মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অনলাইনে জলমহাল ইজারা শুরু

মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অনলাইনে পাওয়া আবেদনে জলমহাল ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থা জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও চালুর নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

 

বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত কমিটির ৬৭তম সভায় প্রথম অনলাইনে সরকারি জলমহাল ইজারার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসময় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয় অনলাইনে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে জলমহাল ইজারার আবেদন দাখিলের সুবিধা চালু করে। এখন land.gov.bd ভূমিসেবা কাঠামো থেকে বা সরাসরি jm.lams.gov.bd ওয়েব পোর্টালে গিয়ে জলমহাল ইজারার জন্য আবেদন দাখিল করা যাচ্ছে।

 

এছাড়া, জলমহাল ইজারার আবেদন অনলাইনে দাখিল এবং ইজারা প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য এই ওয়েবপোর্টাল থেকেই জানা যাচ্ছে। সাধারণত ২০ একরের বেশি সরকারি জলমহাল ইজারার অনুমোদন মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দেওয়া হয়ে থাকে।

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সভায় উপস্থাপিত ইজারা আবেদনের শতভাগই অনলাইনের মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছে। অনলাইনে জলমহাল ইজারার আবেদন দাখিল করার কারণে মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা ইজারা প্রক্রিয়ার নানাবিধ জটিলতা এড়াতে পেরেছেন। এছাড়া এ সম্পর্কিত যাতায়াত কমে যাওয়ায় সমিতির সদস্য মৎস্যজীবীদের অনেক অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।

 

১৪২৯-১৪৩৪ বঙ্গাব্দ মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পে জলমহাল ইজারার জন্য বিভিন্ন জেলার ৪৬৮টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড অনলাইনে আবেদন দাখিল করে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, গাইবান্ধা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ এবং কিশোরগঞ্জ জেলার মোট ৫৫টি প্রস্তাব ও বিবিধ ৩টি প্রস্তাব সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়।

 

যাচাই-বাছাই করে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন ও অন্যান্য সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকারি জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত কমিটি ইজারার অনুমোদন দেয়।

 

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা ও উপজেলায় সাধারণ আবেদনে জলমহাল ইজারার আবেদন দাখিলের বিধান প্রবর্তন করা হলে জলমহাল ইজারার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ সকলেই উপকৃত হবে।

 

বিল, হাওর, বাওর, নিম্ন জলাভূমি ও নদ-নদীতে মৎস্য আহরণের এলাকাকে জলমহাল বলা হয়। এক হিসাব মতে ছোট-বড় মিলিয়ে দেশের জলমহালের সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এসব ইজারা দিয়ে বছরে প্রায় শতকোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। বেশ কয়েকটি জলমহাল ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে ইজারাহীন রাখা হয়েছে।

 

এর মধ্যে রয়েছে- দিনাজপুরের রামসাগর, সিরাজগঞ্জের হুরাসাগর। মাছ সংগ্রহের অভয়াশ্রম ঘোষিত জলমহালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওডর, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওড় ইত্যাদি।

 

সভায় ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আব্বাছ উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (সায়রাত) মুহাম্মদ সালেহউদ্দীনসহ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়াও ইজারার জন্য প্রস্তাবিত জলমহাল সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক এবং তাদের প্রতিনিধি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজ-নিজ জেলা থেকে সভায় যুক্ত ছিলেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বাংলাদেশ যেন দুর্ভিক্ষের কবলে না পড়ে: সচিবদের প্রধানমন্ত্রী

» ২ মিনিটেই গোল দিয়ে শুরু করলো কানাডা

» শেখ হাসিনা কখনো বলেননি জোর করে ক্ষমতায় থাকবেন: শাজাহান খান

» সরকার ও জনগণের সম্পত্তি হেফাজত করতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

» বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা দেশের মানুষকে তাদের প্রজা বানাতে চায়: আইনমন্ত্রী

» মানুষের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম: শিক্ষামন্ত্রী

» দুই ক্যাটাগরিতে ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ পেল নগদ

» কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে থামাতে পারবে না -ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

