ছবি সংগৃহীত
ডেস্ক রিপোর্ট : নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে শুরু হচ্ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মহাষ্টমী পুণ্যস্নান। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত ২টা থেকে শুরু হয়ে ৫ এপ্রিল রাত ১২টা ৪৫ পর্যন্ত দুই দিনব্যাপী এই উৎসব চলবে। স্নানের লগ্ন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠবে দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখো পূণ্যার্থী।
মন্ত্র পাঠ করে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, আম্রপল্লব নিয়ে পূণ্যার্থীরা স্নানে অংশ নেবেন। লগ্ন শুরুর পরপরই পূণ্যার্থীর ঢল নামবে লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। পাপমোচনের বাসনায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পূণ্যার্থীদের পদচারণে মুখরিত হয়ে ওঠবে লাঙ্গলবন্দ।
এবার দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সাথে সম্পর্কের কথা মাথায় রেখে মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেছেন নারায়ণগঞ্জ প্রশাসন। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন সহ সেনাবাহিনীর সদস্যরাও নিয়মিত লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
বিশেষ করে বাংলাদেশের বাইরে থেকে আসা বিদেশি পূণ্যার্থীদের ব্যাপারে আলাদা করে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে। সে লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা দফায় দফায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এবারের স্নান উৎসবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ১৫০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি, র্যাব, আনসার, বিজিবি সদস্যরাও নিয়োজিত থাকবে। বসানো হয়েছে ৭টি ওয়াচ টাওয়ার, ৭০টি অধিক সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। বসানো হয়েছে ৭টি মেডিকেল ক্যাম্প, ১০টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকবে জরুরি সেবা প্রদানের জন্য।
এছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সহ সকল জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান গুলো স্নান উৎসব চলাকালীন সময় প্রস্তুত থাকবে। পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হবে স্বেচ্ছাসেবী কর্মী। সেই সাথে এবার ২০টি ঘাটে পূণ্যার্থীরা স্নান করবেন।
লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত স্নান উৎসব উদযাপন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য জয় কে রায় চৌধুরী বাপ্পি বলেন, স্নানোৎসবকে কেন্দ্র সকল রকমের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও বেশি জোরদার করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় সিসি ক্যামেরা ড্রোন ক্যামেরা থাকবে। প্রশাসনিক অন্যান্য সদস্যদের সাথে এবার সেনাবাহিনীর সদস্যরা থাকবেন।
নারায়গঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এবারের স্নানোৎসবে ড্রোন থাকবে। বিশেষ করে এবার আমাদের সাথে সেনাবাহিনী থাকবে। পূণ্যার্থীদের সুবিধার্তে ম্যাপ টানিয়ে দেয়া হবে। হিন্দু ধর্মালম্বীদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হচ্ছে মহাষ্টমী পূণ্য স্নানোৎসব। আশা করি এবার স্নানোৎসব আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করতে পারবে।