১০ ফেরি, ৮৭ লঞ্চ ও ৫৩ স্পিডবোটে ঈদে পদ্মা পার

ঈদযাত্রা সুখময় ছিল না দক্ষিণবঙ্গের ঘরে ফেরা মানুষের। করোনার কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। তারপরেও ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মাপার হয়েছেন মানুষ। করোনা কমে আসায় এবার নেই বিধিনিষেধ। তাই ঈদে ঘরে ফিরতে বাধা না থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পদ্মা নদী। সেতুতে কয়েকবার ফেরির ধাক্কা লাগায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ রুটে ফেরি চলাচল সীমিত। হাতে গোনা কয়েকটা ফেরি চললেও সেসব ফেরিতে গণপরিবহন অর্থাৎ বাস পারাপার হয় না। ফলে এই রুটের যাত্রীদের লঞ্চ পারাপারের পর পরিবহনে চেপে গন্তব্যে ছুটতে হয়।

 

যদিও ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ সামাল দিতে ভালো প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পদ্মা পার করতে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চালাতে অনীহা ফেরি চালকদের। কেননা, সেতুতে ফেরির ধাক্কা লাগায়ে বেশ কয়েকজন চালককে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছর বর্ষা মৌসুমে জুলাই ও আগস্ট মাসে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে কয়েক দফায় পদ্মা সেতুর তিনটি পিলারে চার বার ফেরির ধাক্কা লাগে। এত আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। ফেরির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতুর পাইল ক্যাপ। তখন এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ১৮ আগস্ট থেকে এই নৌ রুটি ফেরি চলাচল পুরাপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক দফায় সীমিত আকারে ফেরি চালু এবং বন্ধ হয়। এরপর শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিকান্দি ঘাটে স্থানান্তর করা হয় ফেরিঘাট। দিনের বেলা মাত্র ২টি ফেরি চলাচল করে মাঝিকান্দি রুট দিয়ে। পরবর্তীতে গত বছর ৭ নভেম্বর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছোট ছোট ৫টি ফেরি দিয়ে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার শুরু করা হয়।

ppa-olkooবিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শুধু দিনের বেলায় বাংলাবাজার শিমুলিয়া নৌরুটে রোরো ফেরি সুফিয়া কামালসহ মোট ৫টি ফেরি চলাচল করছে। সকাল ৮ থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়ে ৫টা পর্যন্ত চলে। এছাড়া মাঝিকান্দি-শিমুলিয়া রুটে চলে ২টি ফেরি। দুই নৌরুটে মোট ৫টি ফেরি চলাচল করছে।

গাড়ির চাপ বাড়লে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় যানজট বাড়ে। টার্মিনালে দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে থাকতে হয় ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষমান যানবাহনগুলোকে। এই রুটের ফেরিতে এখনোও ব্যক্তিগত যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স ও ছোট ছোট যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। বন্ধ আছে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস পারাপার।

 

আসন্ন ঈদুল ফিতরেও ফেরিতে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে ঈদে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার-মাঝিকান্দি রুটে চালু করা হবে ১০টি ফেরি।

 

রো রো ফেরি ‘বেগম সুফিয়া কামাল ফেরি’র মাস্টার ইনচার্জ জয়নাল আবেদিন  বলেন, বাতাসের তারতম্যের কারণে নদীতে স্রোত ও বাতাস দুটোই বাড়ছে। ফলে আমাদের পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চালাতে রিস্ক হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাবাজারে নদী শাসনের কাজ চলায় ড্রেজার ও বয়া থাকায় এই রুটটি আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

 

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার-মাঝিকান্দি নৌরুটে ৭টি ফেরি চলাচল করছে। তবে ঈদুল ফিতরের বাড়তি চাপ কমাতে আমাদের ফেরির বহরে সংযোজন করা হবে আরও ৩টি ফেরি। মোট ১০টি ফেরি চলাচল করবে এক নৌরুটগুলোতে।’

jnbjnমাত্র ১০টি ফেরিতে যানবাহন চাপ সামাল দিতে পারবে? এই প্রশ্নে তিনি বলেন, গতবছর আমাদের ফেরিতে বাস, ট্রাক পারাপার করা হয়েছে। এইবার আমরা শুধু ছোটছোট যানবাহন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, জিপগাড়ি পারাপার করব। আশা করছি এইবার ঈদে পারাপারের জন্য আগত যাত্রী ভালোভাবেই পার হবেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী চাপ সামাল দিতে এই নৌরুটে প্রস্তুত করা হয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে ৮৭টি লঞ্চ। যার ধারণ ক্ষমতা ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ২৩০ জন যাত্রী। প্রতি যাত্রী ভাড়া নেওয়া হবে ৪৫ টাকা করে। ইতোমধ্যেই ছোটখাটো মেরামতযোগ্য সকল কাজ সেরে ফেলেছেন লঞ্চ মালিকেরা।

