ইয়াবা মাফিয়ারা এখন আইস কারবারে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা অতি সম্প্রতি তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করেছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন মাসওয়া আকবর খান সায়েম। ৩৫ বছর বয়সী সায়েম মূলত একজন পেশাদার ইয়াবা কারবারি। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার করছিলেন।

 

কক্সবাজারও টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান এনে বিক্রি করতেন। নিয়মিত ইয়াবা আনার সুবাদে কিছুদিন আগে তার সঙ্গে এক আইস কারবারির সম্পর্ক হয়। এরপর থেকে ওই কারবারির নানা রকম প্রলোভনে সায়েম নিজেই আইস কারবারে জড়িত হয়। শুধু সায়েম নন।

সারা দেশে আইসের চাহিদা বাড়ায় অনেক ইয়াবা কারবারিরা এখন আইসের ব্যবসা করছেন। চাহিদা ও লাভ বেশি এবং ধরা পড়ার ঝুঁকি কম থাকায় আইসের ব্যবসাতে ঝুঁকে পড়েছেন।

সারা দেশে আইসের কারবারি ও সেবনকারী বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। ভয়ঙ্কর এই মাদক ছড়িয়ে পড়ায় খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের মাথা ব্যথা বেড়েছে। যে পথে ইয়াবা আসতো ওই পথে এখন আসছে আইস। আইসের ব্যাপ্তি যেভাবে বাড়ছে সেভাবে আইস কারবারিদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। কারা এই ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করছে সেটাও জানা সম্ভব হচ্ছে না। বলতে গেলে গডফাদাররা অধরা। গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কিছুদিন পর পর তাদের ব্যবসার ধরন পাল্টান। তারা নতুন নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ে কাজ করেন। এক সময় যেসব কারবারিরা ফেনসিডিল, হেরোইন নিয়ে ব্যবসা করতেন। তারা পরে ইয়াবা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কয়েক বছর ইয়াবা নিয়ে রমরমা ব্যবসাও করেছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইয়াবা সেবনকারী ও ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে। এখন তারাই আবার ইয়াবার কারবার ছেড়ে আইস নিয়ে কাজ করছেন। তবে আইসের কারবারের সঙ্গে যারা জড়িত তারা বড় ধরনের মাফিয়া। কারণ এই মাদকটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ১ কেজি আইসের বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে সবার পক্ষে এই ব্যবসা করাটা কঠিন।

আইস নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), কোস্ট গার্ড, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। বিভিন্ন অভিযানে সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ আইস জব্দ করেছে। আসামি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অনেক সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এদের মধ্যে বিজিবি সবচেয়ে বেশি আইসের চালান জব্দ করেছে। সংস্থাটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই শুধু ১০৫ কোটি টাকার আইস জব্দ করেছে। এরমধ্যে গত ৩০শে জানুয়ারি কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন প্রায় ৯ কেজি আইস উদ্ধার করেছে। এই আইসের বাজারমূল্য ৪৫ কোটি টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা ওইদিন উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখাল কাটা পাহাড় নামক স্থানে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে। তার আস্তানায় তল্লাশি করে ওই আইস উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২০শে জানুয়ারি একই ব্যাটালিয়ন উখিয়ার পালংখালী বাজারে অভিযান চালিয়ে ২৫ কোটি টাকার পাঁচ কেজি আইস উদ্ধার করে।

গোয়েন্দারা বলছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করায় তাদের সঙ্গে ওই দেশের মাদক কারবারিদের ভালো যোগাযোগ রয়েছে। মূলত মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে আইসের ব্যবসা ছড়িয়েছেন। এসব রোহিঙ্গারা এতদিন ইয়াবা ব্যবসা করতো। কিন্তু লাভজনক হওয়াতে নতুন এই ব্যবসায় তারা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মিয়ানমার থেকে যতগুলো চালান দেশে ঢুকে তার প্রত্যকটি চালানের বহনকারী হলো রোহিঙ্গারা। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে চালান দেশে প্রবেশ করে। দেশে প্রবেশের পর চালান চলে যায় রোহিঙ্গা শিবিরের মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে। পরে সেখান থেকে সুযোগ সুবিধামতো দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যায়। তবে চালান একবার রোহিঙ্গা শিবিরে প্রবেশ করতে পারলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।

মাদক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া চালান ধরার কোনো উপায় নাই। যখন মিয়ানমার থেকে চালান বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় তখন একটা চেইন সেখানে কাজ করে। মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ এড়ানোর জন্য চেইনটি কাজ করে। অনেক সময় গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও চালান ধরা সম্ভব হয় না। এই হিসাবে যে পরিমাণ চালান ধরা পড়ছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চালান দেশে ছড়াচ্ছে।

একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছে, আইসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি রাজধানী ঢাকায়। বিদেশ ফেরত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ঢাকায় আইসের আনাগোনা শুরু হয়। মূলত বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা আইস সেবনে ঝুঁকে পড়ে। দেশে আসার সময় তারা কৌশলে সঙ্গে করে আনে আইস। তারপর দেশের বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে দ্রুত এর বিস্তার ও চাহিদা বাড়তে থাকে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একাধিক তদন্তে গোয়েন্দারা ঢাকার নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন। বিভিন্ন অভিযানে ধরাও পড়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। এর বাইরেও বিভিন্ন মহলে আইসের চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন পার্টিতে এখন ইয়াবার পরিবর্তে আইস সেবন করা হয়।

বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. মেহেদি হোসাইন কবির  বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় যাদেরকে গ্রেপ্তার করি তারা হচ্ছে বহনকারী। এদের শতভাগই রোহিঙ্গা। টাকার বিনিময়ে তারা আইস বহন করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বলে তাদের হাতে চালানটি আরেকজন দিয়েছে। এর বাইরে তারা কিছু জানে না। মূল গডফাদাররা কখনো সামনে আসে না। ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ধরা পড়া আইসের গন্তব্য কোথায় সেটাও জানা যায় না। আমাদের সোর্সরাও বেশি তথ্য দিতে চায় না। কারণ তথ্যদাতার নিরাপত্তার বিষয় আছে। বড় জোর কোন পথ দিয়ে চালান প্রবেশ করবে বা কাকে ধরলে পাওয়া যাবে এতটুকু তথ্য দেয়। আইসের চালান আসা বন্ধের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। এক্ষেত্রে সব সংস্থার সমন্বয় দরকার। সবারই আন্তরিকতা দরকার বলে মনে করেন বিজিবির ওই কর্মকর্তা। সূএ:মানবজমিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশের তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

» ১৯১টি অনলাইন নিউজ পোর্টালের লিংক বন্ধে চিঠি

» রাষ্ট্রপতির কাছে সাত দেশের দূতের পরিচয়পত্র পেশ

» আন্দোলন সংগ্রামের নামে জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ হত্যা করাই বিএনপির রাজনীতি : আমু

» বিএনপির রাজনীতি ভুলের চোরাগলিতে আটকে গেছে: ওবায়দুল কাদের

» বেড়েই চলছে ইজিবাইক প্রতিনিয়তই দূর্ঘটনার কবলে পথচারীরা

» বাগেরহাটে ঝিলবুনিয়া দরবার শরীফে মাহফিল বৃহস্পতিবার শুরু

» রবীন্দ্রনাথের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করতে জেলায় জেলায় রবীন্দ্র সম্মেলনের আয়োজন করা দরকার -খাদ্যমন্ত্র

» পাটগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা হত্যার প্রধান আসামি গ্রেফতার

» ১৪৪ রানেই আটকা ঢাকা ডমিনেটর্স

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ইয়াবা মাফিয়ারা এখন আইস কারবারে

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা অতি সম্প্রতি তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করেছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন মাসওয়া আকবর খান সায়েম। ৩৫ বছর বয়সী সায়েম মূলত একজন পেশাদার ইয়াবা কারবারি। দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা কারবার করছিলেন।

 

কক্সবাজারও টেকনাফ থেকে ইয়াবার চালান এনে বিক্রি করতেন। নিয়মিত ইয়াবা আনার সুবাদে কিছুদিন আগে তার সঙ্গে এক আইস কারবারির সম্পর্ক হয়। এরপর থেকে ওই কারবারির নানা রকম প্রলোভনে সায়েম নিজেই আইস কারবারে জড়িত হয়। শুধু সায়েম নন।

সারা দেশে আইসের চাহিদা বাড়ায় অনেক ইয়াবা কারবারিরা এখন আইসের ব্যবসা করছেন। চাহিদা ও লাভ বেশি এবং ধরা পড়ার ঝুঁকি কম থাকায় আইসের ব্যবসাতে ঝুঁকে পড়েছেন।

সারা দেশে আইসের কারবারি ও সেবনকারী বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। ভয়ঙ্কর এই মাদক ছড়িয়ে পড়ায় খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের মাথা ব্যথা বেড়েছে। যে পথে ইয়াবা আসতো ওই পথে এখন আসছে আইস। আইসের ব্যাপ্তি যেভাবে বাড়ছে সেভাবে আইস কারবারিদের শনাক্ত করা যাচ্ছে না। কারা এই ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করছে সেটাও জানা সম্ভব হচ্ছে না। বলতে গেলে গডফাদাররা অধরা। গোয়েন্দা সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, মাদক ব্যবসায়ীরা কিছুদিন পর পর তাদের ব্যবসার ধরন পাল্টান। তারা নতুন নতুন মাদকদ্রব্য নিয়ে কাজ করেন। এক সময় যেসব কারবারিরা ফেনসিডিল, হেরোইন নিয়ে ব্যবসা করতেন। তারা পরে ইয়াবা নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। কয়েক বছর ইয়াবা নিয়ে রমরমা ব্যবসাও করেছেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইয়াবা সেবনকারী ও ব্যবসায়ী তৈরি হয়েছে। এখন তারাই আবার ইয়াবার কারবার ছেড়ে আইস নিয়ে কাজ করছেন। তবে আইসের কারবারের সঙ্গে যারা জড়িত তারা বড় ধরনের মাফিয়া। কারণ এই মাদকটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। ১ কেজি আইসের বাজারমূল্য ৫ কোটি টাকা। সে হিসাবে সবার পক্ষে এই ব্যবসা করাটা কঠিন।

