মেডিকেলের অব্যবস্থাপনায় বেপরোয়া বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র

ফরিদপুরে অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপনে মানা হচ্ছে না আইন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালের সামনে ও আশেপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বেতনভুক্ত ‘দালালরা’ সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে নিচ্ছে।

 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, ফরিদপুর জেলায় প্রায় ৩ শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে জেলা শহরেই রয়েছে শতাধিক প্রতিষ্ঠান। যাদের অনেকেরই অনুমোদন নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, অনেকে এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আবেদন করে অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই চালু করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে জরিমানা ও সিলগালা করার পরও লাগাম টানা যাচ্ছে না।

 

এদিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (বিএসএমএমসি) অব্যবস্থাপনায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ‘৩৭ লাখ টাকায় এক সেট পর্দা’ কাণ্ডে দেশব্যাপী সমালোচিত এই হাসপাতালে নানা সঙ্কট রয়েছে। হাসপাতালের ৭০ জন ক্লিনার গত সাত মাস বেতন পায় না। এতে পুরো হাসপাতাল পরিষ্কারের অভাবে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে।

 

বিএসএমএমসি প্রতিষ্ঠার পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা লাভের সুযোগ পান স্থানীয়রা। মেডিকেল কলেজ হওয়ায় দেশখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা মেলে এই হাসপাতালে। হাসপাতালটি চিকিৎসা সেবায় বিরাট অবদানও রেখে চলেছে। তবে অব্যবস্থাপনায় কমছে না ভোগান্তি।

হাসপাতালের তথ্য মতে, গত এক বছরে বহির্বিভাগে এক লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি রোগী এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৪৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

৫১৭ বেডের হাসপাতালটিতে প্রয়োজনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসকও নেই। নার্স, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ও আয়াসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদও শূন্য। হাসপাতালটিতে মাস্টার রোলের কর্মচারী ও দালালদের দৌরাত্ম্যের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এজন্য সামর্থ্যবানরা ছুটছেন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। কিন্তু সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার মানের উন্নয়ন হচ্ছে না।

zz

হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে চিকিৎসকদের মঞ্জুরিকৃত প্রথম শ্রেণির ১৮৪টি পদ রয়েছে যার মধ্যে ১১৯টি পদই শূন্য। ৬৫ জন রয়েছেন যাদের প্রায় সবাই প্রাইভেটভাবেও রোগী দেখেন। মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং নার্সরাই সময়-অসময়ে ভরসা বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

 

হাসপাতালে নার্স, ওয়ার্ড বয়, আয়া ও ক্লিনারের পদ রয়েছে ৪২৫টি। যার মধ্যে ২৯টি রয়েছে শূন্য। এসব পদে শূন্যতা এবং কর্মরতরা নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

 

দু’টি ভবনেই রয়েছে জরুরি বিভাগ। এক ভবনের জরুরি বিভাগে গেলে রোগীদের অন্য ভবনে যেতে বলা হয়। জরুরি বিভাগে পাওয়া যায় না কোনো সাহায্যকারী। ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যস্ত থাকেন। ফলে স্বজনরাই হুইল চেয়ার জোগাড় করে রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে যান। টাকা ছাড়া রোগীর স্ট্রেচার টানেও না কর্মচারীরা। রোগীকে এক্সরে বা অন্য কোনো পরীক্ষা-নীরিক্ষা বা বেড থেকে স্থানান্তরও করেন স্বজনরা। স্বজন না থাকলে বিনা চিকিৎসায় কাতরায় অনেকে।

 

এসব স্বজনহারা রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে ফরিদপুরে বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠেছে। তবে অসুস্থ রোগীরা তাদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগও করতে পারে না। অফিস সময়ের পরে হাসপাতালের এক্সরে, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকায় দুপুরের পরে রোগীদের এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয় হাসপাতালের বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে।

 

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুর রহমান বলেছিলেন, ‘নভেম্বরের মধ্যেই টেন্ডার করা হবে। তারা চিঠি দিয়েছেন।’

