পোলাওয়ের চাল-গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে

রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে। এখনই নিত্যপণ্যের বাজারে ঈদের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পোলাওয়ের চাল, চিনি, গুঁড়া দুধ, আদাসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

 

তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। কমেছে পেঁয়াজ, রসুন, ফার্মের ডিমসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম। অন্যদিকে দাম কমলেও এখনো ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, বৌ-বাজারসহ বেশকিছু বাজারে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

 

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে যেকোনো ব্রান্ডের পোলাওয়ের চালের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে খোলা চালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় চিনি, গুঁড়া দুধ ও আদার দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। আর প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে।

 

দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের আদার দামই বেড়েছে। দেশি আদা ৫-১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশি আদা ৯০-১০০ ও বিদেশি আদা ১১০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে। দোকানিদের দাবি, এক সপ্তাহের ব্যবধানে গুঁড়া দুধ কেজিতে অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে।

আর লিটার প্রতি ৮ টাকা কমানো হলেও বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। অধিকাংশ দোকানেই মিলছে না কিংবা খুব কমা পাওয়া যাচ্ছে সয়াবিন তেল।

 

রামপুরা বাজারের দোকানদার মাহিম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে অধিকাংশ পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আগে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনেক অফার কিংবা ডিসকাউন্ট পাওয়া যেতে। বর্তমানে এসব বন্ধ। আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বাজারে দেশি ও আমদানি উভয় পেঁয়াজের দামই কমেছে। মানভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। গত সপ্তাহে যা ছিল ৩৫ টাকা। দেশি রসুন ৬০-৭০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিক্রেতা উজ্জ্বল বলেন, পেঁয়াজের পাইকারি দর ১৮ থেকে ২২ টাকা। খুচরা পর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি করছি। বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে গত বেশকিছু ধরেই পেঁয়াজের দাম কম।

 

এদিকে রোজার আগে ডিমের ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকা থাকলেও রোজা শুরুর পর থেকে ডিমের দাম কমতে শুরু করে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১০৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ব্রয়লার মুরগির দামও। ১০-১৫ টাকা দাম কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা কেজিতে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনালী ও লেয়ার মুরগি। সোনালী ৩০০-৩২০ ও লেয়ারের কেজি ২৪৫-২৫৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য সময়ে তুলনায় রোজায় ডিমের চাহিদা কমে যায়। বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট দিনেও বন্ধ থাকে, বিস্কুট ও রুটির ব্যবহার নেই বললেই চলে। তাছাড়া সামাজিক অনুষ্ঠান কমে গেছে। ফলে ডিমের চাহিদা কম, তাই দামও কম।

 

আর কাঁচাবাজারে লম্বা বেগুন এখনও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শিম ১০০ ও কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ২৫-৩৫ টাকা, শসা ৩০-৪০ ও গাজর ৫০-৬০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে ক্রেতা বৌ-বাজারের বাসিন্দা জুবায়ের বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকারের কঠোর নজরদারি নেই বলে মনে হয়। জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। একবার বাড়লে কমতে চায় না। এভাবে টিকে থাকা আমাদের মতো নিন্ম মধ্যবিত্তের খুবই কষ্টকর

সূএ:ঢাকা পোস্ট ডটকম

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিএনপি ছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন পেছাতে : রুমিন ফারহানা

» ক্ষমতায় এলে প্রথমে গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করা হবে : সালাহউদ্দিন

» বিশেষ অভিযানে মোট ১ হাজার ৫১৫ জন গ্রেফতার

» আ.লীগ ও জাপার হামলায় আহত রাশেদ খান, নেওয়া হলো হাসপাতালে

» ওসমান হাদীর পোস্টে সারজিস লিখলেন, ‘এ লড়াই আপনার একার নয়’

» গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

» দেশের মানুষ পেশিশক্তির রাজনীতি আর দেখতে চায় না : তাসনিম জারা

» নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে এবি পার্টির কড়া অভিযোগ

» চীনকে যতটা উন্নত ভাবি তার চেয়েও অনেক বেশি উন্নত: সারজিস

» বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে উৎসবমুখর বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা)আসন    

