভক্ষণ করবে।’ (সুরা হাক্কাহ: ৩৫-৩৭)

 

জাহান্নামিদের পাঁচ ধরনের পানীয় দেওয়া হবে।
১. হামিম বা উত্তপ্ত ফুটন্ত পানি। (সুরা ওয়াকেয়া: ৫১-৫৬)
২. গাসসাক বা পুঁজমিশ্রিত ফুটন্ত পানি। (সুরা স-দ: ৫৮)
৩. স-দিদ বা ক্ষতস্থান থেকে নির্গত পানি বা গলিত পুঁজ। ( (সুরা ইবরাহিম: ১৬-১৭)
৪. আল-মুহল বা তৈলাক্ত দুর্গন্ধযুক্ত গরম পানি। (সুরা কাহাফ: ২৯)
৫. তিনাতুল খাবাল বা শরীর থেকে নির্গত ঘাম। (সহিহ মুসলিম: ৫৩৩৫)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে, জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি ও বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত দুর্গন্ধ খাবার ও পানীয় থেকে রক্ষা করুন। জান্নাতে যাওয়ার উপযুক্ত আমলগুলো যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।  সূএ: ঢাকা মেইল

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» নারী পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দেশে-বিদেশে দায়িত্ব পালন করছে : শিক্ষামন্ত্রী

» শেখ মনির জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের তিন দিনের কর্মসূচি

» সরকারকে কঠোর হতে বাধ্য করবেন না: বিএনপিকে তথ্য ও  সম্প্রচার মন্ত্রীর

» অস্ত্র-গুলিসহ ৩০ মামলার আসামি গ্রেফতার

» ১৬ সোনারবারসহ এক চোরাকারবারী আটক

» গাইবান্ধা-৫ আসনে উপ-নির্বাচনের তারিখ আগামী সপ্তাহে: সিইসি

» ৫০ কোটি মানুষকে ডিজিটাল আর্থিক সেবার আওতায় আনতে কাজ করবে হুয়াওয়ে

» বায়োলজিক ওষুধের ব্যবহার বাড়াতে সব পর্যায়ে সচেতনতা প্রয়োজন

» বীরগঞ্জে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে ভেড়া বিতরণ

» জুমার নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জাহান্নামের খাবার

পরকালে নেককারদের জান্নাতের বিপরীতে গুনাহগারদের জন্যে রয়েছে জাহান্নাম। গুনাহের পরিমাণ বিবেচনা করে অপরাধীদের পাঠানো হবে জাহান্নামের উপযুক্ত স্তরে। জাহান্নামে যে খাবার দেওয়া হবে তাও এক প্রকার শাস্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

 

জাহান্নামের আগুনের তীব্রতায় তার অধিবাসীদের পিপাসায় বুক ফেটে যাওয়ার উপক্রম হবে। তারা পানির জন্য হাহাকার করবে। তখন তাদের দেওয়া হবে পুঁজমিশ্রিত রক্ত, দুর্গন্ধযুক্ত উত্তপ্ত পানি বা শরীর থেকে নির্গত ঘাম। খাবারের মধ্যে রয়েছে কাঁটাযুক্ত তেতো খাবার, বিষাক্ত কাঁটাবিশিষ্ট ফল, পুঁজমিশ্রিত রক্ত ইত্যাদি।

কোরআন হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী জাহান্নামিদের চার ধরনের খাবার দেওয়া হবে। নিচে সেগুলোর আলোচনা করা হলো।

১. জাক্কুম
জাক্কুম হলো এক ধরনের কাঁটাযুক্ত গাছ। যে গাছে তেতো ফল ধরে। এটি এমন গাছ, যা দুনিয়ায় পাওয়া যায় না। আল্লাহ তাআলা বিভিন্ন শাস্তির মতো এটাকেও সৃষ্টি করবেন। তবে খাবার হিসেবে জাক্কুমের অর্থ হবে তেতো কাঁটাযুক্ত এক ধরনের ভারী খাবার। এটি খাদ্য হিসেবে জাহান্নামিদের দেওয়া হবে। তা জাহান্নামের নিম্নদেশ থেকে উদগত হবে। এর গুচ্ছ হবে শয়তানের মাথার মতো। এটা খেয়ে জাহান্নামিরা তাদের উদর পূর্ণ করবে। আল্লাহ তাআলা জাক্কুম সম্পর্কে বলেন, ‘আপ্যায়নের জন্যে কি এটাই শ্রেষ্ঠ, নাকি জাক্কুম বৃক্ষ? এটি আমরা জালেমদের জন্যে পরীক্ষাস্বরূপ তৈরি করেছি। এ বৃক্ষ উদগত হয় জাহান্নামের তলদেশ থেকে। তার গুচ্ছ যেন শয়তানের মস্তক। অবশ্যই তারা এটা থেকে ভক্ষণ করবে এবং তাদের পেট পূর্ণ করবে।’ (সুরা সাফফাত: ৬২-৬৬)

