ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ভোট গণনার সময় এজেন্ট পরিবর্তন, ফলাফলে ওভাররাইটিং এবং ব্যালট ডিজাইনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে ভোট বাতিলের অভিযোগ তুলে ফল পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী মামুনুল হক। তিনি দাবি করেন, এসব অনিয়মের কারণে তার আসনে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে এবং পুনর্গণনা হলে ফল উল্টে যেতে পারে।
শনিবার ইসিতে এসে এক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সারাদিন দায়িত্ব পালন করা পোলিং এজেন্টদের ভোট গণনার সময় আইনবহির্ভূতভাবে একজনকে সরিয়ে অন্য এজেন্ট ঢোকানো হয়েছে। ‘অনেক আসনে আমাদের পোলিং এজেন্টদের বের করে দিয়ে কিংবা স্বাক্ষর ছাড়াই একতরফাভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে,’ অভিযোগ করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশিত ফলাফলের একাধিক শিটে নির্দিষ্ট একটি প্রার্থীর ভোটের ঘরে ওভাররাইটিং ও সংখ্যা কাটাছেঁড়া দেখা গেছে। ‘একই জায়গায় ওভাররাইটিং—একটি প্রার্থীর ভোট বাড়ানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে তা করা হয়েছে।
ব্যালট পেপারের নকশা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তার দাবি, নয়জন প্রার্থী থাকায় ব্যালটে দুটি কলাম করা হয়—একটিতে পাঁচজন, অন্যটিতে চারজন। এতে প্রথম কলামের শেষ সারির বিপরীতে দ্বিতীয় কলামের ঘর খালি থাকায় অনেক ভোটার বিভ্রান্ত হয়ে ভুল স্থানে সিল মারেন। ‘এই কারণে প্রতিটি কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোট বাতিল হয়েছে। আমাদের হিসাবে বাতিল ভোট ৪ হাজার ৩৮১টি, আর ব্যবধান মাত্র ২ হাজার ৩২০ ভোট।
তিনি আরও দাবি করেন, বাতিল হওয়া ভোটের ৮০ শতাংশের বেশি তার প্রতীকে পড়েছিল বলে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মির্জা আব্বাসের ঢাকা-৮ আসনের উদাহরণ টেনে বলেন, একই ধরনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন নাকি সংশ্লিষ্ট প্রতীকের পক্ষে গণনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন বক্তব্য গণমাধ্যমে এসেছে।
মামুনুল হক বলেন, ভোটারের অভিপ্রায় শনাক্ত করা গেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ঘরেই ভোট গণনা করার বিধান রয়েছে। ‘ওভাররাইটিং ও বাতিল ভোট—দুটো একসঙ্গে হিসাব করলে প্রায় পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধান আমার পক্ষে আসতে পারে।
তিনি জানান, ফল ঘোষণার রাতেই নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।








