ফাইল ফটো
অনলাইন ডেস্ক : ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে রাজশাহীগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। আজ সকালে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারের বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় জেলার পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানাবেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ সাভারের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৩ ডাকাতে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেফতার সবুজ ও শরীফুজ্জামানের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরিন করিম। অপরদিকে গ্রেফতার শহিদুল ইসলামের পাঁচ দিনের রিমান্ড চলছে।
এদিকে এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে গত শুক্রবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানার ডিউটি অফিসার (এএসআই) আতিকুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শুক্রবার ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় নাটোরের বাসিন্দা ওমর আলী নামের এক যাত্রী বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৮-৯ জনকে আসামি করে মামলা করে।
১৭ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ইউনিক রোড রয়েলসের বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকার গাবতলী থেকে বাসটি ছাড়ে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাসটিতে ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে কয়েকজনকে রক্তাক্ত করে ডাকাতি শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বাসটিকে বিভিন্ন স্থান ঘুরিয়ে ডাকাতি ও নারীর শ্লীলতাহানি করার পর টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের নির্জন স্থানে বাস থামিয়ে ডাকাতদল নেমে যায়। ডাকাতরা বাস থেকে নেমে যাওয়ার পর চালক বাসটি নিয়ে গন্তব্যে যেতে অস্বীকৃতি জানান। পরে যাত্রীদের চাপের মুখে চালক বাস নিয়ে পুনরায় যাত্রা শুরু করেন।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার পর যাত্রীরা বাসটি নাটোরের বড়াইগ্রাম থানায় নিয়ে যান। এসময় ডাকাতিতে জড়িত সন্দেহে বাসের চালক বাবলু আলী (৩০), সুপারভাইজার সুমন ইসলাম (৩৩) ও হেলপার মাহবুব আলমকে (২৮) আটক করে ৫৪ ধারায় মামলা দিয়ে নাটোর আদালতে পাঠায় বড়াইগ্রাম থানা পুলিশ। পরে তারা আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে।