ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেছেন, এবারের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন পত্রিকা, টেলিভিশন ও মিডিয়ায় যে আলোচনা অনুষ্ঠানগুলো হয়েছে, সেগুলো দেখে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। তার পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, অনেক অনুষ্ঠানে স্বাধীনতার সঙ্গে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম—বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সচেতনভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। বরং বেশির ভাগ আলোচনা ঘুরে গেছে জিয়াউর রহমানের অবদান এবং তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দিকে। সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংবিধানে যদি কোনো পরিবর্তন আনা হয়, তবে তা যেন ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীলভাবে করা হয়।
ইতিহাস পরিবর্তনের চেষ্টা ভবিষ্যতে নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলের এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কারো মনোযোগ আকর্ষণ বা সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যেই হয়তো এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে কখনো বলেননি যে তার পিতাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে; বরং তিনি বলেছেন, ইতিহাসে যার যা প্রাপ্য, তাকে সেই সম্মান দেওয়া উচিত।
এই প্রেক্ষাপটে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা আক্তারের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরে মাসুদ কামাল তার প্রশংসা করেন। স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে খাদিজা আক্তার জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ক্ষুব্ধ হন। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তিনি সংবিধান অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করেন এবং সংবিধানে যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটাই তিনি অনুসরণ করেছেন। এই পেশাদারি ও সংবিধান মেনে চলার মানসিকতাকে তিনি প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন।
মাসুদ কামাল বলেন, সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাই এই বিষয়টি অস্বীকার করা বা উপেক্ষা করা সংবিধানের পরিপন্থী।
তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধ ছিল একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। বঙ্গবন্ধু ছিলেন মহানায়ক, কিন্তু তাজউদ্দীন আহমদ, জেনারেল ওসমানী, জিয়াউর রহমানসহ অনেকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কারো অবদান অস্বীকার করা যেমন ভুল, তেমনি একজনকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে অন্যদের উপেক্ষা করাও ঠিক নয়।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক কে—এই বিতর্কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। দেশ স্বাধীন হয়েছে, সেটাই বড় কথা। বরং ইতিহাসকে বিকৃত না করে, সবার অবদান যথাযথভাবেই মূল্যায়ন করা উচিত।









