সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী সেজে প্রতারণা, অবশেষে ধরা…

বরিশাল নগরীতে সেনা বাহিনীর কর্মকর্তার স্ত্রী সেজে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন এক নারী। শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের সুজুকি মোটকসাইকেল শোরুম থেকে কিস্তিতে মোটরবাইক ক্রয় করে লাপত্তা হয়ে যান মিনারা মিনু নামের চল্লিশোর্ধ্ব এই নারী। এরপর দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার অনুরূপ কায়দায় প্রতারণা করে শহরের আরেকটি শোরুম থেকে মোটরসাইকেল নিতে গিয়ে পড়লেন ধরা। সঙ্গে তার সহযোগী নাহিদ খান বিশোর্ধ্ব নামের যুবককেও আটক করে সুজুকি শোরুম কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি কোতয়ালি মডেল থানাধীন সদর রোডের অভিরুচি হলের নিচের ওই শোরুমে চলে হট্টগোল। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করলেও নারীর বিরুদ্ধে শোরুম কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

 

শোরুম কর্তৃপক্ষ জানায়, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী ইউনিয়েনর মামুন খানের স্ত্রী মিনারা মিনু দেড় মাস পূর্বে শোরুমে এসে নিজেকে সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয় দেন এবং মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিলে সেও নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা বলে অবহিত করেন। এবং ৪০ হাজার টাকা রেখে একটি সুজুকি জিক্সার মডেলের একটি মোটরবাইক কিস্তিতে দেওয়ার অনুরোধ রাখেন। এতে শোরুম কর্তৃপক্ষ সম্মত হলে নারীর সাথে থাকা যুবক ভাতিজা পরিচয়দানকারী নাহিদ মোটরসাইকেলটি চালিয়ে নিয়ে যায়।

 

শোরুম ম্যানেজার মো. শামীম জানান, মোটরসাইকেল নেওয়ার সময় নারীকে কন্ডিশন দেওয়া হয়েছিল তা মানেনি এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এক মাসের মধ্যে সব বাকি সব টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি কোনো প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করেনি। এমনকি তিনি যে ঠিকানা দিয়েছেন সেখানে সেখানে খুঁজেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শোরুম কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

 

জানা গেছে, নারী রোববার সঙ্গী নাহিদকে নিয়ে অনুরুপ প্রক্রিয়ায় শহরের পার্কবাংলা থেকে মোটরসাইকেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে সুজুকি শোরুম কর্তৃপক্ষ পার্কবাংলায় গিয়ে সঙ্গীসহ নারীকে ধরে নিয়ে আসে। বিকেলের এই ঘটনায় সন্ধ্যা অবধি সুজুকি শোরুমে চলে হট্টগোল। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে যুবক সব দোষ নারীর ওপর চাপিয়ে দেন এবং স্বীকার করেন তিনি নারীর প্রলোভনে পড়ে শোরুম থেকে মোটরসাইকেল নিতেন। পরবর্তীতে সেগুলো নারী তাকে কম মূল্যে বিক্রির জন্য দিয়ে দিতেন। এমনিভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।

 

কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানায়, প্রতারক ধরার খবর পেয়ে তাদের একটি টিম সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু নারী নগদ ২৩ হাজার টাকা পরিশোধ করার পাশাপাশি মুচলেকা দিয়েছেন বাকি টাকা এক লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে দেবেন। ফলে তার বিরুদ্ধে শোরুম কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

 

এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব হোসেন জানান, নারী যে সেনাবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে মোটরসাইকেল নিয়েছেন সেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে গেছে। কিন্তু শোরুম কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে রাজি না হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি।  সূএ:ঢাকাটাইম ডটকম

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» পাসওয়ার্ড তৈরির গোপন কৌশল জানুন

» উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, মনোনয়ন জমার শেষ দিন সোমবার

» বিয়েবাড়ির মতো খাসির মাংস ভুনা করবেন যেভাবে

» বাংলাদেশ এখন দুর্নীতি চাষের উর্বর ভূমি: রিজভী

» ইলিশের দামে নববর্ষের হাওয়া

» ধর্ষণ মামলায় প্রধান পলাতক আসামি গ্রেফতার

» বাংলা নববর্ষ উদযাপন : হামলা-নাশকতা ঠেকাতে প্রস্তুত র‍্যাব

» হঠাৎ কেন মেজাজ হারালেন শ্বেতা?

