আগে স্বাবলম্বী ছিলাম, মন্ত্রী হওয়ার পরে অর্থকষ্টে আছি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মন্ত্রিত্ব নাকি খুবই লোভনীয় বিষয়। কিন্তু যারা এ কথা বলেন, তাদের জন্য বলি—এটি হয়তো আগের ঘটনা হতে পারে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মন্ত্রিত্ব কোনো লোভনীয় বিষয় নয়, খুবই কঠিন দায়িত্ব। আমি জাহিদ হোসেন মন্ত্রী হওয়ার আগে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি স্বাবলম্বী ছিলাম। মন্ত্রী হওয়ার পরে বরং অর্থনৈতিকভাবে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি।

তিনি আরও বলেন, ফজরের নামাজের পর সকাল ছয়টা থেকে দৌড় শুরু করতে হয়—কখন প্রস্তুত হবো, কখন অফিসে যাবো, কখন কাজ করবো। রাত দুইটা পর্যন্ত দৌড়ের ওপর থাকতে হয়। কাজেই এটা একটা কঠিন দায়িত্ব, কোনো লোভনীয় বিষয় নয়। মন্ত্রিত্ব এমন কোনো সোনার হরিণও নয়, সোনার বাটিও নয়। কারণ যে কয় টাকা বেতন দেয়, ওই কয় টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। এজন্যই এখন আমি আবার দুই ঘণ্টা করে রোগী দেখা শুরু করেছি। সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে রোগী দেখি, যাতে সংসারটা একটু ভালো চলে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ১০ জনের মধ্যে অনুদানের চেক এবং ৪০০ জনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, যারা বিভিন্ন কথা বলেন, তাদের কাছেও প্রশ্ন আছে—২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পরে, বা ৩৬শে জুলাইয়ের পরে অনেকের চেহারার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। অনেক দামি কাপড়চোপড় পরেন। তাঁদের কাছেও আমাদের জানার আগ্রহ আছে। আমাদের তো আয়কর ফাইল আছে, আপনাদের ট্যাক্স ফাইলটা কত দিন আগে খুলেছেন, ট্যাক্স ফাইলের কী অবস্থা—সেগুলোও আয়নায় চেহারার মতো জনসমক্ষে উপস্থাপন করবেন।’

তিনি বলেন, আমরা কিন্তু সংসদ নির্বাচনের আগে আমাদের ট্যাক্স ফাইলে স্টেটমেন্ট দিয়েছি। সেটা ওয়েবসাইটে গেলেই মানুষ দেখতে পারে। কাজেই যারা স্বৈরাচারের আমল অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান সরকার, জনাব তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা অথবা এই ১০২ দিনের মন্ত্রিত্ব নিয়ে কটাক্ষ করার চেষ্টা করেন, তাঁদের বলব—স্বৈরাচার আর গণতন্ত্র এক নয়। বর্তমান সরকার, মন্ত্রী ও প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারিছ চৌধুরী, হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ অনেকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বন্যা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» বঙ্গোপসাগরে আরেকটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা

» প্রবাসীদের জন্য সুখবর: আরও ৫ দেশে চালু হচ্ছে এনআইডি সেবা

» দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সরকারের প্রধান নীতিগত অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী

» উন্নত বাংলাদেশ গড়তে দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তোলার বিকল্প নেই : রাষ্ট্রপতি

» হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠন শুনানি ৩০ সেপ্টেম্বর

» আজ মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব দোকানপাট ও মার্কেট বন্ধ

» সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন, বিরোধী দলের ওয়াকআউট

» শিশুদের সঙ্গে সেলফি তুলে ক্রীড়া সামগ্রী উপহার দিলেন প্রধানমন্ত্রী

» প্রধানমন্ত্রীর ফোনে বদলে গেলো কেন্দ্র, ৩০ মিনিট বেশি সময় পেলেন পরীক্ষার্থীরা

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আগে স্বাবলম্বী ছিলাম, মন্ত্রী হওয়ার পরে অর্থকষ্টে আছি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, মন্ত্রিত্ব নাকি খুবই লোভনীয় বিষয়। কিন্তু যারা এ কথা বলেন, তাদের জন্য বলি—এটি হয়তো আগের ঘটনা হতে পারে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মন্ত্রিত্ব কোনো লোভনীয় বিষয় নয়, খুবই কঠিন দায়িত্ব। আমি জাহিদ হোসেন মন্ত্রী হওয়ার আগে অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি স্বাবলম্বী ছিলাম। মন্ত্রী হওয়ার পরে বরং অর্থনৈতিকভাবে অনেক কষ্টের মধ্যে আছি।

তিনি আরও বলেন, ফজরের নামাজের পর সকাল ছয়টা থেকে দৌড় শুরু করতে হয়—কখন প্রস্তুত হবো, কখন অফিসে যাবো, কখন কাজ করবো। রাত দুইটা পর্যন্ত দৌড়ের ওপর থাকতে হয়। কাজেই এটা একটা কঠিন দায়িত্ব, কোনো লোভনীয় বিষয় নয়। মন্ত্রিত্ব এমন কোনো সোনার হরিণও নয়, সোনার বাটিও নয়। কারণ যে কয় টাকা বেতন দেয়, ওই কয় টাকা দিয়ে সংসার চালানো কঠিন। এজন্যই এখন আমি আবার দুই ঘণ্টা করে রোগী দেখা শুরু করেছি। সপ্তাহে তিন দিন দুই ঘণ্টা করে রোগী দেখি, যাতে সংসারটা একটু ভালো চলে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলা পরিষদের হলরুমে চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ১০ জনের মধ্যে অনুদানের চেক এবং ৪০০ জনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, যারা বিভিন্ন কথা বলেন, তাদের কাছেও প্রশ্ন আছে—২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পরে, বা ৩৬শে জুলাইয়ের পরে অনেকের চেহারার মধ্যে অনেক পরিবর্তন এসেছে। অনেক দামি কাপড়চোপড় পরেন। তাঁদের কাছেও আমাদের জানার আগ্রহ আছে। আমাদের তো আয়কর ফাইল আছে, আপনাদের ট্যাক্স ফাইলটা কত দিন আগে খুলেছেন, ট্যাক্স ফাইলের কী অবস্থা—সেগুলোও আয়নায় চেহারার মতো জনসমক্ষে উপস্থাপন করবেন।’

তিনি বলেন, আমরা কিন্তু সংসদ নির্বাচনের আগে আমাদের ট্যাক্স ফাইলে স্টেটমেন্ট দিয়েছি। সেটা ওয়েবসাইটে গেলেই মানুষ দেখতে পারে। কাজেই যারা স্বৈরাচারের আমল অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে বর্তমান সরকার, জনাব তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা অথবা এই ১০২ দিনের মন্ত্রিত্ব নিয়ে কটাক্ষ করার চেষ্টা করেন, তাঁদের বলব—স্বৈরাচার আর গণতন্ত্র এক নয়। বর্তমান সরকার, মন্ত্রী ও প্রশাসন জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। কারণ, তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত ও দায়িত্বপ্রাপ্ত।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) তানজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরামপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হারিছ চৌধুরী, হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুদ রানা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেনসহ অনেকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com