আমরা কি সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছি

ছবি সংগৃহীত

 

জিল্লুর রহমান :১. নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ঢাকার কথাবার্তা আর কূটনীতির সূক্ষ্ম সুর

ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এলেই আলোচনার একটা ঢেউ ওঠে। কেউ খুব আশাবাদী হয়ে ওঠেন, কেউ আবার আগেভাগেই সন্দেহের দেয়াল তুলে দেন। বাস্তবে রাষ্ট্রদূত মানে শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি সময়, একটি প্রেক্ষাপট, একটি আন্তর্জাতিক বাস্তবতা।

বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই এক ধরনের সংবেদনশীল ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে-রাজনৈতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, মানবাধিকার ইস্যু, ভ্রমণ এবং বাণিজ্য। এখানে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আমলাদের ভাষা-ভঙ্গি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা শুধু কাগজে নাম লেখায় না, বাস্তবে সম্পর্কের আবহ তৈরি করে।

ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এখন ঢাকায়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই কথাবার্তায় চোখে পড়েছে একটি বিষয়-মেপে কথা বলা, কিন্তু কথার ভিতরে স্পষ্টতা রাখা। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নেয় না; নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক ও সার্বভৌম অধিকার। কথাটা শুনতে সাধারণ মনে হলেও, বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে এ বক্তব্যের আলাদা গুরুত্ব আছে।

কূটনৈতিক ভাষা অনেক সময় সুচিন্তিত, নির্মিত এবং কাঠামোগত হয়। কিন্তু যেখানে ভাষণ এতটাই প্রকাশ্য এবং ব্যাপক-সেখানে সেই ভাষণ নিজের মধ্যে একটা মানুষ দেখার দরজা রাখে। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের কথাগুলোতে সেই দরজাটা খোলা দেখা গেছে-যেখানে কোনো আগ্রাসন নেই, কিন্তু স্পষ্ট প্রত্যাশা আছে; কোনো অহংকার নেই, কিন্তু বোঝাপড়ার দাবি আছে।

মার্কিন সিনেটে তাঁর মনোনয়ন শুনানিতে তিনি বাংলাদেশকে ‘দশকের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন’-এর মুখোমুখি দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বাক্যটি কোনো নির্দেশ নয়, কোনো হুমকিও নয়। এটি একটি বাস্তবতার স্বীকৃতি-যে বাস্তবতায় এ নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্ন নয়, বরং আস্থা, বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

ক্রিস্টেনসেন নতুন কেউ নন। তিনি আগেও ঢাকায় কাজ করেছেন। এই শহর, এই দেশ দেখেছেন। এখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির জটিলতা বোঝেন। ফলে তাঁর কথায় অতিরিক্ত নীতিকথা নেই, আবার কূটনৈতিক শীতলতাও নেই। আছে এক ধরনের বাস্তববাদ-যা কূটনীতির জন্য জরুরি।

একই সঙ্গে ক্রিস্টেনসেন এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে চান। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো আদর্শগত দ্বন্দ্ব নয়, বরং একটি বাস্তব কৌশলগত প্রশ্ন-যেখানে নিরাপত্তা, সহযোগিতা এবং শক্তির ভারসাম্য একসঙ্গে খেলায় আসে। বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার ভিতরে বাংলাদেশ কীভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে, সেটাই এখানে মূল কথা।

এ বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি চোখে পড়ে না। বাজারে গেলে চালের দাম বাড়ে বা কমে-তার সঙ্গে চীনের প্রভাবের সম্পর্ক তৎক্ষণাৎ বোঝা যায় না। কিন্তু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চেতনায় এর প্রতিফলন গভীর। কোন অবকাঠামো প্রকল্প হবে, কার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়বে, কোন দেশের কূটনৈতিক ভাষা বেশি প্রভাব ফেলবে-এসব সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের নীতি ও জনগণের ভবিষ্যৎ দুটোই প্রভাবিত করে।

