ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : উত্তরার দিয়াবাড়ীতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি, বিমানবাহিনীর রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা এবং মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড অমান্য করার কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা পাইলটের উড্ডয়নজনিত ত্রুটি এবং স্কুলের বিল্ডিং কোড অমান্য করার দায়ে সংশ্লিষ্টদের শাস্তি নিশ্চিত করা। সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল (অব.) শেখ আব্দুল হান্নানের তিন হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে সেই টাকা উদ্ধার ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান।
২. শহীদ পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিশ্চিতে হাইকোর্টের রিট পিটিশনে উল্লিখিত রুল অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৩. নিহত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ‘শহীদী মর্যাদা’ ও সনদ প্রদান এবং তাদের স্মরণে মেমোরিয়াল নির্মাণ।
৪. প্রতি বছর ২১ জুলাইকে ‘জাতীয় শিক্ষা শোক দিবস’ ঘোষণা করা, উত্তরায় একটি আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণ এবং শিশুদের কবরের স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণ।
৫. ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিমানবাহিনীর বাজেটে ব্যাপক দুর্নীতি না হলে বিমানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। পরিবারগুলোর দাবি, এই দুর্নীতির ফলেই পাইলটসহ ৩৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১৭২ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি মাইলস্টোন স্কুল কর্তৃপক্ষের বিল্ডিং কোড অমান্য করাও হতাহতের সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আশরাফুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও রফিক মোল্লা বক্তব্য দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা বলেন, ঘটনার দিন দুপুর ১টা ১২ মিনিটে দিয়াবাড়ী ক্যাম্পাসে বিমানটি আছড়ে পড়লে কোমলমতি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা আগুনে পুড়ে ও দ্বিখণ্ডিত হয়ে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারান। তাদের দাবি, বিশ্ব ইতিহাসে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এত বেশি প্রাণহানির নজির নেই। কোনো কোনো দম্পতি একমাত্র সন্তান বা একাধিক সন্তান হারিয়ে নিঃসন্তান ও নির্বংশ হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব গত ১১ ডিসেম্বর ফায়ার সার্ভিসের একটি অনুষ্ঠানে নিহতদের ২০ লাখ এবং আহতদের ৫ লাখ টাকা দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা তারা ১৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন। একইভাবে ২৯ ডিসেম্বর পত্রিকায় প্রকাশিত সম্ভাব্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের প্রস্তাবও তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের মতে, সুনির্দিষ্ট ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করে অর্থমূল্যের প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা আরও জানান, ইতোপূর্বে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশন নম্বর ১১৮৪২/২০২৫ এবং উপদেষ্টাদের দেওয়া মৌখিক প্রতিশ্রুতিগুলো এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে তারা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও দফতরে স্মারকলিপি দিয়েছেন।