  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

পোলাওয়ের চাল-গুঁড়া দুধের দাম বেড়েছে

রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহ চলছে। এখনই নিত্যপণ্যের বাজারে ঈদের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পোলাওয়ের চাল, চিনি, গুঁড়া দুধ, আদাসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।

 

তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। কমেছে পেঁয়াজ, রসুন, ফার্মের ডিমসহ বেশ কিছু পণ্যের দাম। অন্যদিকে দাম কমলেও এখনো ভোজ্য তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি বলে জানা গেছে।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মগবাজার, বৌ-বাজারসহ বেশকিছু বাজারে নিত্যপণ্যের দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

 

বিক্রেতারা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে যেকোনো ব্রান্ডের পোলাওয়ের চালের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে খোলা চালের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে। চাহিদা বেশি থাকায় চিনি, গুঁড়া দুধ ও আদার দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ৭৮ থেকে ৮০ টাকায়। আর প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা কেজি দরে।

 

দেশি ও বিদেশি দুই ধরনের আদার দামই বেড়েছে। দেশি আদা ৫-১০ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে দেশি আদা ৯০-১০০ ও বিদেশি আদা ১১০-১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে।

প্যাকেটজাত গুঁড়া দুধের দামও বেড়েছে। বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজিতে। দোকানিদের দাবি, এক সপ্তাহের ব্যবধানে গুঁড়া দুধ কেজিতে অন্তত ২০ টাকা বেড়েছে।

আর লিটার প্রতি ৮ টাকা কমানো হলেও বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। অধিকাংশ দোকানেই মিলছে না কিংবা খুব কমা পাওয়া যাচ্ছে সয়াবিন তেল।

 

রামপুরা বাজারের দোকানদার মাহিম বলেন, ঈদকে সামনে রেখে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে অধিকাংশ পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আগে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অনেক অফার কিংবা ডিসকাউন্ট পাওয়া যেতে। বর্তমানে এসব বন্ধ। আমাদের মতো ছোট ব্যবসায়ীদের বাজারে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

বাজারে দেশি ও আমদানি উভয় পেঁয়াজের দামই কমেছে। মানভেদে ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। গত সপ্তাহে যা ছিল ৩৫ টাকা। দেশি রসুন ৬০-৭০ টাকা ও আমদানি করা রসুন ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বিক্রেতা উজ্জ্বল বলেন, পেঁয়াজের পাইকারি দর ১৮ থেকে ২২ টাকা। খুচরা পর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকা বিক্রি করছি। বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্যে গত বেশকিছু ধরেই পেঁয়াজের দাম কম।

 

এদিকে রোজার আগে ডিমের ডজন ১১৫ থেকে ১২০ টাকা থাকলেও রোজা শুরুর পর থেকে ডিমের দাম কমতে শুরু করে। খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১০৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে। কমেছে ব্রয়লার মুরগির দামও। ১০-১৫ টাকা দাম কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকা কেজিতে। তবে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে সোনালী ও লেয়ার মুরগি। সোনালী ৩০০-৩২০ ও লেয়ারের কেজি ২৪৫-২৫৫ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, অন্যান্য সময়ে তুলনায় রোজায় ডিমের চাহিদা কমে যায়। বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট দিনেও বন্ধ থাকে, বিস্কুট ও রুটির ব্যবহার নেই বললেই চলে। তাছাড়া সামাজিক অনুষ্ঠান কমে গেছে। ফলে ডিমের চাহিদা কম, তাই দামও কম।

 

আর কাঁচাবাজারে লম্বা বেগুন এখনও ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শিম ১০০ ও কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। টমেটো ২৫-৩৫ টাকা, শসা ৩০-৪০ ও গাজর ৫০-৬০টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে ক্রেতা বৌ-বাজারের বাসিন্দা জুবায়ের বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকারের কঠোর নজরদারি নেই বলে মনে হয়। জিনিসপত্রের দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। একবার বাড়লে কমতে চায় না। এভাবে টিকে থাকা আমাদের মতো নিন্ম মধ্যবিত্তের খুবই কষ্টকর

সূএ:ঢাকা পোস্ট ডটকম

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Design & Developed BY ThemesBazar.Com