 

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির  বলেন, আমাদের এই নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চের সবগুলোর রুট পারমিট, সার্ভে সনদ রয়েছে। আশা করছি ইঞ্জিনের গোলযোগ না হলে ঈদে ৮৭ লঞ্চের সবগুলোই চলাচল করবে।

 

বাংলাবাজার স্পিডবোট ঘাটের সুপার ভাইজার দাদন বেপারী বলেন, আমাদের এই ঘাটে ৫৩টি স্পিডবোট সচল আছে। প্রশাসনের সহায়তা নিয়েই প্রস্তুত রাখা হয়েছে আমাদের প্রতিটি স্পিডবোট। ঈদ উপলক্ষে দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রেখেছি। আশা করছি এবারের ঈদে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পদ্মা পাড়ি দিতে পারবেন।

kk-3বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার উজ্জামান বলেন,’ আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমাদের বাংলাবাজার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাট থেকে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমাদের এখানে প্রতিটি লঞ্চের ফিটনেস, মাস্টার ড্রাইভার, নাবিক, বয়া, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ঠিক রেখেই চলাচল করবে প্রতিটি লঞ্চ। ধারণ ক্ষমতার বাহিরে একটি যাত্রীও ওঠানো হবে না কোনো লঞ্চে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা প্রশাসনের সহায়তায় জেলা পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে ঘাট পরিচালনা করব। যাতে ঈদে প্রতিটি যাত্রী ভোগান্তি ছাড়া সুন্দরভাবে ঘরে পৌঁছাতে ও ঢাকায় ফিরে যেতে পারবে।

 

এদিকে সরেজমিনে মাদারীপুর শিবচর বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলাচল শুরু করেছে সকল লঞ্চগুলো। শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোতে বেশ যাত্রীর চাপ ছিল। তবে লঞ্চগুলোতে ছিল না পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী বয়া।

 

স্পিডবোটগুলোও যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। ফেরি ঘাটে যানবাহনের চাপ না থাকায় ছোটছোট যানবাহন নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে দেখা গেছে ফেরিগুলোকে।

 

ফরিদপুর থেকে আসা পিকআপ চালক মনির হোসেন বলেন, ‘গতবছর ঈদে অনেক চাপ আছিল। গাড়ি নিয়া ফেরি পার হতে অনেক ভোগান্তিতে পড়েছিলাম। এইবারও অনেক চাপ হইব। এখন যে ফেরি চলছে এতে কাজ হবে না। আরও ১০ টা ফেরি বাড়ানো লাগব।’

kkভোলা থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী সুমন তালুকদার বলেন, ‘গতবছর শুধু ফেরি চলায় অনেক ভোগান্তিতে পড়েছিলাম আমরা। এইবার ঘাটে এসে দেখলাম অনেক লঞ্চ, স্পিডবোট চলছে। আশা করছি ঢাকা থেকে ভালোভাবেই ঈদে বাসায় ফিরতে পারব।

 

মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল  বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের আগের ৭ দিন ও পরের ৭ দিন ঘাট এলাকায় আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ইতোমধ্যে আমরা লঞ্চ মালিক সমিতি, স্পিডবোট মালিক সমিতি, বাস মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলেছি। কোনোভাবেই যাত্রীরা যেন হয়রানি শিকার না হয় এবং যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য আমাদের যা যা করণীয় সে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা আশা করছি ঈদে যাত্রীরা সুন্দরভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন।’

সূএ: ঢাকা মেইল ডটকম

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জয়পুরহাটে আগামী ৪-৭ জুন জাতীয় ভিটামিন ‌‌‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন

» দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান মির্জা ফখরুলের

» অপেক্ষা করুন, আসছে তরুণ প্রজন্মের ড্রিম প্রোজেক্ট: বিএনপিকে ওবায়দুল কাদের

» অন্যায়ের বিরুদ্ধে নজরুলের ভূমিকা বিশ্বকে আজীবন পথ দেখাবে

» চক্রের খপ্পড়ে পিন কোড যোগ-বিয়োগে গ্রাহকের অর্ধকোটি টাকা হাওয়া

» যে খাবার ও উপার্জন সর্বোত্তম

» সর্ষে ইলিশ খিচুড়ি তৈরির রেসিপি

» নাচতে নাচতে মারা যায় শত শত মানুষ

» প্লাস্টিকের বালতির দাম ৪০ হাজার টাকা!

