ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর রয়েছে এবং যাত্রীরা নির্বিঘ্নে যাতায়াত করছেন বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, সেতু, রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
ঢাকার স্থানীয় পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। “গতকাল নবীনগর ও বাইপাইলে ১০০ টাকা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। চিটাগং রোডেও কয়েকটি পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,” যোগ করেন তিনি।
বুধবার রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “সবাই নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে। বরং দু-একটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০-৩০ টাকা কম নিচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক।”
মন্ত্রী আরও বলেন, যাত্রীদের সেবায় গাবতলীসহ বিভিন্ন টার্মিনালে পুলিশ কন্ট্রোল রুম, ভিজিল্যান্স টিম এবং র্যাবের কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট টাঙানো হয়েছে। কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে যাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে কন্ট্রোল রুমে অভিযোগ করতে পারবেন এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নিতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, “পুলিশ কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বাসগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা কোনো হয়রানির শিকার হচ্ছেন না।”
ঈদযাত্রায় জ্বালানি সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ১৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। “কোথাও কোনো জ্বালানির ঘাটতি নেই। তারপরও কেউ সমস্যায় পড়লে আমাদের হেল্পলাইন ১৬১০৭ কিংবা পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জানাতে পারবেন,” বলেন তিনি। এসময় তিনি আরও জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী গতকাল যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ হাজার বেশি যানবাহন চলাচল করেছে, যা ঈদযাত্রার চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
অবৈধ বাস কাউন্টার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “যত্রতত্র কাউন্টার খোলার কোনো সুযোগ নেই। ঈদের পর নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং জোরদার করা হবে।” এসময় তিনি বাস মালিকদের নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও কাউন্টার না খোলার আহ্বান জানান।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠন সমন্বিতভাবে কাজ করছে জানিয়ে সড়ক মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা সার্বক্ষণিক টিম প্রস্তুত রেখেছি। যে কোনো অনিয়ম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। যানজট পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ভোরে চন্দ্রা এলাকায় সামান্য যানজট সৃষ্টি হলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে সব রুটে স্বাভাবিক ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশে যান চলাচল করছে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বিআরটিসির গাবতলী বাস ডিপো পরিদর্শন করেন এবং ঈদ উপলক্ষে ‘বিআরটিসি ঈদ স্পেশাল সার্ভিস ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন। পরে তিনি আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হকসহ পরিবহন মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।