আইস নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), কোস্ট গার্ড, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ও গোয়েন্দা পুলিশও কাজ করছে। বিভিন্ন অভিযানে সংস্থাগুলো বিপুল পরিমাণ আইস জব্দ করেছে। আসামি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অনেক সেবনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে এদের মধ্যে বিজিবি সবচেয়ে বেশি আইসের চালান জব্দ করেছে। সংস্থাটি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসেই শুধু ১০৫ কোটি টাকার আইস জব্দ করেছে। এরমধ্যে গত ৩০শে জানুয়ারি কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন প্রায় ৯ কেজি আইস উদ্ধার করেছে। এই আইসের বাজারমূল্য ৪৫ কোটি টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা ওইদিন উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখাল কাটা পাহাড় নামক স্থানে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেনের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে। তার আস্তানায় তল্লাশি করে ওই আইস উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২০শে জানুয়ারি একই ব্যাটালিয়ন উখিয়ার পালংখালী বাজারে অভিযান চালিয়ে ২৫ কোটি টাকার পাঁচ কেজি আইস উদ্ধার করে।

গোয়েন্দারা বলছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করায় তাদের সঙ্গে ওই দেশের মাদক কারবারিদের ভালো যোগাযোগ রয়েছে। মূলত মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে আইসের ব্যবসা ছড়িয়েছেন। এসব রোহিঙ্গারা এতদিন ইয়াবা ব্যবসা করতো। কিন্তু লাভজনক হওয়াতে নতুন এই ব্যবসায় তারা এখন ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। মিয়ানমার থেকে যতগুলো চালান দেশে ঢুকে তার প্রত্যকটি চালানের বহনকারী হলো রোহিঙ্গারা। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে নানা কৌশলে চালান দেশে প্রবেশ করে। দেশে প্রবেশের পর চালান চলে যায় রোহিঙ্গা শিবিরের মাদক সন্ত্রাসীদের কাছে। পরে সেখান থেকে সুযোগ সুবিধামতো দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যায়। তবে চালান একবার রোহিঙ্গা শিবিরে প্রবেশ করতে পারলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।

মাদক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য ছাড়া চালান ধরার কোনো উপায় নাই। যখন মিয়ানমার থেকে চালান বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় তখন একটা চেইন সেখানে কাজ করে। মূলত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখ এড়ানোর জন্য চেইনটি কাজ করে। অনেক সময় গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও চালান ধরা সম্ভব হয় না। এই হিসাবে যে পরিমাণ চালান ধরা পড়ছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি চালান দেশে ছড়াচ্ছে।

একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছে, আইসের চাহিদা সবচেয়ে বেশি রাজধানী ঢাকায়। বিদেশ ফেরত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ঢাকায় আইসের আনাগোনা শুরু হয়। মূলত বিদেশে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীরা আইস সেবনে ঝুঁকে পড়ে। দেশে আসার সময় তারা কৌশলে সঙ্গে করে আনে আইস। তারপর দেশের বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে দ্রুত এর বিস্তার ও চাহিদা বাড়তে থাকে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একাধিক তদন্তে গোয়েন্দারা ঢাকার নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছেন। বিভিন্ন অভিযানে ধরাও পড়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। এর বাইরেও বিভিন্ন মহলে আইসের চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন পার্টিতে এখন ইয়াবার পরিবর্তে আইস সেবন করা হয়।

বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মো. মেহেদি হোসাইন কবির  বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় যাদেরকে গ্রেপ্তার করি তারা হচ্ছে বহনকারী। এদের শতভাগই রোহিঙ্গা। টাকার বিনিময়ে তারা আইস বহন করে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বলে তাদের হাতে চালানটি আরেকজন দিয়েছে। এর বাইরে তারা কিছু জানে না। মূল গডফাদাররা কখনো সামনে আসে না। ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। ধরা পড়া আইসের গন্তব্য কোথায় সেটাও জানা যায় না। আমাদের সোর্সরাও বেশি তথ্য দিতে চায় না। কারণ তথ্যদাতার নিরাপত্তার বিষয় আছে। বড় জোর কোন পথ দিয়ে চালান প্রবেশ করবে বা কাকে ধরলে পাওয়া যাবে এতটুকু তথ্য দেয়। আইসের চালান আসা বন্ধের জন্য সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার। এক্ষেত্রে সব সংস্থার সমন্বয় দরকার। সবারই আন্তরিকতা দরকার বলে মনে করেন বিজিবির ওই কর্মকর্তা। সূএ:মানবজমিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com