নফল রোজা ভেঙে ফেললে বিধান কী

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক : রমজানের ফরজ রোজা ছাড়াও অনেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নফল রোজা রাখেন। তবে মাঝপথে এই রোজা ভেঙে ফেললে বিধান কী? কাজা নাকি কাফফারা- কোনটি আদায় করতে হয়? এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। আসুন বিস্তারিত জেনে নেই।

আমল নষ্ট না করার কোরআনি নির্দেশ

শরিয়তের মূলনীতি হলো- যেকোনো ইবাদত শুরু করলে তা অকারণে নষ্ট না করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের আমলগুলোকে নষ্ট করো না।’ (সুরা মুহাম্মদ: ৩৩) তাই ওজর বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া নফল রোজা ভাঙা অনুচিত।

রোজা ভাঙলে কি কাজা ওয়াজিব?

ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতে, নফল রোজা শুরু করলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। কোনো কারণে তা ভেঙে ফেললে পরবর্তীতে ওই রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রাখা আবশ্যক। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) একদিন নফল রোজা থাকা অবস্থায় খাবার খেয়ে ফেললে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে নির্দেশ দেন, ‘এর পরিবর্তে অন্য একদিন রোজা রেখে তা কাজা করে নাও।’ (তিরমিজি, মেশকাত: ২০৮০)

মেহমানদারির জন্য কি রোজা ভাঙা যাবে?

মেহমান আসার অজুহাতে ঢালাওভাবে নফল রোজা ভাঙা ঠিক নয়। তবে মেহমান আসার পর গৃহকর্তা তার সঙ্গে না খেলে যদি মেহমান কষ্ট পান বা অসন্তুষ্ট হন, তবে তার মন রক্ষার জন্য রোজা ভাঙার অবকাশ আছে। তবে সেই রোজা অবশ্যই পরে কাজা করতে হবে।

কাজা নাকি কাফফারা- কোনটি জরুরি?

মনে রাখা জরুরি, নফল রোজা ভাঙলে শুধু ‘কাজা’ অর্থাৎ ১টি রোজা রাখাই যথেষ্ট। রমজানের ফরজ রোজার মতো এতে টানা ৬০টি রোজা বা ‘কাফফারা’র প্রয়োজন নেই। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪২৮)

ভুলবশত খেলে কি রোজা ভাঙে?

রোজার কথা মনে না থাকায় ভুলবশত কিছু পানাহার করলে রোজা ভাঙবে না। এতে কাজা করারও প্রয়োজন নেই। তবে মনে পড়ার পর বা ইচ্ছাকৃত সামান্য কিছু খেলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

নফল রোজা ঐচ্ছিক ইবাদত হলেও শুরু করার পর তা বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়। তাই ওজর বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া আমল নষ্ট না করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই সচেতনভাবে নফল ইবাদত সম্পন্ন করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরিক্ষত নারী আসনের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

» দলীয় সরকারের অধীনে কখনো ভালো নির্বাচন হয় না : মাসুদ কামাল

» ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উন্নীতকরণের কাজ চলমান

» সূর্য্য উঁকি দিক

» পূর্ব শত্রুতার জেরে যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

» গুচ্ছভুক্ত ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আজ

» গুগল ম্যাপসে যুক্ত হলো ‘Ask Maps’: এখন আপনার ট্যুর গাইড হবে জেমিনি এআই

» নফল রোজা ভেঙে ফেললে বিধান কী

» মামলা খেলেন ‘ধুরন্ধর ২’-এর নির্মাতা

» অভিযান, আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক উদ্ধার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

নফল রোজা ভেঙে ফেললে বিধান কী

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক : রমজানের ফরজ রোজা ছাড়াও অনেকে আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য নফল রোজা রাখেন। তবে মাঝপথে এই রোজা ভেঙে ফেললে বিধান কী? কাজা নাকি কাফফারা- কোনটি আদায় করতে হয়? এ নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। আসুন বিস্তারিত জেনে নেই।

আমল নষ্ট না করার কোরআনি নির্দেশ

শরিয়তের মূলনীতি হলো- যেকোনো ইবাদত শুরু করলে তা অকারণে নষ্ট না করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের আমলগুলোকে নষ্ট করো না।’ (সুরা মুহাম্মদ: ৩৩) তাই ওজর বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া নফল রোজা ভাঙা অনুচিত।

রোজা ভাঙলে কি কাজা ওয়াজিব?

ইমাম আবু হানিফার (রহ.) মতে, নফল রোজা শুরু করলে তা পূর্ণ করা ওয়াজিব। কোনো কারণে তা ভেঙে ফেললে পরবর্তীতে ওই রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রাখা আবশ্যক। উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) একদিন নফল রোজা থাকা অবস্থায় খাবার খেয়ে ফেললে রাসুলুল্লাহ (স.) তাকে নির্দেশ দেন, ‘এর পরিবর্তে অন্য একদিন রোজা রেখে তা কাজা করে নাও।’ (তিরমিজি, মেশকাত: ২০৮০)

মেহমানদারির জন্য কি রোজা ভাঙা যাবে?

মেহমান আসার অজুহাতে ঢালাওভাবে নফল রোজা ভাঙা ঠিক নয়। তবে মেহমান আসার পর গৃহকর্তা তার সঙ্গে না খেলে যদি মেহমান কষ্ট পান বা অসন্তুষ্ট হন, তবে তার মন রক্ষার জন্য রোজা ভাঙার অবকাশ আছে। তবে সেই রোজা অবশ্যই পরে কাজা করতে হবে।

কাজা নাকি কাফফারা- কোনটি জরুরি?

মনে রাখা জরুরি, নফল রোজা ভাঙলে শুধু ‘কাজা’ অর্থাৎ ১টি রোজা রাখাই যথেষ্ট। রমজানের ফরজ রোজার মতো এতে টানা ৬০টি রোজা বা ‘কাফফারা’র প্রয়োজন নেই। (আদ্দুররুল মুখতার: ২/৪২৮)

ভুলবশত খেলে কি রোজা ভাঙে?

রোজার কথা মনে না থাকায় ভুলবশত কিছু পানাহার করলে রোজা ভাঙবে না। এতে কাজা করারও প্রয়োজন নেই। তবে মনে পড়ার পর বা ইচ্ছাকৃত সামান্য কিছু খেলেও রোজা ভেঙে যাবে এবং কাজা করতে হবে।

নফল রোজা ঐচ্ছিক ইবাদত হলেও শুরু করার পর তা বিশেষ মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়। তাই ওজর বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া আমল নষ্ট না করাই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তাই সচেতনভাবে নফল ইবাদত সম্পন্ন করা একজন মুমিনের দায়িত্ব।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com