» নারায়ণগঞ্জে কবিতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

» বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না: রওশন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অনলাইনে জলমহাল ইজারা শুরু

মন্ত্রণালয় পর্যায়ে অনলাইনে পাওয়া আবেদনে জলমহাল ইজারা দেওয়া শুরু হয়েছে। এই ব্যবস্থা জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও চালুর নির্দেশ দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

 

বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত কমিটির ৬৭তম সভায় প্রথম অনলাইনে সরকারি জলমহাল ইজারার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসময় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী।

গত বছরের ১৫ নভেম্বর জারি করা এক পরিপত্রের মাধ্যমে ভূমি মন্ত্রণালয় অনলাইনে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে জলমহাল ইজারার আবেদন দাখিলের সুবিধা চালু করে। এখন land.gov.bd ভূমিসেবা কাঠামো থেকে বা সরাসরি jm.lams.gov.bd ওয়েব পোর্টালে গিয়ে জলমহাল ইজারার জন্য আবেদন দাখিল করা যাচ্ছে।

 

এছাড়া, জলমহাল ইজারার আবেদন অনলাইনে দাখিল এবং ইজারা প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য এই ওয়েবপোর্টাল থেকেই জানা যাচ্ছে। সাধারণত ২০ একরের বেশি সরকারি জলমহাল ইজারার অনুমোদন মন্ত্রণালয় পর্যায়ে দেওয়া হয়ে থাকে।

 

ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সভায় উপস্থাপিত ইজারা আবেদনের শতভাগই অনলাইনের মাধ্যমে দাখিল করা হয়েছে। অনলাইনে জলমহাল ইজারার আবেদন দাখিল করার কারণে মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা ইজারা প্রক্রিয়ার নানাবিধ জটিলতা এড়াতে পেরেছেন। এছাড়া এ সম্পর্কিত যাতায়াত কমে যাওয়ায় সমিতির সদস্য মৎস্যজীবীদের অনেক অর্থ সাশ্রয় হয়েছে।

 

১৪২৯-১৪৩৪ বঙ্গাব্দ মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পে জলমহাল ইজারার জন্য বিভিন্ন জেলার ৪৬৮টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড অনলাইনে আবেদন দাখিল করে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, গাইবান্ধা, রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ এবং কিশোরগঞ্জ জেলার মোট ৫৫টি প্রস্তাব ও বিবিধ ৩টি প্রস্তাব সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়।

 

যাচাই-বাছাই করে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন ও অন্যান্য সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকারি জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত কমিটি ইজারার অনুমোদন দেয়।

 

ভূমিমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা ও উপজেলায় সাধারণ আবেদনে জলমহাল ইজারার আবেদন দাখিলের বিধান প্রবর্তন করা হলে জলমহাল ইজারার ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিসহ সকলেই উপকৃত হবে।

 

বিল, হাওর, বাওর, নিম্ন জলাভূমি ও নদ-নদীতে মৎস্য আহরণের এলাকাকে জলমহাল বলা হয়। এক হিসাব মতে ছোট-বড় মিলিয়ে দেশের জলমহালের সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এসব ইজারা দিয়ে বছরে প্রায় শতকোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়। বেশ কয়েকটি জলমহাল ঐতিহ্যবাহী ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে ইজারাহীন রাখা হয়েছে।

 

এর মধ্যে রয়েছে- দিনাজপুরের রামসাগর, সিরাজগঞ্জের হুরাসাগর। মাছ সংগ্রহের অভয়াশ্রম ঘোষিত জলমহালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সুনামগঞ্জের টাংগুয়ার হাওডর, মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওড় ইত্যাদি।

 

সভায় ভূমি সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আব্বাছ উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (সায়রাত) মুহাম্মদ সালেহউদ্দীনসহ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছাড়াও ইজারার জন্য প্রস্তাবিত জলমহাল সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক এবং তাদের প্রতিনিধি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নিজ-নিজ জেলা থেকে সভায় যুক্ত ছিলেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com