বাংলাদেশ অতীতে বহুবার বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলেছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা আগের মতো স্থির নয়। এখানে নিরপেক্ষতা মানে নীরবতা নয়, বরং সচেতন নির্বাচন। নতুন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই মনে করিয়ে দেয়-কূটনীতি এখন আর শুধু ভদ্রতার ভাষা নয়, এটি স্পষ্ট অবস্থানের ভাষাও।

২. সংখ্যালঘু অধিকার : বিচ্ছিন্ন খবর নয়, ধারাবাহিক সংকেত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব খবর এসেছে, সেগুলো আলাদা আলাদা করে পড়লে বিচ্ছিন্ন মনে হতে পারে। কোথাও উত্তেজনা, কোথাও হামলা, কোথাও ভীতি। কিন্তু একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়-এগুলো একটি বড় সামাজিক প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত করছে।

সিজিএসের একাধিক আলোচনায় বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই গণতন্ত্র সম্ভব নয়। কথাটা শুনতে নীতিকথার মতো হলেও বাস্তবতা অনেক কঠিন। কারণ গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষমতা নয়, এটি সংখ্যালঘুর নিরাপত্তার পরীক্ষাও।

বাংলাদেশে সামষ্টিক পরিচয় অনেক সময় বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলোর সংগ্রামের মাধ্যমে সামনে আসে-ধর্ম, ভাষা, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক শ্রেণি। এসব পরিচয় যখন সঠিকভাবে বোঝাপড়া করতে শেখে না, তখন সহাবস্থান দুর্বল হয়। যেসব ঘটনা ঘটে-সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে খবর হয়। কিন্তু ভিতরে ঘরোয়া বাস্তবতা হিসেবে একটি পারস্পরিক সহাবস্থানের সংকট উঁকি দেয়।

বাংলাদেশের সমাজ ঐতিহাসিকভাবে বহুত্ববাদী। কিন্তু বহুত্ববাদ টিকে থাকে শুধু ইতিহাসে নয়, দৈনন্দিন চর্চায়। যখন সংখ্যালঘু নাগরিকরা নিজেদের অনিরাপদ মনে করেন, তখন সেটা শুধু তাদের সমস্যা থাকে না, সমগ্র সমাজের আস্থার ভিত নড়ে যায়।

এ জায়গায় সমস্যাটা কেবল আইনশৃঙ্খলার নয়। সমস্যাটা রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ভাষা নিয়ে। কোনো ঘটনার পর রাষ্ট্র যদি দেরিতে কথা বলে, অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলে বা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়-তাহলে গুজব শক্তিশালী হয়, ভয় ছড়ায়।

সংখ্যালঘু অধিকার শুধু একটি নীতিগত নির্দেশনা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি নয়-এটা একটি সমাজের মানবিক অভিজ্ঞতার অংশ। যখন সমাজ একটি ছোট অংশকে নিরাপত্তাহীন বোধ করাতে শুরু করে, তখন সেটাই বড় অংশের জন্যও ভয়, অনিশ্চয়তা আর দেয়ালের মতো বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর যখন সেই অনুভূতি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়-সেটা কেবল সংখ্যা বা নীতির প্রশ্ন নয়; সেটা মূল্যবোধ, ন্যায়ের ধারণা, সহানুভূতিরও জায়গা। এটি আমাদের সমাজের ‘মানবিক নিরাপত্তা’।

আমরা অনেক সময় বলে থাকি-ধর্মীয় সহাবস্থান বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আছে। এটা সত্য। কিন্তু স্থিতিশীল সহাবস্থান শুধু ইতিহাস নয়; এটা কার্যকর ন্যায়ের মাধ্যমে, বাস্তব নিরাপত্তার অনুভূতির মাধ্যমে তৈরি হয়। আর সেই অনুভূতিটি তৈরি করতে হলে রাষ্ট্রের কঠোর, নিরপেক্ষ এবং মানবিক প্রতিশ্রুতি দরকার-যা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে দেখার মতো হয়।

সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কথা বলা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর, সংবেদনশীল বা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হতে পারে। কিন্তু গণতন্ত্রে সংবেদনশীলতা মানে এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং এ বিষয়গুলোতেই রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পষ্ট, দৃঢ় ও মানবিক অবস্থান প্রয়োজন।

