ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর সীমিত আকারে মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করেছে ইরানের সরকার। এতে দেশটির মোবাইল ব্যবহারকারীরা আবার এসএমএস আদানপ্রদান করতে পারছেন। তবে ফোনকল ও ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও বন্ধ রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার থেকে দেশজুড়ে মোবাইল এসএমএস পরিষেবা চালু হয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে এখনো ইরানের মোবাইল ব্যবহারকারীরা ফোনকল করার মতো শক্তিশালী নেটওয়ার্ক সুবিধা পাচ্ছেন না। একই সঙ্গে ইন্টারনেট পরিষেবাও বন্ধ রয়েছে।
গত প্রায় ২০ দিন ধরে দেশজুড়ে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রীতিমতো কেঁপে উঠেছে ইরান। ১৯৭৯ সালে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকার তাদের ৪৭ বছরের শাসনামলে এত বড় পরিসরের আন্দোলন আগে দেখেনি।
এই আন্দোলনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দেশটির ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়নের ফলে ইরানের জাতীয় মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরবস্থার কারণে ইরানে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে চরম সংকটে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সেই ধর্মঘট থেকেই ধীরে ধীরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সব শহর ও গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভের তীব্রতাও বাড়তে থাকে। বর্তমানে আন্দোলনের কারণে পুরো দেশ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
বিক্ষোভ দমনে গত ৭ জানুয়ারি থেকে ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয় ইরান সরকার। একই সঙ্গে দেশজুড়ে পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংঘর্ষে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছেন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
সোর্স: ইরান ইন্টারন্যাশনাল, কনভার্সেশন