 

হাদিসে জাক্কুমের ভয়াবহতা সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, ‘ওই জাক্কুমের সামান্য পরিমাণ যদি জাহান্নাম থেকে পৃথিবীতে আসে, পৃথিবীর খাদ্য ও পানীয় তার বিষাক্ততায় বিনষ্ট হয়ে যাবে।’ (তিরমিজি: ২৫৮৫)

২. দরি
দরি হলো আগুনের একটি গাছের নাম অথবা জাহান্নামের পাথর। এই গাছে বিষাক্ত কাঁটাবিশিষ্ট ফল ধরে থাকবে। খাবার হিসেবে দরি বলা হয় সর্বাধিক কদর্যপূর্ণ কাঁটাযুক্ত শুষ্ক খাবারকে। এটি হবে দুর্গন্ধযুক্ত খাদ্য ও অত্যন্ত নিকৃষ্ট আহার্য। এই খাবারে দেহ পুষ্ট হবে না, ক্ষুধাও নিবৃত হবে না এবং অবস্থার কোনো পরিবর্তন হবে না। ইমাম বুখারি (রহ) মুজাহিদের সূত্রে বলেন, এটি এক ধরণের কাঁটাযুক্ত গাছ এবং এক ধরনের বিষাক্ত আগাছা। ( তাফসিরে ইবনে কাসির: ৮/৩৮৫)

 

এই গাছ সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘তাদের জন্যে বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত গাছ ছাড়া কোনো খাবার থাকবে না, যা তাদের পরিপুষ্টও করবে না এবং ক্ষুধাও নিবৃত করবে না।’ (সুরা গাশিয়া: ৫-৭)

৩. জা-গুচ্ছাহ
জা-গুচ্ছাহ হলো এমন খাবার, যা কণ্ঠনালিতে আটকে যায়। খাবারটা কদর্যতা, দুর্গন্ধ ও তিক্ততার কারণে আটকে থাকবে। যেখান থেকে কিছু বের হতে পারবে না এবং কোনো কিছু ভেতরেও ঢুকতে পারবে না। এমনভাবে তাদের প্রতি শাস্তি অব্যাহত থাকবে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমাদের কাছে আছে শৃঙ্খল ও প্রজ্বলিত বহ্নিশিখা। আর আছে এমন খাদ্য, যা গলায় আটকে যায় এবং যন্ত্রণাদায়ক কঠিন শাস্তি।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল: ১২-১৩)

৪. গিসলিন
গিসলিন মানে রক্ত ও পুঁজ। জাহান্নামিদের শরীরের পচা দুর্গন্ধযুক্ত মাংসকে বা ফোঁড়া থেকে নির্গত পুঁজ ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিকে গিসলিন বলা হয়। কেউ কেউ বলেন, ক্ষত নিঃসৃত স্রাবকে গিসলিন বলা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, অতএব সেখানে তার কোনো অন্তরঙ্গ বন্ধু থাকবে না এবং কোনো খাদ্য থাকবে না—রক্ত ও দুর্গন্ধযুক্ত পুঁজ ছাড়া। যা শুধুমাত্র অপরাধীরাই ভক্ষণ করবে।’ (সুরা হাক্কাহ: ৩৫-৩৭)

 

জাহান্নামিদের পাঁচ ধরনের পানীয় দেওয়া হবে।
১. হামিম বা উত্তপ্ত ফুটন্ত পানি। (সুরা ওয়াকেয়া: ৫১-৫৬)
২. গাসসাক বা পুঁজমিশ্রিত ফুটন্ত পানি। (সুরা স-দ: ৫৮)
৩. স-দিদ বা ক্ষতস্থান থেকে নির্গত পানি বা গলিত পুঁজ। ( (সুরা ইবরাহিম: ১৬-১৭)
৪. আল-মুহল বা তৈলাক্ত দুর্গন্ধযুক্ত গরম পানি। (সুরা কাহাফ: ২৯)
৫. তিনাতুল খাবাল বা শরীর থেকে নির্গত ঘাম। (সহিহ মুসলিম: ৫৩৩৫)

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে, জাহান্নামের ভয়াবহ শাস্তি ও বিষাক্ত কাঁটাযুক্ত দুর্গন্ধ খাবার ও পানীয় থেকে রক্ষা করুন। জান্নাতে যাওয়ার উপযুক্ত আমলগুলো যথাযথ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।  সূএ: ঢাকা মেইল

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com