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা আসলে রাষ্ট্রের শক্তির সূচক। যে রাষ্ট্র তার দুর্বলতম নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে পারে, সেই রাষ্ট্রই সত্যিকারের শক্তিশালী।

৩. ক্রিকেট, বিশ্বকাপ আর একটি অপ্রয়োজনীয় আত্মসংকোচন

বাংলাদেশ ক্রিকেট খেললে দেশ এক হয়-এটা বহুবার প্রমাণিত। জয় বা হার বড় কথা নয়; মাঠে নামাটাই মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি আমার কাছে ভালো সিদ্ধান্ত মনে হয়নি।

খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, আবার কেবল কূটনীতিও নয়। এটি মানুষের আবেগ, পরিচয় ও আত্মবিশ্বাসের জায়গা।

সরকার যখন এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা হয়তো নিরাপত্তা বা পরিস্থিতির কথা ভাবে। কিন্তু তারা কি ভেবেছে-মানুষ কী হারাচ্ছে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাঠে থাকলে মানুষ কিছু সময়ের জন্য হলেও রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে যায়। খেলা মানুষকে একত্র করে, আশা দেয়, একটি সামষ্টিক অনুভূতি তৈরি করে। সেই জায়গা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া মানে শুধু একটি টুর্নামেন্ট মিস করা নয়-এটা মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের একটি মানসিক সংযোগ দুর্বল করা।

আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় অংশগ্রহণ কেবল জয়ের প্রশ্ন নয়, উপস্থিতির প্রশ্ন। আমরা জিতি বা হারি-দুটোই আমাদের গল্পের অংশ। কিন্তু না খেললে গল্পটাই অনুপস্থিত থাকে। এই সময়ে বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও দৃশ্যমান হওয়া, আরও আত্মবিশ্বাসী হওয়া-নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া নয়।

ক্রিকেট মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের মনস্তত্ত্বে একটি সংকোচন তৈরি করে-যা কোনো দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।

৪. ফাহমিদা, পথচলা আর সম্পর্কের নীরব যত্ন

দুই দিন আগে আমাদের বিয়ের ২৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই সময়টা কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যাপনের সংখ্যা নয়-এটা একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠার গল্প।

মানুষ সম্পর্ককে প্রায়ই রোমান্টিক মুহূর্তে আটকে রাখে। বাস্তবে সম্পর্ক গড়ে ওঠে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তে-কে কাকে মন দিয়ে শুনছে, কে কখন চুপ থাকছে, কে কখন পাশে দাঁড়াচ্ছে।

একজন একবার বলেছিলেন-মানুষ শুধু একে অপরকে চায় না; মানুষ চায় বোঝা ও বোঝাপড়ার নিশ্চয়তা। সম্পর্কের এই বোঝাপড়া কখনই একবারে আসে না; এটা সময়, আস্থা, ধৈর্যের সমন্বয়ে তৈরি হয়।

আমরা বিশেষ গানগুলো শুনি-যেমন “Stand by Me”-এটা শুধু একটি গানের কথা নয়; এটি সম্পর্কের এক অনন্ত প্রতিশ্রুতি :

“When the night has come
And the land is dark
And the moon is the only light we’ll see
No, I won’t be afraid
Oh, I won’t be afraid
Just as long as you stand, stand by me”

এটা একটা প্রেমের গান নয়; এটা একটা সম্পর্ক-দর্শন।

দাম্পত্য মানে সব সময় একমত থাকা নয়। বরং মতভেদের মধ্যেও থাকা। সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়, অগ্রাধিকার বদলায়, সম্পর্কও বদলায়। টিকে থাকে তখনই, যখন দুজনেই সেই পরিবর্তনকে জায়গা দেয়।

সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু রাগ নয়, বরং অবহেলা। কথা বলা বন্ধ হয়ে গেলে দূরত্ব তৈরি হয়। আর সেই দূরত্ব খুব নিঃশব্দে বাড়ে।

দীর্ঘ সম্পর্ক টিকে থাকে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, ছোট ছোট যত্ন দিয়ে। নিয়মিত উপস্থিত থাকা, পরস্পরের ক্লান্তি বোঝা, একে অপরকে সময় দেওয়া-এসবই সম্পর্কের নীরব ভিত্তি।

শেষ কথা

এ সপ্তাহের চতুর্মাত্রার চারটি প্রসঙ্গ-কূটনীতি, সংখ্যালঘু অধিকার, ক্রিকেট আর দাম্পত্য-আলাদা মনে হলেও আসলে একই জায়গায় এসে মিলে যায়।

সবখানেই প্রশ্ন একটাই :

আমরা কি সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছি?

রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক, সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে সংখ্যালঘুর সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক-সবখানেই যত্ন দরকার।

যত্ন না থাকলে সম্পর্ক ভাঙে।

আর ভাঙা সম্পর্ক দিয়ে কোনো রাষ্ট্র, কোনো সমাজ, কোনো পরিবার টেকে না।

লেখক : প্রেসিডেন্ট, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ।

সূএ: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» পুকুর পাড়ে হলুদ শাড়িতে ভাবনা

» জুলাই সনদ জনগণের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর একটি চুক্তি : আলী রীয়াজ

» ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই স্কুলছাত্র নিহত

» এগারো দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে হাদি হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করব: আসিফ মাহমুদ

» আমরা কি সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছি

» দেশে ফিরতে চায় মালয়েশিয়া প্রবাসী অসুস্থ সালাউদ্দিন

» বিএনপি প্রতিপক্ষের সঙ্গে বিবাদে যাবে না : মির্জা আব্বাস

» জন্মদিনে ফেসবুকপোস্ট দেশে আমার সব সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে: মির্জা ফখরুল

» শীর্ষ সন্ত্রাসী সুজন ও তার এক সহযোগীকে বিদেশি রিভলবার ও গুলিসহ গ্রেফতার

» কুরিয়ার ভ্যানে বিস্ফোরক ও অবৈধ ভারতীয় মালামালসহ ২জন গ্রেফতার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আমরা কি সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছি

ছবি সংগৃহীত

 

জিল্লুর রহমান :১. নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, ঢাকার কথাবার্তা আর কূটনীতির সূক্ষ্ম সুর

ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত এলেই আলোচনার একটা ঢেউ ওঠে। কেউ খুব আশাবাদী হয়ে ওঠেন, কেউ আবার আগেভাগেই সন্দেহের দেয়াল তুলে দেন। বাস্তবে রাষ্ট্রদূত মানে শুধু একজন ব্যক্তি নন, একটি সময়, একটি প্রেক্ষাপট, একটি আন্তর্জাতিক বাস্তবতা।

বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক অনেক ক্ষেত্রেই এক ধরনের সংবেদনশীল ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে-রাজনৈতিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক, মানবাধিকার ইস্যু, ভ্রমণ এবং বাণিজ্য। এখানে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, আমলাদের ভাষা-ভঙ্গি ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা শুধু কাগজে নাম লেখায় না, বাস্তবে সম্পর্কের আবহ তৈরি করে।

ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এখন ঢাকায়। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই কথাবার্তায় চোখে পড়েছে একটি বিষয়-মেপে কথা বলা, কিন্তু কথার ভিতরে স্পষ্টতা রাখা। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো রাজনৈতিক পক্ষ নেয় না; নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক ও সার্বভৌম অধিকার। কথাটা শুনতে সাধারণ মনে হলেও, বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে এ বক্তব্যের আলাদা গুরুত্ব আছে।

কূটনৈতিক ভাষা অনেক সময় সুচিন্তিত, নির্মিত এবং কাঠামোগত হয়। কিন্তু যেখানে ভাষণ এতটাই প্রকাশ্য এবং ব্যাপক-সেখানে সেই ভাষণ নিজের মধ্যে একটা মানুষ দেখার দরজা রাখে। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের কথাগুলোতে সেই দরজাটা খোলা দেখা গেছে-যেখানে কোনো আগ্রাসন নেই, কিন্তু স্পষ্ট প্রত্যাশা আছে; কোনো অহংকার নেই, কিন্তু বোঝাপড়ার দাবি আছে।