» মুস্তাফিজের চেন্নাইকে টপকে অনন্য রেকর্ড মুম্বাইয়ের

» ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে ইউরোপের তিন দেশ

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী সেজে প্রতারণা, অবশেষে ধরা…

বরিশাল নগরীতে সেনা বাহিনীর কর্মকর্তার স্ত্রী সেজে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন এক নারী। শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোডের সুজুকি মোটকসাইকেল শোরুম থেকে কিস্তিতে মোটরবাইক ক্রয় করে লাপত্তা হয়ে যান মিনারা মিনু নামের চল্লিশোর্ধ্ব এই নারী। এরপর দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। রবিবার অনুরূপ কায়দায় প্রতারণা করে শহরের আরেকটি শোরুম থেকে মোটরসাইকেল নিতে গিয়ে পড়লেন ধরা। সঙ্গে তার সহযোগী নাহিদ খান বিশোর্ধ্ব নামের যুবককেও আটক করে সুজুকি শোরুম কর্তৃপক্ষ। এনিয়ে বিকেল থেকে সন্ধ্যা অবধি কোতয়ালি মডেল থানাধীন সদর রোডের অভিরুচি হলের নিচের ওই শোরুমে চলে হট্টগোল। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম গিয়ে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করলেও নারীর বিরুদ্ধে শোরুম কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

 

শোরুম কর্তৃপক্ষ জানায়, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী ইউনিয়েনর মামুন খানের স্ত্রী মিনারা মিনু দেড় মাস পূর্বে শোরুমে এসে নিজেকে সেনা কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয় দেন এবং মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তিকে ধরিয়ে দিলে সেও নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা বলে অবহিত করেন। এবং ৪০ হাজার টাকা রেখে একটি সুজুকি জিক্সার মডেলের একটি মোটরবাইক কিস্তিতে দেওয়ার অনুরোধ রাখেন। এতে শোরুম কর্তৃপক্ষ সম্মত হলে নারীর সাথে থাকা যুবক ভাতিজা পরিচয়দানকারী নাহিদ মোটরসাইকেলটি চালিয়ে নিয়ে যায়।

 

শোরুম ম্যানেজার মো. শামীম জানান, মোটরসাইকেল নেওয়ার সময় নারীকে কন্ডিশন দেওয়া হয়েছিল তা মানেনি এবং তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। এক মাসের মধ্যে সব বাকি সব টাকা দিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি কোনো প্রকার যোগাযোগ রক্ষা করেনি। এমনকি তিনি যে ঠিকানা দিয়েছেন সেখানে সেখানে খুঁজেও সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে শোরুম কর্তৃপক্ষ অনুধাবন করে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

 

জানা গেছে, নারী রোববার সঙ্গী নাহিদকে নিয়ে অনুরুপ প্রক্রিয়ায় শহরের পার্কবাংলা থেকে মোটরসাইকেল নেওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে সুজুকি শোরুম কর্তৃপক্ষ পার্কবাংলায় গিয়ে সঙ্গীসহ নারীকে ধরে নিয়ে আসে। বিকেলের এই ঘটনায় সন্ধ্যা অবধি সুজুকি শোরুমে চলে হট্টগোল। একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতিতে যুবক সব দোষ নারীর ওপর চাপিয়ে দেন এবং স্বীকার করেন তিনি নারীর প্রলোভনে পড়ে শোরুম থেকে মোটরসাইকেল নিতেন। পরবর্তীতে সেগুলো নারী তাকে কম মূল্যে বিক্রির জন্য দিয়ে দিতেন। এমনিভাবে তারা দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।

 

কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ জানায়, প্রতারক ধরার খবর পেয়ে তাদের একটি টিম সেখানে গিয়েছিল। কিন্তু নারী নগদ ২৩ হাজার টাকা পরিশোধ করার পাশাপাশি মুচলেকা দিয়েছেন বাকি টাকা এক লাখ টাকা এক মাসের মধ্যে দেবেন। ফলে তার বিরুদ্ধে শোরুম কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ না দেওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

 

এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাকিব হোসেন জানান, নারী যে সেনাবাহিনী কর্মকর্তার স্ত্রী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে মোটরসাইকেল নিয়েছেন সেই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে গেছে। কিন্তু শোরুম কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে রাজি না হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়নি।  সূএ:ঢাকাটাইম ডটকম

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com