তবে চলতি বছরের প্রায় ৩ মাস চলে গেলেও এসব টেন্ডার হয়নি। হাসপাতালে কোটি কোটি টাকায় কেনা মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম অকেজো পড়ে আছে। পরিচালকের দাবি, মামলা থাকায় মেরামত করা যাচ্ছে না।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালটিতে মেডিসিন, রেসপিরেটরি মেডিসিন, সাইকিয়াট্রি, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি, ডার্মাটোলজি, নিউরোলজি, কার্ডিওলজি, সিসিইউ, ইএনটি, চক্ষু, শিশু, গাইনি অ্যান্ড অবস, ক্যাজুয়ালিটি, অর্থো-সার্জারি, শিশু সার্জারি ইউরোলজি, নিউরোসার্জারি, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি এবং নেফ্রোলজি ওয়ার্ডের পাঁচশো বেড রয়েছে। তবে এসব ওয়ার্ডের বেশিরভাগেরই চিকিৎসক নেই।

ffb

অন্যদিকে শহরের আনাচে-কানাচে বেপরোয়াভাবে গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে বিএসএমএমসি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদপদবি ব্যবহার করে বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়।

সম্প্রতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের সময় এক নবজাতকের কপাল কেটে ফেলা হয়। এর মাত্র ক’দিন পর আরেক নবজাতকের হাতের হাড় ভেঙে ফেলা হয়। তার আগে এই হাসপাতালে দেড় বছর আগে অপারেশন করা এক গৃহবধূর পেট থেকে অপারেশনের গজ আটকে রাখার কাঁচিও পাওয়া যায়। এসব ঘটনার শিকার রোগীদের জীবন এখন বিপন্ন। এ অবস্থায় সরকার হাসপাতালে রোগীদের সুবিধার্থে নানামুখী উদ্যোগ নিলেও জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

 

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসাদুল্লাহ বলেন, এই হাসপাতালের ৭০ জন ক্লিনার গত সাত মাস বেতন পায় না। এ কারণে কাজের ব্যাপারে আমরা বাধ্য করতে পারছি না। কী কারণে তারা বেতন পাচ্ছেন না তা জানা যায়নি।

 

এ বিষয়ে ফরিদপুরের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আব্দুল জলিল জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা। যখন একজন রোগী আসবে তখন প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্স উপস্থিত থাকবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্য শর্তাদি মানতে হবে। যেসকল প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ নিয়ম মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবো। আমরা এসব বিষয় তদন্ত করে দেখবো।

 

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, অনেক সময় অনুমোদনের আবেদন করার পর অপেক্ষায় না থেকেই এসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করে দেওয়া হয়। আমরা বিভিন্ন সময় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও অনেক ক্ষেত্রে সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেই।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এই হাসপাতালে শুধু ফরিদপুরই নয়, অত্রাঞ্চলের রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। যে কারণে রোগীদের প্রচণ্ড ভিড় রয়েছে। সেই অনুপাতে আমাদের জনবল নেই। এ সমস্যা নিরসনের জন্য বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কেউ গেলে আমরা তাদের বাধা দিতে পারি না।   সূএ:জাগোনিউজ২৪.কম

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জুনেই পাওয়া যাবে আইএমএফের তৃতীয় কিস্তির টাকা: অর্থমন্ত্রী

» মরদেহ উদ্ধারে কলকাতা পুলিশকে সহযোগিতা করব : ডিবি প্রধান

» কী চমক নিয়ে আসছে স্যামসাং গ্যালাক্সি রিং?

» ‘সন্ধ্যা থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বঙ্গবন্ধু টানেল’

» সাংবাদিক হেনস্তার ব্যাপারে আমরা সতর্ক আছি : কাদের

» ব্যাটারিচালিত রিকশাচালককে হত্যা

» বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অপরাধে ২২জন গ্রেপ্তার

» একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন শুরু

» আইপিএল ফাইনালে আজ মুখোমুখি কলকাতা-হায়দরাবাদ

» চাঁদপুর-ঢাকা রুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মেডিকেলের অব্যবস্থাপনায় বেপরোয়া বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র