মার্কিন সিনেটে তাঁর মনোনয়ন শুনানিতে তিনি বাংলাদেশকে ‘দশকের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন’-এর মুখোমুখি দেশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বাক্যটি কোনো নির্দেশ নয়, কোনো হুমকিও নয়। এটি একটি বাস্তবতার স্বীকৃতি-যে বাস্তবতায় এ নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রশ্ন নয়, বরং আস্থা, বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

ক্রিস্টেনসেন নতুন কেউ নন। তিনি আগেও ঢাকায় কাজ করেছেন। এই শহর, এই দেশ দেখেছেন। এখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির জটিলতা বোঝেন। ফলে তাঁর কথায় অতিরিক্ত নীতিকথা নেই, আবার কূটনৈতিক শীতলতাও নেই। আছে এক ধরনের বাস্তববাদ-যা কূটনীতির জন্য জরুরি।

একই সঙ্গে ক্রিস্টেনসেন এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে চান। তাঁর ভাষায়, এটি কোনো আদর্শগত দ্বন্দ্ব নয়, বরং একটি বাস্তব কৌশলগত প্রশ্ন-যেখানে নিরাপত্তা, সহযোগিতা এবং শক্তির ভারসাম্য একসঙ্গে খেলায় আসে। বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার ভিতরে বাংলাদেশ কীভাবে নিজের স্বার্থ রক্ষা করবে, সেটাই এখানে মূল কথা।

এ বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি চোখে পড়ে না। বাজারে গেলে চালের দাম বাড়ে বা কমে-তার সঙ্গে চীনের প্রভাবের সম্পর্ক তৎক্ষণাৎ বোঝা যায় না। কিন্তু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চেতনায় এর প্রতিফলন গভীর। কোন অবকাঠামো প্রকল্প হবে, কার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়বে, কোন দেশের কূটনৈতিক ভাষা বেশি প্রভাব ফেলবে-এসব সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের নীতি ও জনগণের ভবিষ্যৎ দুটোই প্রভাবিত করে।

বাংলাদেশ অতীতে বহুবার বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রেখে চলেছে। কিন্তু বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা আগের মতো স্থির নয়। এখানে নিরপেক্ষতা মানে নীরবতা নয়, বরং সচেতন নির্বাচন। নতুন রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই মনে করিয়ে দেয়-কূটনীতি এখন আর শুধু ভদ্রতার ভাষা নয়, এটি স্পষ্ট অবস্থানের ভাষাও।

২. সংখ্যালঘু অধিকার : বিচ্ছিন্ন খবর নয়, ধারাবাহিক সংকেত

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে যেসব খবর এসেছে, সেগুলো আলাদা আলাদা করে পড়লে বিচ্ছিন্ন মনে হতে পারে। কোথাও উত্তেজনা, কোথাও হামলা, কোথাও ভীতি। কিন্তু একসঙ্গে দেখলে বোঝা যায়-এগুলো একটি বড় সামাজিক প্রশ্নের দিকে ইঙ্গিত করছে।

সিজিএসের একাধিক আলোচনায় বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই গণতন্ত্র সম্ভব নয়। কথাটা শুনতে নীতিকথার মতো হলেও বাস্তবতা অনেক কঠিন। কারণ গণতন্ত্র শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের ক্ষমতা নয়, এটি সংখ্যালঘুর নিরাপত্তার পরীক্ষাও।

বাংলাদেশে সামষ্টিক পরিচয় অনেক সময় বিচ্ছিন্ন শক্তিগুলোর সংগ্রামের মাধ্যমে সামনে আসে-ধর্ম, ভাষা, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সামাজিক শ্রেণি। এসব পরিচয় যখন সঠিকভাবে বোঝাপড়া করতে শেখে না, তখন সহাবস্থান দুর্বল হয়। যেসব ঘটনা ঘটে-সেগুলো বিচ্ছিন্নভাবে খবর হয়। কিন্তু ভিতরে ঘরোয়া বাস্তবতা হিসেবে একটি পারস্পরিক সহাবস্থানের সংকট উঁকি দেয়।

