ফ্যাসিবাদী আমলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনী করে ফেলা হয় : রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক : বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার, আধুনিক এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনর্গঠন, অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি এ ভাষণ দেন।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৫ সালে ৭৯১ জনকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে, ৮,০১১ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। একই বছরে কনস্টেবল হতে এসআই পর্যন্ত বিভিন্ন পদে সর্বমোট ৩ হাজার ৫৬০ জন সদস্যকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার পুলিশে আরও ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেবে। একই সঙ্গে পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্যপদে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে। দেশে কারাগার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পাঁচটি নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, ‘১৬১৯১’ কল সেন্টার, ডিজিটাল বন্দি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে ঘরে-বাইরে শান্তি, স্বস্তি এবং নিরাপত্তা বোধ করেন এটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে বর্তমান সরকার অনলাইন জুয়াসহ সকল ধরনের জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকে চিহ্নিত করেছে। ফলে জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান চলবে। এ ছাড়া চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহ এবং কোস্ট গার্ড ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অসুস্থ মির্জা আব্বাসকে হাসপাতালে দেখতে গেলেন জামায়াত আমীর

» চুপ্পুর পদত্যাগ আন্দোলনের সময় বিএনপি বলেছিল ‘সময় প্রয়োজন’: নাসীরুদ্দীন

» ‘সেই সময়ে কি জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি হয়নি’, নাহিদকে প্রশ্ন হামিমের

» ‘জামায়াত-এনসিপির হটকারিতার জন্য আ.লীগ ফিরে আসবে’: রাশেদ খান

» ফ্যাসিবাদের দোসর সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সুস্পষ্ট: সাদিক কায়েম

» কোনো দল স্বৈরাচারের পথে হাঁটতে চাইলে তাদের প্রতিরোধ করব: সারজিস

» এই সংসদে ফ্যাসিস্টের দোসর, খুনির কোনো দোসর যেন বক্তব্য রাখতে না পারে: জামায়াত আমির

» বর্তমান বাংলাদেশে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে: প্রতিমন্ত্রী নুর

» জীবিতের চেয়ে প্রয়াত খালেদা জিয়া আরও বেশি শক্তিশালী : পার্থ

» বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনই জুলাই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধের উপায়: জোনায়েদ সাকি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ফ্যাসিবাদী আমলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনী করে ফেলা হয় : রাষ্ট্রপতি

অনলাইন ডেস্ক : বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।তিনি বলেন, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। বর্তমান সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সম্পূর্ণ পেশাদার, আধুনিক এবং দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, পুলিশের নৈতিক মনোবল পুনর্গঠন, অনলাইন অভিযোগ দায়ের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ পুনঃনিরীক্ষণ করা হবে।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। সংবিধান অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি এ ভাষণ দেন।

ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৫ সালে ৭৯১ জনকে সাব-ইন্সপেক্টর পদে, ৮,০১১ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ করা হয়েছে। একই বছরে কনস্টেবল হতে এসআই পর্যন্ত বিভিন্ন পদে সর্বমোট ৩ হাজার ৫৬০ জন সদস্যকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বর্তমান সরকার পুলিশে আরও ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১০ হাজার নতুন কনস্টেবল নিয়োগ দেবে। একই সঙ্গে পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্যপদে নিয়োগ চূড়ান্ত করবে। দেশে কারাগার ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে পাঁচটি নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, ‘১৬১৯১’ কল সেন্টার, ডিজিটাল বন্দি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলার উন্নয়ন বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। দেশের প্রতিটি নাগরিক যাতে ঘরে-বাইরে শান্তি, স্বস্তি এবং নিরাপত্তা বোধ করেন এটি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই সরকার সকল কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে বর্তমান সরকার অনলাইন জুয়াসহ সকল ধরনের জুয়া এবং মাদকের বিস্তারকে চিহ্নিত করেছে। ফলে জুয়া এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে বর্তমান সরকার সারাদেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা উদ্ধার এবং অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান চলবে। এ ছাড়া চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্টসমূহ এবং কোস্ট গার্ড ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com