ফরিদপুরে অনুমোদন ছাড়াই একের পর এক গড়ে উঠছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপনে মানা হচ্ছে না আইন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতালের সামনে ও আশেপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে উঠেছে এসব হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। আর এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত বেতনভুক্ত ‘দালালরা’ সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে নিচ্ছে।

 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মতে, ফরিদপুর জেলায় প্রায় ৩ শতাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে জেলা শহরেই রয়েছে শতাধিক প্রতিষ্ঠান। যাদের অনেকেরই অনুমোদন নেই।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, অনেকে এসব প্রতিষ্ঠান স্থাপনের আবেদন করে অনুমোদনের অপেক্ষা না করেই চালু করে দিচ্ছেন। বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে জরিমানা ও সিলগালা করার পরও লাগাম টানা যাচ্ছে না।

 

এদিকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (বিএসএমএমসি) অব্যবস্থাপনায় সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ‘৩৭ লাখ টাকায় এক সেট পর্দা’ কাণ্ডে দেশব্যাপী সমালোচিত এই হাসপাতালে নানা সঙ্কট রয়েছে। হাসপাতালের ৭০ জন ক্লিনার গত সাত মাস বেতন পায় না। এতে পুরো হাসপাতাল পরিষ্কারের অভাবে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে।

 

বিএসএমএমসি প্রতিষ্ঠার পর বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসা সেবা লাভের সুযোগ পান স্থানীয়রা। মেডিকেল কলেজ হওয়ায় দেশখ্যাত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের চিকিৎসা মেলে এই হাসপাতালে। হাসপাতালটি চিকিৎসা সেবায় বিরাট অবদানও রেখে চলেছে। তবে অব্যবস্থাপনায় কমছে না ভোগান্তি।

হাসপাতালের তথ্য মতে, গত এক বছরে বহির্বিভাগে এক লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি রোগী এবং অন্তর্বিভাগে প্রায় ৪৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

৫১৭ বেডের হাসপাতালটিতে প্রয়োজনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ চিকিৎসকও নেই। নার্স, ওয়ার্ড বয়, ক্লিনার ও আয়াসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদও শূন্য। হাসপাতালটিতে মাস্টার রোলের কর্মচারী ও দালালদের দৌরাত্ম্যের শিকার হচ্ছেন রোগীরা। এজন্য সামর্থ্যবানরা ছুটছেন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। কিন্তু সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার মানের উন্নয়ন হচ্ছে না।

zz

হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে চিকিৎসকদের মঞ্জুরিকৃত প্রথম শ্রেণির ১৮৪টি পদ রয়েছে যার মধ্যে ১১৯টি পদই শূন্য। ৬৫ জন রয়েছেন যাদের প্রায় সবাই প্রাইভেটভাবেও রোগী দেখেন। মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসক এবং নার্সরাই সময়-অসময়ে ভরসা বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

 

হাসপাতালে নার্স, ওয়ার্ড বয়, আয়া ও ক্লিনারের পদ রয়েছে ৪২৫টি। যার মধ্যে ২৯টি রয়েছে শূন্য। এসব পদে শূন্যতা এবং কর্মরতরা নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলে জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

 

দু’টি ভবনেই রয়েছে জরুরি বিভাগ। এক ভবনের জরুরি বিভাগে গেলে রোগীদের অন্য ভবনে যেতে বলা হয়। জরুরি বিভাগে পাওয়া যায় না কোনো সাহায্যকারী। ওয়ার্ড বয় ও আয়ারা বিভিন্ন ওয়ার্ডে ব্যস্ত থাকেন। ফলে স্বজনরাই হুইল চেয়ার জোগাড় করে রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে যান। টাকা ছাড়া রোগীর স্ট্রেচার টানেও না কর্মচারীরা। রোগীকে এক্সরে বা অন্য কোনো পরীক্ষা-নীরিক্ষা বা বেড থেকে স্থানান্তরও করেন স্বজনরা। স্বজন না থাকলে বিনা চিকিৎসায় কাতরায় অনেকে।

 