বাংলাদেশের সমাজ ঐতিহাসিকভাবে বহুত্ববাদী। কিন্তু বহুত্ববাদ টিকে থাকে শুধু ইতিহাসে নয়, দৈনন্দিন চর্চায়। যখন সংখ্যালঘু নাগরিকরা নিজেদের অনিরাপদ মনে করেন, তখন সেটা শুধু তাদের সমস্যা থাকে না, সমগ্র সমাজের আস্থার ভিত নড়ে যায়।

এ জায়গায় সমস্যাটা কেবল আইনশৃঙ্খলার নয়। সমস্যাটা রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার ভাষা নিয়ে। কোনো ঘটনার পর রাষ্ট্র যদি দেরিতে কথা বলে, অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলে বা বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়-তাহলে গুজব শক্তিশালী হয়, ভয় ছড়ায়।

সংখ্যালঘু অধিকার শুধু একটি নীতিগত নির্দেশনা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি নয়-এটা একটি সমাজের মানবিক অভিজ্ঞতার অংশ। যখন সমাজ একটি ছোট অংশকে নিরাপত্তাহীন বোধ করাতে শুরু করে, তখন সেটাই বড় অংশের জন্যও ভয়, অনিশ্চয়তা আর দেয়ালের মতো বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আর যখন সেই অনুভূতি রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়-সেটা কেবল সংখ্যা বা নীতির প্রশ্ন নয়; সেটা মূল্যবোধ, ন্যায়ের ধারণা, সহানুভূতিরও জায়গা। এটি আমাদের সমাজের ‘মানবিক নিরাপত্তা’।

আমরা অনেক সময় বলে থাকি-ধর্মীয় সহাবস্থান বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে আছে। এটা সত্য। কিন্তু স্থিতিশীল সহাবস্থান শুধু ইতিহাস নয়; এটা কার্যকর ন্যায়ের মাধ্যমে, বাস্তব নিরাপত্তার অনুভূতির মাধ্যমে তৈরি হয়। আর সেই অনুভূতিটি তৈরি করতে হলে রাষ্ট্রের কঠোর, নিরপেক্ষ এবং মানবিক প্রতিশ্রুতি দরকার-যা শুধু কাগজে নয়, বাস্তবে দেখার মতো হয়।

সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কথা বলা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর, সংবেদনশীল বা রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হতে পারে। কিন্তু গণতন্ত্রে সংবেদনশীলতা মানে এড়িয়ে যাওয়া নয়। বরং এ বিষয়গুলোতেই রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পষ্ট, দৃঢ় ও মানবিক অবস্থান প্রয়োজন।

সংখ্যালঘু নিরাপত্তা আসলে রাষ্ট্রের শক্তির সূচক। যে রাষ্ট্র তার দুর্বলতম নাগরিককে নিরাপত্তা দিতে পারে, সেই রাষ্ট্রই সত্যিকারের শক্তিশালী।

৩. ক্রিকেট, বিশ্বকাপ আর একটি অপ্রয়োজনীয় আত্মসংকোচন

বাংলাদেশ ক্রিকেট খেললে দেশ এক হয়-এটা বহুবার প্রমাণিত। জয় বা হার বড় কথা নয়; মাঠে নামাটাই মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সেই জায়গা থেকে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্তটি আমার কাছে ভালো সিদ্ধান্ত মনে হয়নি।

খেলাধুলা কেবল বিনোদন নয়, আবার কেবল কূটনীতিও নয়। এটি মানুষের আবেগ, পরিচয় ও আত্মবিশ্বাসের জায়গা।

সরকার যখন এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা হয়তো নিরাপত্তা বা পরিস্থিতির কথা ভাবে। কিন্তু তারা কি ভেবেছে-মানুষ কী হারাচ্ছে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাঠে থাকলে মানুষ কিছু সময়ের জন্য হলেও রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে যায়। খেলা মানুষকে একত্র করে, আশা দেয়, একটি সামষ্টিক অনুভূতি তৈরি করে। সেই জায়গা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া মানে শুধু একটি টুর্নামেন্ট মিস করা নয়-এটা মানুষের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের একটি মানসিক সংযোগ দুর্বল করা।

