ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ফিলিস্তিনের যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পুনর্গঠনের লক্ষ্যে গঠিত ‘শান্তি পরিষদ’-এর প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ১০ বিলিয়ন ডলার অনুদান ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে শান্তি পরিষদের আড়ালে গাজায় ৩৫০ একরের সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনার নথি ফাঁস করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) নথির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর’ (আইএসএফ) সামরিক অপারেশনের কাজে ব্যবহৃত হবে ঘাঁটিটি।
গণমাধ্যমটির পর্যালোচিত নথি অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার সেনাসদস্যের জন্য ৩৫০ একর জায়গাজুড়ে এই ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে।
নথিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী-আইএসএফ এর জন্য এটি একটি অপারেশনাল বেস হিসেবে কাজ করবে। যা শান্তি পরিষদের অধীনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে পরিচালিত হবে।
নথিতে ধাপে ধাপে একটি সামরিক আউটপোস্ট নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যার চূড়ান্ত আয়তন হবে দৈর্ঘে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার ও প্রস্থে ১ হাজার ১০০ মিটার।
কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা থাকবে পুরো ঘাঁটি। এতে থাকবে ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার, ছোট অস্ত্র প্রশিক্ষণ রেঞ্জ, বাঙ্কার ও সামরিক সরঞ্জাম রাখার গুদাম।
ঘাঁটির জন্য দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতল এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নথিতে ৬ মিটার লম্বা, ৪ মিটার প্রস্থ ও আড়াই উচ্চতার বাঙ্কার নির্মাণের কথা বলা হয়েছে। যেখানে উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা থাকবে, যেন যুদ্ধাবস্থায় সেনারা আশ্রয় নিতে পারে।
পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, যুদ্ধাঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে, এমন কয়েকটি আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিকে ইতোমধ্যে গাজায় সরেজমিন পরিদর্শনে নেওয়া হয়েছে।
নথিতে ভূগর্ভস্থ ফাঁকা স্থান বা সুড়ঙ্গ শনাক্তে জরিপ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গার্ডিয়ান বলছে, গাজাজুড়ে হামাসের বিস্তৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে নথিতে।
নথির একটি অংশে ‘মানব দেহাবশেষ প্রোটোকল’-এর বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের সময় মানবদেহাবশেষ বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে কাজ বন্ধ রাখতে হবে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার তথ্য মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে।
ঘাঁটির জন্য নির্ধারিত জমির মালিকানা স্পষ্ট নয়। তবে দক্ষিণ গাজার বড় অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে।
এ ব্যাপারে ফিলিস্তিনি-কানাডীয় আইনজীবী ডায়ানা বুত্তু গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘ফিলিস্তিনি সরকারের অনুমতি ছাড়া তাদের ভূখণ্ডে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ দখলদারত্বের শামিল।’ এ সামরিক ঘাঁটি নির্মাণে তারা কার অনুমতি নিয়েছে, এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তাদের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের আলোচনার অধিকাংশই হয় এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ সিগন্যালে, সরকারি ইমেইলে নয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা। তবে তিনি গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘মার্কিন সেনা গাজার মাটিতে নামবে না বলে জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ফাঁস হওয়া কোনো নথি নিয়ে আমরা আলোচনা করব না।’