» রামুতে পিকআপ ভ্যানের তেলের ট্যাংকিতে মিললো ৩৯ হাজার ইয়াবা

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

১০ ফেরি, ৮৭ লঞ্চ ও ৫৩ স্পিডবোটে ঈদে পদ্মা পার

ঈদযাত্রা সুখময় ছিল না দক্ষিণবঙ্গের ঘরে ফেরা মানুষের। করোনার কারণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। তারপরেও ঝুঁকি নিয়ে গাদাগাদি করে ফেরিতে পদ্মাপার হয়েছেন মানুষ। করোনা কমে আসায় এবার নেই বিধিনিষেধ। তাই ঈদে ঘরে ফিরতে বাধা না থাকলেও বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পদ্মা নদী। সেতুতে কয়েকবার ফেরির ধাক্কা লাগায় শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌ রুটে ফেরি চলাচল সীমিত। হাতে গোনা কয়েকটা ফেরি চললেও সেসব ফেরিতে গণপরিবহন অর্থাৎ বাস পারাপার হয় না। ফলে এই রুটের যাত্রীদের লঞ্চ পারাপারের পর পরিবহনে চেপে গন্তব্যে ছুটতে হয়।

 

যদিও ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ সামাল দিতে ভালো প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। যাত্রীদের নির্বিঘ্নে পদ্মা পার করতে একাধিক পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চালাতে অনীহা ফেরি চালকদের। কেননা, সেতুতে ফেরির ধাক্কা লাগায়ে বেশ কয়েকজন চালককে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত বছর বর্ষা মৌসুমে জুলাই ও আগস্ট মাসে পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে কয়েক দফায় পদ্মা সেতুর তিনটি পিলারে চার বার ফেরির ধাক্কা লাগে। এত আহত হন বেশ কয়েকজন যাত্রী। ফেরির ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় সেতুর পাইল ক্যাপ। তখন এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ১৮ আগস্ট থেকে এই নৌ রুটি ফেরি চলাচল পুরাপুরি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর কয়েক দফায় সীমিত আকারে ফেরি চালু এবং বন্ধ হয়। এরপর শরীয়তপুরের জাজিরার মাঝিকান্দি ঘাটে স্থানান্তর করা হয় ফেরিঘাট। দিনের বেলা মাত্র ২টি ফেরি চলাচল করে মাঝিকান্দি রুট দিয়ে। পরবর্তীতে গত বছর ৭ নভেম্বর থেকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া রুটে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ছোট ছোট ৫টি ফেরি দিয়ে জরুরি অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি ও যাত্রী পারাপার শুরু করা হয়।

ppa-olkooবিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শুধু দিনের বেলায় বাংলাবাজার শিমুলিয়া নৌরুটে রোরো ফেরি সুফিয়া কামালসহ মোট ৫টি ফেরি চলাচল করছে। সকাল ৮ থেকে ফেরি চলাচল শুরু হয়ে ৫টা পর্যন্ত চলে। এছাড়া মাঝিকান্দি-শিমুলিয়া রুটে চলে ২টি ফেরি। দুই নৌরুটে মোট ৫টি ফেরি চলাচল করছে।

গাড়ির চাপ বাড়লে বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় যানজট বাড়ে। টার্মিনালে দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে থাকতে হয় ফেরিতে ওঠার জন্য অপেক্ষমান যানবাহনগুলোকে। এই রুটের ফেরিতে এখনোও ব্যক্তিগত যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্স ও ছোট ছোট যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। বন্ধ আছে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস পারাপার।

 

আসন্ন ঈদুল ফিতরেও ফেরিতে পণ্যবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাস পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে ঈদে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার-মাঝিকান্দি রুটে চালু করা হবে ১০টি ফেরি।

 

রো রো ফেরি ‘বেগম সুফিয়া কামাল ফেরি’র মাস্টার ইনচার্জ জয়নাল আবেদিন  বলেন, বাতাসের তারতম্যের কারণে নদীতে স্রোত ও বাতাস দুটোই বাড়ছে। ফলে আমাদের পদ্মা সেতুর নিচ দিয়ে ফেরি চালাতে রিস্ক হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাবাজারে নদী শাসনের কাজ চলায় ড্রেজার ও বয়া থাকায় এই রুটটি আমাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

 

বিআইডব্লিউটিসির বাংলাবাজার ঘাটের ব্যবস্থাপক সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বর্তমানে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার-মাঝিকান্দি নৌরুটে ৭টি ফেরি চলাচল করছে। তবে ঈদুল ফিতরের বাড়তি চাপ কমাতে আমাদের ফেরির বহরে সংযোজন করা হবে আরও ৩টি ফেরি। মোট ১০টি ফেরি চলাচল করবে এক নৌরুটগুলোতে।’

