ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ প্রচেষ্টায় বাংলাদেশিদের মৃত্যুর জন্য দায়ী মানবপাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
রবিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই অমানবিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করাই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান। মানবপাচারকারীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে।
কর্মকর্তারা জানান, সর্বশেষ লিবিয়া থেকে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে গ্রিসে পৌঁছার চেষ্টাকালে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের সঙ্গে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একাধিক দেশের সংশ্লিষ্টদের জড়িত পাচারচক্র মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অভিবাসীদের ইউরোপে নেওয়ার কথা বলে। কিন্তু তাদের জীবনসংকটাপন্ন যাত্রার মুখে ঠেলে দেয়।
শামা ওবায়েদ জানান, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে, বিশেষ করে গ্রিসে, নিয়মিত যোগাযোগ রেখে ভুক্তভোগী ও জীবিতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে।
তিনি বলেন, আমাদের মিশনগুলো সার্বক্ষণিক কাজ করছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে।
কর্মকর্তাদের মতে, জীবিতদের হাসপাতাল ও আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তাদের পরিচয় যাচাই এবং দেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এখন অগ্রাধিকার। জাতীয়তা নির্বিশেষে সব অপরাধীকেই আইনের আওতায় আনতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য অভিবাসীরা যে অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তা উদ্বেগজনক-তারা পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় ছাড়া ছয় থেকে সাতদিন সাগরে কাটিয়েছেন, যার ফলে বহু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।
বিশ্বব্যাপী আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, এ ধরনের অপরাধচক্র ধ্বংস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর প্রাণহানি না ঘটে। তিনি এ কর্মকাণ্ডকে ‘মানব মর্যাদার গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কর্মকর্তারা জানান, গ্রিস ও লিবিয়ায় বাংলাদেশের মিশনের মাধ্যমে উদ্ধার, পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠাতে সমন্বিত প্রচেষ্টা চলছে। সূত্র : বাসস








