প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হত্যার পরিকল্পনা জেলেনস্কির

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটাতে এবং আলোচনার টেবিলে রাশিয়াকে দুর্বল করতে এক নতুন ও আক্রমণাত্মক রণকৌশল ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে তিনি জানান, ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোর মূল লক্ষ্য হবে প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে রণক্ষেত্রে নির্মূল করা। জেলেনস্কির মতে, এই সংখ্যাটি এমন একটি পর্যায়ে থাকা উচিত যা রাশিয়ার মাসিক নতুন সেনা নিয়োগের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে, যাতে ক্রেমলিন শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়।

জেলেনস্কি আরও জানান, গত বছরের শেষ মাসগুলোতে রুশ বাহিনীর ক্ষতির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তবে যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য এই সংখ্যাকে মাসে ৫০ হাজারে উন্নীত করাকে ‘সেরা মাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২২ সালে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছেন, যদিও স্বতন্ত্র কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংখ্যার পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইউক্রেনের এই রণকৌশলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ড্রোন প্রযুক্তি। জেলেনস্কি জানান, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুর ৮০ শতাংশই ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এই সক্ষমতা বাড়াতে এবং উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে তিনি সম্প্রতি মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যিনি ড্রোন উদ্ভাবনে বিশেষজ্ঞ। ড্রোন অপারেটরদের উৎসাহিত করতে এবং নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সেনাবাহিনীতে বিশেষ ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ এবং আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

এদিকে, রণক্ষেত্রে এমন লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকাগুলোতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উপর্যুপরি হামলার ফলে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে, আবুধাবিতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনো কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, কেবল ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সময় শেষ, বরং রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন একমাত্র পথ।

সূত্র: আলজাজিরা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গোলাপি আভায় জয়া আহসানের জাদু

» নির্বাচনে প্রশাসন নিরপেক্ষতা হারালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে

» আমরা কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার দেখতে চাই না : জামায়াত আমির

» ডেভিল হান্ট ফেইজ-২অভিযান পরিচালনা করে মোট ১১ জন গ্রেফতার

» বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি, এটি আপনারা দেখে রাখবেন: নেতা-কর্মীদের তারেক রহমান

» আ. লীগ ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্বেগজনক: আসিফ মাহমুদ

» আমাদের দেশকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ৫৪ বছর ধরে ষড়যন্ত্র করছে: নাহিদ ইসলাম

» বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সবাই বিনামূল্যে ইন্টারনেট পাবে: মাহদী আমিন

» জামায়াত নেতা তাহের মুসলিম বিশ্বের তরুণদের আইডল: সাদিক কায়েম

» খুব বিপদে আছি, কোথাও গেলে এক পাশে যুবদল দাঁড়ায়, আরেক পাশে ছাত্রদল: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

প্রতি মাসে ৫০ হাজার রুশ সেনা হত্যার পরিকল্পনা জেলেনস্কির

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধের অচলাবস্থা কাটাতে এবং আলোচনার টেবিলে রাশিয়াকে দুর্বল করতে এক নতুন ও আক্রমণাত্মক রণকৌশল ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

সম্প্রতি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে এক বৈঠকে তিনি জানান, ইউক্রেনীয় ইউনিটগুলোর মূল লক্ষ্য হবে প্রতি মাসে অন্তত ৫০ হাজার রুশ সেনাকে রণক্ষেত্রে নির্মূল করা। জেলেনস্কির মতে, এই সংখ্যাটি এমন একটি পর্যায়ে থাকা উচিত যা রাশিয়ার মাসিক নতুন সেনা নিয়োগের সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে, যাতে ক্রেমলিন শেষ পর্যন্ত পিছু হটতে বাধ্য হয়।

জেলেনস্কি আরও জানান, গত বছরের শেষ মাসগুলোতে রুশ বাহিনীর ক্ষতির পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ভিডিও বিশ্লেষণের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই প্রায় ৩৫ হাজার রুশ সেনা নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন, যা আগের মাসগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। তবে যুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের জন্য এই সংখ্যাকে মাসে ৫০ হাজারে উন্নীত করাকে ‘সেরা মাত্রা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

ইউক্রেনীয় বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২২ সালে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত রাশিয়ার প্রায় ১২ লাখ সেনা হতাহত হয়েছেন, যদিও স্বতন্ত্র কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা এই সংখ্যার পূর্ণ সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।

ইউক্রেনের এই রণকৌশলের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ড্রোন প্রযুক্তি। জেলেনস্কি জানান, বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে লক্ষ্যবস্তুর ৮০ শতাংশই ড্রোন দিয়ে আঘাত করা হচ্ছে। এই সক্ষমতা বাড়াতে এবং উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে তিনি সম্প্রতি মিখাইলো ফেদোরভকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যিনি ড্রোন উদ্ভাবনে বিশেষজ্ঞ। ড্রোন অপারেটরদের উৎসাহিত করতে এবং নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে সেনাবাহিনীতে বিশেষ ‘পয়েন্ট সিস্টেম’ এবং আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।

এদিকে, রণক্ষেত্রে এমন লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকাগুলোতে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে উপর্যুপরি হামলার ফলে কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরের লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে, আবুধাবিতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনো কোনো সুফল বয়ে আনতে পারেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতা সত্ত্বেও দোনেৎস্ক অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। এমন পরিস্থিতিতে জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, কেবল ন্যাটোর ওপর নির্ভর করে বসে থাকার সময় শেষ, বরং রাশিয়ার আগ্রাসন রুখতে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলাই এখন একমাত্র পথ।

সূত্র: আলজাজিরা

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com