ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে চাইলে আসন্ন জাতীয় সংসদ সংসদ নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের পাশাপাশি জামায়াতকে জয়যুক্ত করা ছাড়া আর বিকল্প পথ খোলা নেই। জামায়াতই একমাত্র দল যারা দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখাতে পারে।
তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থ লুণ্ঠন ও পাচারকারীর কাছ থেকে লুন্ঠিত সম্পদ আদায় করতে পারবে জামায়াত, যে দলটি নারী-পুরুষ সকলের জন্য ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে পারবে। এমনকি মা-বোনদের প্রকৃত সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা করতে পারবে। স্বাস্থ্য-শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে পারে একমাত্র এই দলটি। ইন-শা-আল্লাহ সবকিছুই সম্ভব হবে জামায়াত আগামীতে ক্ষমতায় গেলে।
শনিবার বিকেলে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।
জেলা জামায়াতের আমির মো. শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তাঁত সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জে আজ তাঁতিদের চরম দুরবস্থা। দুরবস্থা হয়েছে সিরাজগঞ্জ তথা শাহজাদপুর ও বাঘাবাড়ি অঞ্চলের হাজারো গো-খামারিদের। তাঁত সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জে তাঁতের প্রধান উপকরণ সুতা-রং ন্যায্য মূল্যে না পেয়ে বা পৃষ্ঠপোষণের কাঙ্ক্ষিত সরকারি সহযোগিতা না পেয়ে বেশিরভাগ তাঁতই বিগত বছরে বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে ন্যায্য দাম না পেয়ে গো-খামারিরাও দুধের খামার বন্ধ করে ফেলেছেন। শুধু তাই নয়, সঠিক দাম না পেয়ে অনেকেই রাস্তায় দুধ ঢেলে ফেলেছেন। কিন্তু আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তাঁতিদের দুরবস্থা ঘুঁচবে, ঠিক তেমনি গোখামারিরাও দুধের কাঙ্ক্ষিত দাম ফিরে পাবেন। দুধ আর রাস্তায় ঢেলে ফেলতে হবে না।’
তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে গুঁড়ো দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণে দুগ্ধ প্রসেস মিল বসানো হবে। সিরাজগঞ্জের তরল দুধ এ জেলাতেই গুঁড়ো দুধে প্রসেস করে উত্তরাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য স্থানেও পাঠিয়ে, বিদেশেও রপ্তানি করা হবে আগামীতে ইন-শা-আল্লাহ।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘সিরাজগঞ্জের নদী ভাঙন রোধে যমুনায় যত্রতত্র নদী খনন প্রকল্পের নামে বালু খেকোদের প্রতিষ্ঠিত করতে অতীতে নানা লুটপাট প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ইন-শা-আল্লাহ জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যমুনায় প্রকৃত খনন কাজ করা হবে এবং খনন কাজের বালি দিয়েই দুই পাড়ে স্থায়ী সুরক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।’
বক্তব্য শেষে তিনি সিরাজগঞ্জ-১ (কাজিপুর ও সদরের একাংশ) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. শাহিনুর আলম, সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এবং সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালি) আসনের মোহাম্মদ আলী আলমকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) আসনে জোটভুক্ত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি মাওলানা আব্দুর রউফকে রিকশা প্রতীক ও সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের জোটের প্রার্থী এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব সাইফ মোস্তাফিজকে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের সকলকে বিজয়ী করার জন্য সিরাজগঞ্জবাসীকে আহ্বান জানান।








