ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের জলসীমায় আটকে পড়া ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে রকেট হামলায় নিহত থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুরের মৃতদেহ রোমানিয়া থেকে তুরস্কের ইস্তানবুল হয়ে গতকাল রোববার ঢাকায় আসার কথা ছিল; কিন্তু ইস্তানবুলে প্রচুর তুষারপাতের কারণে মৃতদেহটি বহন করা তুরস্কের ওই বিমান আর ইস্তানবুল ছেড়ে উড়তে পারেনি।
মৃতদেহটি সোমবার ঢাকায় আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। গত দুদিনে মৃতদেহটি ইউক্রেন থেকে মলদোভা হয়ে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। রোমানিয়া থেকে তুরস্কের ইস্তানবুল হয়ে মৃতদেহটি দেশে ফিরছে। যুদ্ধের মধ্যে একাধিক দেশের সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মৃতদেহটি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দেশে আনার ব্যবস্থা করেছেন ঢাকার কূটনীতিকরা। এর আগে ওই জাহাজের ২৮ জন নাবিক গত বুধবার ঢাকায় পৌঁছেন।
রোমানিয়ার বুখারেস্টে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, সব ঠিক থাকলে আজ সোমবার হাদিসুরের মৃতদেহ ঢাকায় পৌঁছবে। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপদে মৃতদেহটি দেশে আনতে কিছুটা সময় লেগেছে।
‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ নামে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের জাহাজটি গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর জলসীমায় নোঙর করে। পরদিন রাশিয়ার হামলা শুরু হলে জাহাজটি আটকা পড়ে। এর আগে গত ২৬ জানুয়ারি জাহাজটি ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে যাত্রা করে তুরস্কের ইরেগলি হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। গত ২ মার্চ ওই জাহাজে রকেট হামলা হয় এবং জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার নিহত হন।
জাহাজটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় অলভিয়া বন্দরে আছে। এ ঘটনায় গত ৩ মার্চ ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাস শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে। ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের বিবৃতি প্রকাশের একদিন পর রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে রাশিয়া এই রকেট হামলার ঘটনা উদঘাটনে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার কথা বলেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড এ কে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘বাংলাদেশের জাহাজে কারা রকেট হামলা করেছে তা আমরা এখনও জানি না। তবে রাশিয়া বলেছে, তারা এই হামলার ঘটনা তদন্ত করে আমাদের জানাবে।’