৫০ বছরে প্রথম বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি বাড়াল জাপান

অনলাইন ডেস্ক :বিদেশি নাগরিকদের জন্য আগামী মাস থেকে ভিসা ফি বাড়াবে জাপান। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম ফি বৃদ্ধি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার মন্ত্রিসভা এ পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় এবং ১ জুলাই বা তার পরে জমা দেওয়া ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।

নতুন ফি কাঠামোর আওতায়, একবার প্রবেশের ভিসার খরচ ৩ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বেড়ে ১৫ হাজার জাপানি ইয়েন হবে। অন্যদিকে, একাধিকবার প্রবেশের ভিসার খরচ ৬ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বেড়ে ৩০ হাজার জাপানি ইয়েন হবে।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‌বর্তমান ভিসা ফি ১৯৭৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হারের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে আমরা সম্প্রতি এটি সংশোধন করেছি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিষয় সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমরা মনে করি না যে এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশি পর্যটকের আগমনে কোনো প্রভাব পড়বে।

গত মাসে পার্লামেন্টে অনুমোদিত একটি আইনের পর এই ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওই আইন সরকারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের ফি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সেবা উন্নয়নের ব্যয়ও বেড়েছে। অতিরিক্ত রাজস্ব সেই ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে ‌‘দ্য জাপান টাইমস’।

বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে, আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী আবাসনের আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হবে।

সরকার আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন ও অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ফি আবেদনের ধরন অনুযায়ী ১০ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে ৭০ হাজার জাপানি ইয়েনের মধ্যে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদন ফি ১০ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বেড়ে ২ লাখ জাপানি ইয়েন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘নিপ্পন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের আগেই সরকার এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে চায়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তহবিল অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করবে, জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করবে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করতে সহায়তা করবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

সরকার আরও বলেছে, সংশোধিত ফি কাঠামোর ফলে জাপানের অভিবাসন-সংক্রান্ত ফি অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কারণ, অনেক উন্নত দেশে ভিসা ও আবাসন-সংক্রান্ত আবেদন ফি জাপানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সংসদে বিরোধী দলের সভা অনুষ্ঠিত

» ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরু

» সালমান শাহ হত্যা মামলা: ৫ দিনের রিমান্ডে ডন

» দেশ ও জাতির কল্যাণে নিরপেক্ষভাবে কাজ করবো: রাষ্ট্রপতি

» নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে বহু প্রাণহানি: রাষ্ট্রপতির গভীর শোক

» ১৭ বছর গণতন্ত্রের নামে স্বৈরশাসন চলেছে: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল

» ‘মক্কা প্যাক্টে’ বাংলাদেশ যোগ দিলে কারও শ্বাসকষ্টে ভোগার প্রয়োজন নেই: জামায়াত আমির

» কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিতে ছাত্রদলের শ্রদ্ধা

» বাসের চাপায় মোটরসাইকেল চালকসহ ২জন নিহত

» রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সিইসির নেতৃত্বাধীন ইসির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

৫০ বছরে প্রথম বিদেশি নাগরিকদের ভিসা ফি বাড়াল জাপান

অনলাইন ডেস্ক :বিদেশি নাগরিকদের জন্য আগামী মাস থেকে ভিসা ফি বাড়াবে জাপান। প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে এটিই প্রথম ফি বৃদ্ধি বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। গত শুক্রবার মন্ত্রিসভা এ পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় এবং ১ জুলাই বা তার পরে জমা দেওয়া ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে।

নতুন ফি কাঠামোর আওতায়, একবার প্রবেশের ভিসার খরচ ৩ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বেড়ে ১৫ হাজার জাপানি ইয়েন হবে। অন্যদিকে, একাধিকবার প্রবেশের ভিসার খরচ ৬ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বেড়ে ৩০ হাজার জাপানি ইয়েন হবে।

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি বলেন, ‌বর্তমান ভিসা ফি ১৯৭৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। এরপর থেকে মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হারের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে আমরা সম্প্রতি এটি সংশোধন করেছি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন বিষয় সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আমরা মনে করি না যে এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে বিদেশি পর্যটকের আগমনে কোনো প্রভাব পড়বে।

গত মাসে পার্লামেন্টে অনুমোদিত একটি আইনের পর এই ফি বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ওই আইন সরকারের জন্য অভিবাসন-সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের ফি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।

কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অভিবাসন ব্যবস্থাপনা ও সেবা উন্নয়নের ব্যয়ও বেড়েছে। অতিরিক্ত রাজস্ব সেই ব্যয় মেটাতে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছে ‌‘দ্য জাপান টাইমস’।

বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবে, আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন এবং ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর সঙ্গে সম্পর্কিত ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে স্থায়ী আবাসনের আবেদন ফি-র সর্বোচ্চ সীমাও বাড়ানো হবে।

সরকার আবাসিক মর্যাদা পরিবর্তন ও অবস্থানের মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন ফি আবেদনের ধরন অনুযায়ী ১০ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে ৭০ হাজার জাপানি ইয়েনের মধ্যে নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। স্থায়ী আবাসনের জন্য আবেদন ফি ১০ হাজার জাপানি ইয়েন থেকে বেড়ে ২ লাখ জাপানি ইয়েন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘নিপ্পন’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরের আগেই সরকার এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে চায়।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত তহবিল অভিবাসন আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনায় সহায়তা করবে, জাপানি ভাষা শিক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করবে এবং ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জোরদার করতে সহায়তা করবে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ জাপানে বিদেশি বাসিন্দার সংখ্যা রেকর্ড ৪১ লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছেছে।

সরকার আরও বলেছে, সংশোধিত ফি কাঠামোর ফলে জাপানের অভিবাসন-সংক্রান্ত ফি অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। কারণ, অনেক উন্নত দেশে ভিসা ও আবাসন-সংক্রান্ত আবেদন ফি জাপানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com