প্রতারণার ফাঁদ ডেটিং অ্যাপ

চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আহসান হাবিব (ছদ্মনাম)। কয়েক মাস আগে ডেটিং অ্যাপ মিটমির মাধ্যমে পরিচয় হয় কণা নামে এক কথিত তরুণীর সঙ্গে। অল্প কয়েক দিনের মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই তরুণী চেয়ে বসেন কিছু ব্যক্তিগত ছবি। ছবি পেয়েই পাল্টে যেতে থাকে কথিত প্রেমিকার রূপ। ব্যক্তিগত ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। শুধু আহসান হাবিব নন, ডেটিং অ্যাপে মনের মানুষ কিংবা বন্ধু খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত অনেকেই। তারা প্রতারিত হলেও সম্মান খোয়ানোর ভয়ে প্রতারিতদের কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। তথ্য প্রযুক্তিবিদ ড. ফয়সাল কামাল চৌধুরী বলেন, ‘ডেটিং সাইট এবং অ্যাপগুলোর বেশির ভাগই প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা সুন্দরী নারীদের ছবি প্রোফাইলে ব্যবহার করে পুরুষদের প্রলুব্ধ করে। পরে ব্যক্তিগত তথ্য এবং ছবি হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করছে।

 

এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ আসে আমাদের কাছে। কিন্তু তারা সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।’ তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের উচিত ডেটিং সাইটগুলো এড়িয়ে চলা। ব্যক্তিগত তথ্য কোনো সাইট বা অ্যাপে শেয়ার না করা। কারণ এ তথ্য প্রতারণা ছাড়াও জঙ্গিবাদসহ নানা অপরাধে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।’ সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার ফারুক উল হক বলেন, ‘অনলাইনে মনের মানুষ খুঁজতে গিয়ে প্রতারিত হন এমন কথা শুনি। কিন্তু কেউ অভিযোগ না করার কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না।’ একইভাবে সিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘ডেটিং অ্যাপে মনের মানুষ খুঁজতে গিয়ে প্রতারিত হন এমন অভিযোগ পাই। কিন্তু সম্মানের কথা চিন্তা করে কেউ লিখিত অভিযোগ দেন না। ফলে এসব প্রতারণার বিষয়ে কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণায় নেমেছে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র। তারা ডেটিং অ্যাপ টিন্ডার, টানটান, মিটমি, বাডুসহ কিছু অ্যাপের প্রোফাইলে সুন্দরী নারীদের ছবি ব্যবহার করে। এরপর ভিকটিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করে। প্রেমের নাম করে হাতিয়ে দেয় ব্যক্তিগত ছবি। পরে ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে শুরু করে প্রতারণা। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে একান্ত সময় কাটানোর প্রস্তাব দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের কথায় রাজি হয়ে একান্ত সময় কাটাতে গেলে জিম্মি করে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

 

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ডেটিং অ্যাপে প্রতারণার যত তথ্য পেয়েছি তার মধ্যে ভিকটিমের প্রায় সবাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। অ্যাপে সুন্দরী নারীদের ছবি প্রোফাইলে ব্যবহার করলেও নেপথ্যে থাকে প্রতারক চক্রের পুরুষ সদস্যরা।সূএ:বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনের গল্প ‘সহযাত্রী’

» জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত চায় এনসিপি

» আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন: মির্জা ফখরুল

» বিএনপিই একমাত্র দল যারা বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারে: মির্জা ফখরুল

» যমুনায় এনসিপির প্রতিনিধি দল

» আঘাত এলে জবাব দিতে হবে, সবাই প্রস্তুত থাকুন: জাপা মহাসচিব

» নির্বাচন বানচালে ষড়যন্ত্রের ডালপালা মেলতে শুরু করেছে: তারেক রহমান

» চাপে পড়ে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে: তাহের

» ভুল থাকলেও এ সরকারকে ব্যর্থ হতে দেবো না: রাশেদ খান

» নূরকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে চান: স্ত্রী মারিয়া

  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

প্রতারণার ফাঁদ ডেটিং অ্যাপ

চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আহসান হাবিব (ছদ্মনাম)। কয়েক মাস আগে ডেটিং অ্যাপ মিটমির মাধ্যমে পরিচয় হয় কণা নামে এক কথিত তরুণীর সঙ্গে। অল্প কয়েক দিনের মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই তরুণী চেয়ে বসেন কিছু ব্যক্তিগত ছবি। ছবি পেয়েই পাল্টে যেতে থাকে কথিত প্রেমিকার রূপ। ব্যক্তিগত ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা। শুধু আহসান হাবিব নন, ডেটিং অ্যাপে মনের মানুষ কিংবা বন্ধু খুঁজতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন চট্টগ্রামে প্রতিষ্ঠিত অনেকেই। তারা প্রতারিত হলেও সম্মান খোয়ানোর ভয়ে প্রতারিতদের কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না। তথ্য প্রযুক্তিবিদ ড. ফয়সাল কামাল চৌধুরী বলেন, ‘ডেটিং সাইট এবং অ্যাপগুলোর বেশির ভাগই প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তারা সুন্দরী নারীদের ছবি প্রোফাইলে ব্যবহার করে পুরুষদের প্রলুব্ধ করে। পরে ব্যক্তিগত তথ্য এবং ছবি হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করছে।

 

এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ আসে আমাদের কাছে। কিন্তু তারা সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।’ তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিদের উচিত ডেটিং সাইটগুলো এড়িয়ে চলা। ব্যক্তিগত তথ্য কোনো সাইট বা অ্যাপে শেয়ার না করা। কারণ এ তথ্য প্রতারণা ছাড়াও জঙ্গিবাদসহ নানা অপরাধে ব্যবহার করার সম্ভাবনা রয়েছে।’ সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপকমিশনার ফারুক উল হক বলেন, ‘অনলাইনে মনের মানুষ খুঁজতে গিয়ে প্রতারিত হন এমন কথা শুনি। কিন্তু কেউ অভিযোগ না করার কারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না।’ একইভাবে সিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, ‘ডেটিং অ্যাপে মনের মানুষ খুঁজতে গিয়ে প্রতারিত হন এমন অভিযোগ পাই। কিন্তু সম্মানের কথা চিন্তা করে কেউ লিখিত অভিযোগ দেন না। ফলে এসব প্রতারণার বিষয়ে কার্যত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় না।’ অনুসন্ধানে জানা যায়, ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে প্রতারণায় নেমেছে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র। তারা ডেটিং অ্যাপ টিন্ডার, টানটান, মিটমি, বাডুসহ কিছু অ্যাপের প্রোফাইলে সুন্দরী নারীদের ছবি ব্যবহার করে। এরপর ভিকটিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব তৈরি করে। প্রেমের নাম করে হাতিয়ে দেয় ব্যক্তিগত ছবি। পরে ব্যক্তিগত ছবি নিয়ে শুরু করে প্রতারণা। আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে একান্ত সময় কাটানোর প্রস্তাব দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের কথায় রাজি হয়ে একান্ত সময় কাটাতে গেলে জিম্মি করে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের টাকা।

 

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা বলেন, ডেটিং অ্যাপে প্রতারণার যত তথ্য পেয়েছি তার মধ্যে ভিকটিমের প্রায় সবাই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। অ্যাপে সুন্দরী নারীদের ছবি প্রোফাইলে ব্যবহার করলেও নেপথ্যে থাকে প্রতারক চক্রের পুরুষ সদস্যরা।সূএ:বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Design & Developed BY ThemesBazar.Com