আহত মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে মুখ খুলল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়ে সম্ভবত অক্ষম হয়ে পড়েছেন—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময় মোজতবা খামেনি আহত হন।

হামলায় মোজতবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রথম দিন বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও মা, স্ত্রীসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন স্বজনকে হারান মোজতবা। তার পর থেকে তার কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার প্রথম বিবৃতি দেন মোজতবা, তবে সেটা লিখিত। টেলিভিশনে একজন উপস্থাপক ওই বিবৃতি পড়ে শোনান।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সংকল্পের কথা বলেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বান জানান, নয়তো তারা ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা জানি, তথাকথিত—ততটা সর্বোচ্চ নন—নতুন নেতা আহত এবং সম্ভবত অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তিনি গতকাল একটি বিবৃতি দিয়েছেন। আসলে এটি একটি দুর্বল বিবৃতি ছিল, সেখানে কোনো কণ্ঠস্বর বা ভিডিও ছিল না। এটি শুধু একটি লিখিত বিবৃতি ছিল।’

চরম ইরানবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত হেগসেথ আরও বলেন, ‘ইরানের কাছে অনেক ক্যামেরা ও ভয়েস রেকর্ডার আছে। তাহলে কেন শুধু লিখিত বিবৃতি? আমার মনে হয়, তার কারণ আপনি জানেন। তাঁর বাবা মারা গেছেন। তিনি ভীত, আহত, তিনি লুকিয়ে আছেন এবং তাঁর বৈধতা নেই।’

ইরানের পক্ষ থেকেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। গত বুধবার একজন ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, মোজতবা খামেনি সামান্য আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার জাপানে ইরানের রাষ্ট্রদূত পেইমান সাদাত বলেন, মোজতবা খামেনি ‘কার্যক্ষমতা হারাননি’।

আসাহি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদাত আরও বলেন, ‘আমরা যা জানি, তা হলো চলমান যুদ্ধে যখন আমার সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়, তখন তিনি আহত হয়েছেন। তবে তার (মোজতবা খামেনি) আঘাত এতটাও গুরুতর নয় যে তাকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে বিরত রাখবে। তিনি একজন কার্যকর নেতা। তাই সৌভাগ্যক্রমে, কোনো কিছুই অকার্যকর হয়নি। এ কারণেই তারা বর্তমান নেতাকে নির্বাচিত করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারা বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং নৌবাহিনী ধ্বংস করার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ইসরায়েলের প্রতি অনুগত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে কোনো দয়া দেখাবে না।

হেগসেথ বলেন, ‘আমরা চাপ সৃষ্টি করে যাব, অগ্রসর হব এবং লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের শত্রুর প্রতি কোনো ছাড় (নো কোয়ার্টার) বা দয়া থাকবে না।’

‘নো কোয়ার্টার’ অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তাঁকে প্রাণে বাঁচাতে অস্বীকার করা। এটি আইনত নিষিদ্ধ।

গত প্রায় ১৪ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছয় হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় প্রায় দুই হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি গেলেন মামুনুল হক

» সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকলে রাজপথে নামবে জামায়াত

» সংসদ প্রাঙ্গণে গাছ লাগালেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার

» ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

» আহত মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে মুখ খুলল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

» মালয়েশিয়ায় মাহসা ক্যাম্পাসে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইফতার আয়োজন

» ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেফতার

» ঈদের আগে-পরে ট্রাক-কাভার্ডভ্যান চলাচল বন্ধ থাকবে : ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার

» ঈদে শিক্ষার্থীদের বাড়ি পৌঁছে দিতে ছেড়ে গেল জবির ৯ বাস

» প্রতিবেশী দেশে হামলা না করতে ইরানের প্রতি হামাসের আহ্বান

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আহত মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে মুখ খুলল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়ে সম্ভবত অক্ষম হয়ে পড়েছেন—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার সময় মোজতবা খামেনি আহত হন।

হামলায় মোজতবার বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর তাকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রথম দিন বাবা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছাড়াও মা, স্ত্রীসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন স্বজনকে হারান মোজতবা। তার পর থেকে তার কোনো ছবি প্রকাশ করা হয়নি। সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার প্রথম বিবৃতি দেন মোজতবা, তবে সেটা লিখিত। টেলিভিশনে একজন উপস্থাপক ওই বিবৃতি পড়ে শোনান।

বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার সংকল্পের কথা বলেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ করার আহ্বান জানান, নয়তো তারা ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেগসেথ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা জানি, তথাকথিত—ততটা সর্বোচ্চ নন—নতুন নেতা আহত এবং সম্ভবত অক্ষম হয়ে পড়েছেন। তিনি গতকাল একটি বিবৃতি দিয়েছেন। আসলে এটি একটি দুর্বল বিবৃতি ছিল, সেখানে কোনো কণ্ঠস্বর বা ভিডিও ছিল না। এটি শুধু একটি লিখিত বিবৃতি ছিল।’

চরম ইরানবিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত হেগসেথ আরও বলেন, ‘ইরানের কাছে অনেক ক্যামেরা ও ভয়েস রেকর্ডার আছে। তাহলে কেন শুধু লিখিত বিবৃতি? আমার মনে হয়, তার কারণ আপনি জানেন। তাঁর বাবা মারা গেছেন। তিনি ভীত, আহত, তিনি লুকিয়ে আছেন এবং তাঁর বৈধতা নেই।’

ইরানের পক্ষ থেকেও নতুন সর্বোচ্চ নেতা আহত হওয়ার খবর জানানো হয়েছে। গত বুধবার একজন ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, মোজতবা খামেনি সামান্য আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার জাপানে ইরানের রাষ্ট্রদূত পেইমান সাদাত বলেন, মোজতবা খামেনি ‘কার্যক্ষমতা হারাননি’।

আসাহি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদাত আরও বলেন, ‘আমরা যা জানি, তা হলো চলমান যুদ্ধে যখন আমার সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করা হয়, তখন তিনি আহত হয়েছেন। তবে তার (মোজতবা খামেনি) আঘাত এতটাও গুরুতর নয় যে তাকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দেওয়া থেকে বিরত রাখবে। তিনি একজন কার্যকর নেতা। তাই সৌভাগ্যক্রমে, কোনো কিছুই অকার্যকর হয়নি। এ কারণেই তারা বর্তমান নেতাকে নির্বাচিত করেছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের সঙ্গে জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তারা বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং নৌবাহিনী ধ্বংস করার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ইসরায়েলের প্রতি অনুগত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে কোনো দয়া দেখাবে না।

হেগসেথ বলেন, ‘আমরা চাপ সৃষ্টি করে যাব, অগ্রসর হব এবং লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের শত্রুর প্রতি কোনো ছাড় (নো কোয়ার্টার) বা দয়া থাকবে না।’

‘নো কোয়ার্টার’ অর্থ হলো কোনো ব্যক্তি আত্মসমর্পণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও তাঁকে প্রাণে বাঁচাতে অস্বীকার করা। এটি আইনত নিষিদ্ধ।

গত প্রায় ১৪ দিনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছয় হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। হামলায় প্রায় দুই হাজার ইরানি নিহত হয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com