এসব স্বজনহারা রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে ফরিদপুরে বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে উঠেছে। তবে অসুস্থ রোগীরা তাদের সঙ্গে সবসময় যোগাযোগও করতে পারে না। অফিস সময়ের পরে হাসপাতালের এক্সরে, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকায় দুপুরের পরে রোগীদের এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হয় হাসপাতালের বাইরের প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে।

 

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. সাইফুর রহমান বলেছিলেন, ‘নভেম্বরের মধ্যেই টেন্ডার করা হবে। তারা চিঠি দিয়েছেন।’

তবে চলতি বছরের প্রায় ৩ মাস চলে গেলেও এসব টেন্ডার হয়নি। হাসপাতালে কোটি কোটি টাকায় কেনা মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম অকেজো পড়ে আছে। পরিচালকের দাবি, মামলা থাকায় মেরামত করা যাচ্ছে না।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, হাসপাতালটিতে মেডিসিন, রেসপিরেটরি মেডিসিন, সাইকিয়াট্রি, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রারোলজি, ডার্মাটোলজি, নিউরোলজি, কার্ডিওলজি, সিসিইউ, ইএনটি, চক্ষু, শিশু, গাইনি অ্যান্ড অবস, ক্যাজুয়ালিটি, অর্থো-সার্জারি, শিশু সার্জারি ইউরোলজি, নিউরোসার্জারি, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি এবং নেফ্রোলজি ওয়ার্ডের পাঁচশো বেড রয়েছে। তবে এসব ওয়ার্ডের বেশিরভাগেরই চিকিৎসক নেই।

ffb

অন্যদিকে শহরের আনাচে-কানাচে বেপরোয়াভাবে গজিয়ে ওঠা প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে বিএসএমএমসি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদপদবি ব্যবহার করে বড় বড় সাইনবোর্ড ঝুলতে দেখা যায়।

সম্প্রতি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত একটি প্রাইভেট হাসপাতালে সিজারের সময় এক নবজাতকের কপাল কেটে ফেলা হয়। এর মাত্র ক’দিন পর আরেক নবজাতকের হাতের হাড় ভেঙে ফেলা হয়। তার আগে এই হাসপাতালে দেড় বছর আগে অপারেশন করা এক গৃহবধূর পেট থেকে অপারেশনের গজ আটকে রাখার কাঁচিও পাওয়া যায়। এসব ঘটনার শিকার রোগীদের জীবন এখন বিপন্ন। এ অবস্থায় সরকার হাসপাতালে রোগীদের সুবিধার্থে নানামুখী উদ্যোগ নিলেও জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

 

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আসাদুল্লাহ বলেন, এই হাসপাতালের ৭০ জন ক্লিনার গত সাত মাস বেতন পায় না। এ কারণে কাজের ব্যাপারে আমরা বাধ্য করতে পারছি না। কী কারণে তারা বেতন পাচ্ছেন না তা জানা যায়নি।

 

এ বিষয়ে ফরিদপুরের প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. আব্দুল জলিল জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিটি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনিস্টক সেন্টার সরকারের নিয়ম অনুযায়ী পরিচালিত হওয়ার কথা। যখন একজন রোগী আসবে তখন প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্স উপস্থিত থাকবে। সেখানে প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও নার্সসহ অন্যান্য শর্তাদি মানতে হবে। যেসকল প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এ নিয়ম মানবে না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবো। আমরা এসব বিষয় তদন্ত করে দেখবো।

 

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, অনেক সময় অনুমোদনের আবেদন করার পর অপেক্ষায় না থেকেই এসব প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করে দেওয়া হয়। আমরা বিভিন্ন সময় এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও অনেক ক্ষেত্রে সেসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেই।

 

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. সাইফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এই হাসপাতালে শুধু ফরিদপুরই নয়, অত্রাঞ্চলের রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। যে কারণে রোগীদের প্রচণ্ড ভিড় রয়েছে। সেই অনুপাতে আমাদের জনবল নেই। এ সমস্যা নিরসনের জন্য বিভিন্ন সময়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কেউ গেলে আমরা তাদের বাধা দিতে পারি না।   সূএ:জাগোনিউজ২৪.কম

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com