আন্তর্জাতিক খেলাধুলায় অংশগ্রহণ কেবল জয়ের প্রশ্ন নয়, উপস্থিতির প্রশ্ন। আমরা জিতি বা হারি-দুটোই আমাদের গল্পের অংশ। কিন্তু না খেললে গল্পটাই অনুপস্থিত থাকে। এই সময়ে বাংলাদেশের প্রয়োজন আরও দৃশ্যমান হওয়া, আরও আত্মবিশ্বাসী হওয়া-নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া নয়।

ক্রিকেট মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ মনে হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি আমাদের মনস্তত্ত্বে একটি সংকোচন তৈরি করে-যা কোনো দেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।

৪. ফাহমিদা, পথচলা আর সম্পর্কের নীরব যত্ন

দুই দিন আগে আমাদের বিয়ের ২৪ বছর পূর্ণ হয়েছে। এই সময়টা কোনো আনুষ্ঠানিক উদ্যাপনের সংখ্যা নয়-এটা একসঙ্গে বড় হয়ে ওঠার গল্প।

মানুষ সম্পর্ককে প্রায়ই রোমান্টিক মুহূর্তে আটকে রাখে। বাস্তবে সম্পর্ক গড়ে ওঠে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সিদ্ধান্তে-কে কাকে মন দিয়ে শুনছে, কে কখন চুপ থাকছে, কে কখন পাশে দাঁড়াচ্ছে।

একজন একবার বলেছিলেন-মানুষ শুধু একে অপরকে চায় না; মানুষ চায় বোঝা ও বোঝাপড়ার নিশ্চয়তা। সম্পর্কের এই বোঝাপড়া কখনই একবারে আসে না; এটা সময়, আস্থা, ধৈর্যের সমন্বয়ে তৈরি হয়।

আমরা বিশেষ গানগুলো শুনি-যেমন “Stand by Me”-এটা শুধু একটি গানের কথা নয়; এটি সম্পর্কের এক অনন্ত প্রতিশ্রুতি :

“When the night has come
And the land is dark
And the moon is the only light we’ll see
No, I won’t be afraid
Oh, I won’t be afraid
Just as long as you stand, stand by me”

এটা একটা প্রেমের গান নয়; এটা একটা সম্পর্ক-দর্শন।

দাম্পত্য মানে সব সময় একমত থাকা নয়। বরং মতভেদের মধ্যেও থাকা। সময়ের সঙ্গে মানুষ বদলায়, অগ্রাধিকার বদলায়, সম্পর্কও বদলায়। টিকে থাকে তখনই, যখন দুজনেই সেই পরিবর্তনকে জায়গা দেয়।

সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শত্রু রাগ নয়, বরং অবহেলা। কথা বলা বন্ধ হয়ে গেলে দূরত্ব তৈরি হয়। আর সেই দূরত্ব খুব নিঃশব্দে বাড়ে।

দীর্ঘ সম্পর্ক টিকে থাকে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়, ছোট ছোট যত্ন দিয়ে। নিয়মিত উপস্থিত থাকা, পরস্পরের ক্লান্তি বোঝা, একে অপরকে সময় দেওয়া-এসবই সম্পর্কের নীরব ভিত্তি।

শেষ কথা

এ সপ্তাহের চতুর্মাত্রার চারটি প্রসঙ্গ-কূটনীতি, সংখ্যালঘু অধিকার, ক্রিকেট আর দাম্পত্য-আলাদা মনে হলেও আসলে একই জায়গায় এসে মিলে যায়।

সবখানেই প্রশ্ন একটাই :

আমরা কি সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছি?

রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্ক, সংখ্যাগরিষ্ঠের সঙ্গে সংখ্যালঘুর সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক, আর মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক-সবখানেই যত্ন দরকার।

যত্ন না থাকলে সম্পর্ক ভাঙে।

আর ভাঙা সম্পর্ক দিয়ে কোনো রাষ্ট্র, কোনো সমাজ, কোনো পরিবার টেকে না।

লেখক : প্রেসিডেন্ট, সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ।

সূএ: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com