jnbjnমাত্র ১০টি ফেরিতে যানবাহন চাপ সামাল দিতে পারবে? এই প্রশ্নে তিনি বলেন, গতবছর আমাদের ফেরিতে বাস, ট্রাক পারাপার করা হয়েছে। এইবার আমরা শুধু ছোটছোট যানবাহন প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, জিপগাড়ি পারাপার করব। আশা করছি এইবার ঈদে পারাপারের জন্য আগত যাত্রী ভালোভাবেই পার হবেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) জানায়, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রী চাপ সামাল দিতে এই নৌরুটে প্রস্তুত করা হয়েছে ছোট বড় মিলিয়ে ৮৭টি লঞ্চ। যার ধারণ ক্ষমতা ১৫০ থেকে সর্বোচ্চ ২৩০ জন যাত্রী। প্রতি যাত্রী ভাড়া নেওয়া হবে ৪৫ টাকা করে। ইতোমধ্যেই ছোটখাটো মেরামতযোগ্য সকল কাজ সেরে ফেলেছেন লঞ্চ মালিকেরা।

 

লঞ্চ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির  বলেন, আমাদের এই নৌরুটে ৮৭টি লঞ্চের সবগুলোর রুট পারমিট, সার্ভে সনদ রয়েছে। আশা করছি ইঞ্জিনের গোলযোগ না হলে ঈদে ৮৭ লঞ্চের সবগুলোই চলাচল করবে।

 

বাংলাবাজার স্পিডবোট ঘাটের সুপার ভাইজার দাদন বেপারী বলেন, আমাদের এই ঘাটে ৫৩টি স্পিডবোট সচল আছে। প্রশাসনের সহায়তা নিয়েই প্রস্তুত রাখা হয়েছে আমাদের প্রতিটি স্পিডবোট। ঈদ উপলক্ষে দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণ লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা রেখেছি। আশা করছি এবারের ঈদে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে পদ্মা পাড়ি দিতে পারবেন।

kk-3বিআইডব্লিউটিএর বাংলাবাজার লঞ্চ ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর আক্তার উজ্জামান বলেন,’ আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আমাদের বাংলাবাজার ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ঘাট থেকে সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আমাদের এখানে প্রতিটি লঞ্চের ফিটনেস, মাস্টার ড্রাইভার, নাবিক, বয়া, অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র ঠিক রেখেই চলাচল করবে প্রতিটি লঞ্চ। ধারণ ক্ষমতার বাহিরে একটি যাত্রীও ওঠানো হবে না কোনো লঞ্চে।

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। আমরা প্রশাসনের সহায়তায় জেলা পুলিশ, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ, আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে ঘাট পরিচালনা করব। যাতে ঈদে প্রতিটি যাত্রী ভোগান্তি ছাড়া সুন্দরভাবে ঘরে পৌঁছাতে ও ঢাকায় ফিরে যেতে পারবে।

 

এদিকে সরেজমিনে মাদারীপুর শিবচর বাংলাবাজার ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঈদ উপলক্ষে প্রস্তুতি সম্পন্ন করে চলাচল শুরু করেছে সকল লঞ্চগুলো। শিমুলিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা লঞ্চগুলোতে বেশ যাত্রীর চাপ ছিল। তবে লঞ্চগুলোতে ছিল না পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী বয়া।

 

স্পিডবোটগুলোও যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। ফেরি ঘাটে যানবাহনের চাপ না থাকায় ছোটছোট যানবাহন নিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে দেখা গেছে ফেরিগুলোকে।

 

ফরিদপুর থেকে আসা পিকআপ চালক মনির হোসেন বলেন, ‘গতবছর ঈদে অনেক চাপ আছিল। গাড়ি নিয়া ফেরি পার হতে অনেক ভোগান্তিতে পড়েছিলাম। এইবারও অনেক চাপ হইব। এখন যে ফেরি চলছে এতে কাজ হবে না। আরও ১০ টা ফেরি বাড়ানো লাগব।’

kkভোলা থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী সুমন তালুকদার বলেন, ‘গতবছর শুধু ফেরি চলায় অনেক ভোগান্তিতে পড়েছিলাম আমরা। এইবার ঘাটে এসে দেখলাম অনেক লঞ্চ, স্পিডবোট চলছে। আশা করছি ঢাকা থেকে ভালোভাবেই ঈদে বাসায় ফিরতে পারব।

 

মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল  বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের আগের ৭ দিন ও পরের ৭ দিন ঘাট এলাকায় আমাদের অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। ইতোমধ্যে আমরা লঞ্চ মালিক সমিতি, স্পিডবোট মালিক সমিতি, বাস মালিক সমিতির সঙ্গে কথা বলেছি। কোনোভাবেই যাত্রীরা যেন হয়রানি শিকার না হয় এবং যাত্রীরা যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য আমাদের যা যা করণীয় সে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমরা আশা করছি ঈদে যাত্রীরা সুন্দরভাবে বাড়ি ফিরতে পারবেন।’

সূএ: ঢাকা মেইল ডটকম

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com