পলাতক আট আসামিকে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক আট আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় দুটি বিজ্ঞপ্তি (একটি ইংরেজি ও একটি বাংলা) প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আসামিরা হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতে বিচার কাজ শুরু হবে।

 

একই সঙ্গে আট আসামির বিষয়ে অগ্রগতি জানানো এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

 

বুধবার (১৬ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

 

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

 

এর আগে এদিন আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেফতার আট আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে সকাল ৯টার পর তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

 

গত ২ জুলাই জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এছাড়া গ্রেফতার আট আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করে পরবর্তী তারিখে আদালতে উপস্থিত করতে বলা হয়েছে। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে। আদালতে ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকউটর গাজী এমএইচ তামিম।

 

ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় ১১ আসামির নাম উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ (রনি), ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, সাবেক উপপরিদর্শক আরাফাত উদ্দীন, সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হক, সাবেক উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক উপপরিদর্শক কামরুল হাসান ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। এই ১১ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

 

গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় যারা শহীদ হয়েছেন তারা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন। এছাড়া একজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি (অজ্ঞাত)।

 

প্রসিকিউশন জানায়, নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিএনপি ছাড়া কিছু রাজনৈতিক দল চাইছে নির্বাচন পেছাতে : রুমিন ফারহানা

» ক্ষমতায় এলে প্রথমে গুমের সংস্কৃতি নিশ্চিহ্ন করা হবে : সালাহউদ্দিন

» বিশেষ অভিযানে মোট ১ হাজার ৫১৫ জন গ্রেফতার

» আ.লীগ ও জাপার হামলায় আহত রাশেদ খান, নেওয়া হলো হাসপাতালে

» ওসমান হাদীর পোস্টে সারজিস লিখলেন, ‘এ লড়াই আপনার একার নয়’

» গণঅধিকার পরিষদের শতাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগ

» দেশের মানুষ পেশিশক্তির রাজনীতি আর দেখতে চায় না : তাসনিম জারা

» নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে এবি পার্টির কড়া অভিযোগ

» চীনকে যতটা উন্নত ভাবি তার চেয়েও অনেক বেশি উন্নত: সারজিস

» বিএনপির ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে উৎসবমুখর বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা)আসন    

  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

পলাতক আট আসামিকে হাজিরে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ

সংগৃহীত ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে পলাতক আট আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় দুটি বিজ্ঞপ্তি (একটি ইংরেজি ও একটি বাংলা) প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আসামিরা হাজির না হলে তাদের অনুপস্থিতে বিচার কাজ শুরু হবে।

 

একই সঙ্গে আট আসামির বিষয়ে অগ্রগতি জানানো এবং মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

 

বুধবার (১৬ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

 

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

 

এর আগে এদিন আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় গ্রেফতার আট আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে সকাল ৯টার পর তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।

 

গত ২ জুলাই জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন সাভারের আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। এছাড়া গ্রেফতার আট আসামিকে শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করে পরবর্তী তারিখে আদালতে উপস্থিত করতে বলা হয়েছে। এরপর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করা হয়েছে। আদালতে ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকউটর গাজী এমএইচ তামিম।

 

ট্রাইব্যুনালে এ মামলায় ১১ আসামির নাম উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। তারা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফি, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ (রনি), ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, সাবেক উপপরিদর্শক আরাফাত উদ্দীন, সাবেক উপপরিদর্শক শেখ আবজালুল হক, সাবেক উপপরিদর্শক বিশ্বজিৎ সাহা, সাবেক উপপরিদর্শক কামরুল হাসান ও সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার। এই ১১ আসামির মধ্যে আটজন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

 

গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় যারা শহীদ হয়েছেন তারা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন। এছাড়া একজনের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি (অজ্ঞাত)।

 

প্রসিকিউশন জানায়, নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



  

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

Design & Developed BY ThemesBazar.Com