নতুন বাবা-মায়ের জন্য আর্থিক প্রস্তুতি

৩৬ বছর বয়সে প্রথম বাবা হয়েছেন। এখন তার সন্তানের বয়স পাঁচ বছর। রাজশাহী থেকে রাজধানীতে এসে থিতু হন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই।

 

তারপর থেকে জীবনের প্রায় সবটাই কাটিয়েছেন এই শহরেই। পেশায় তিনি হিসাবরক্ষক, অর্থ ব্যবস্থাপনাই তার জীবিকার ভিত্তি।

তবুও প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার পর ওই অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েই খেই হারানো অবস্থা হয় আব্দুল আওয়ালের।

 

আওয়াল বলেন, “পরিবারে নতুন সদস্য সবার জন্যই আনন্দের জোয়ার বয়ে আনে। তবে সঙ্গে আসে অনেকগুলো নতুন খরচ খাত। যার জন্য প্রস্তুত থাকা হয়ত কখনই সম্ভব নয়।”

 

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপ শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নয় আর্থিক অবস্থার ওপরেও পড়েছে। গত দুই বছরে উপার্জনের নানান চড়াই উৎরাই পার হয়েছেন আব্দুল আওয়াল।

 

তিনি বলেন, “মহামারির আগে যতটুকু উপার্জন ছিল, আজও উপার্জন তার তুলনায় কিছুটা কমই। তারপরও জীবন থেমে নেই। সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজেদের অবসর আর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তাও থেমে থাকবে না। সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে আমার সন্তান জীবনে যে পথেই পা বাড়াক না কেনো, আর্থিক দিক থেকে তাকে যেনো সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে পারি।

 

তিনি আরও বলেন, “এখন চিন্তা হয় নিজেদের অবসরের সঞ্চয় পরিকল্পনাটা হয়ত কিছুটা পিছিয়ে পড়বে। প্রয়োজনীয় খরচ কিংবা বেড়াতে যাওয়ার মতো বিনোদনভিত্তিক খরচগুলো সঞ্চিত অর্থের ওপর ভাগ বসাতে পারে। আবার ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বর্তমানকে উপভোগ করতে যেন ভুলে না যাই, এই বিষয়টা নিয়েও দ্বন্দ্বে ভুগি অনেক সময়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফাইন্যান্সিয়াল এডুকেশন’-বিষয়ক সংস্থা ‘দ্য ব্রোকব্ল্যাকগার্ল ডটকম’য়ের প্রতিষ্ঠাতা দাশা কেনেডি বলেন, “নতুন বাবা-মায়ের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য আদর্শ নীতি হতে পারে ‘জিরো-বেইজড বাজেটিং’। ধরা যাক, আপনি মাসের সকল খরচের হিসাব করলেন। এবার পরিবারের সকল উপার্জনের হিসাব করলেন। সকল উপার্জন একত্রিক মাসিক খরচগুলোর জন্য অর্থ আলাদা করার পর দেখা গেল আপনার হাতে দুই হাজার টাকা আছে বাড়তি। এই বাড়তি টাকাটা আপনি কী করবেন সেটাই হবে ‘জিরো-বেজড বাজেটিং’য়ের প্রশ্ন।

 

দি রিয়েল সিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো না কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রশ্ন আসতেই থাকবে। এই বাড়তি অর্থ আপনি সঞ্চয় করতে পারেন, সন্তানের লেখাপড়ার জন্য সরিয়ে রাখতে পারেন, ঋণ থাকলে সেগুলো আগেই শোধ করায় ব্যবহার করতে পারেন, এমন অনেক কিছু থাকতে পারে। এভাবে আপনার সকল অর্থের একটা নির্দিষ্ট খরচের উদ্দেশ্য থাকবে।

 

কেনেডি আরও বলেন, “বেশিরভাগ বাবা-মা খরচকে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সাজানোর ক্ষেত্রে সন্তানের শিক্ষার ওপর বেশি প্রাধান্য দেন। তবে সন্তানের শিক্ষা খাতে যে খরচটা হয়ত এক বছর পরে হবে তার জন্য সঞ্চয় করতে গিয়ে যে খরচটা আপনাকে এক মাস পরেই করতে হবে সেখানে ঘাটতি রাখলে হিসাব কখনই মিলবে না।

 

যারা সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছেন তাদের পরিকল্পনার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে ঋণের বোঝা আয়ত্বে আনা এবং খরচের লাগাম টানা।

 

কেনেডি বলেন, “সন্তান নেওয়ার কথা যখন ভাববেন তখন নিজের খরচের যে পরিকল্পনাগুলো করেছিলেন তার সবই ওলটপালট হয়ে যাবে। আপনার প্রয়োজনীয়তাগুলোও বদলাবে।

 

সন্তানের জন্য খরচ করেই বাবা-মা হিসেবে আর্থিক দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদেরকেও অর্থ ব্যবস্থাপনার শিক্ষা দিতে হবে।

 

কেনেডি বলেন, “সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার উপার্জন না থাকলেও পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনাগুলোতে তাকে সঙ্গে রাখা উচিত। এতে আপনার সন্তান নিজের প্রয়োজনের আগে পরিবারের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিতে শিখবে আপনার কাছ থেকেই।

“মৌখিক শিক্ষা দিতেই পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত যখন সন্তানের কাঁধে অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পড়বে তখন সে আপনার দেওয়া মৌখিক শিক্ষা অনুযায়ী নয়, আপনি পরিবারের জন্য যেভাবে অর্থ নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন সেই পদাঙ্কই অনুসরণ করবে। অর্থাৎ সন্তানকে আর্থিক দিক থেকে দায়িত্বশীল করতে হলে বাবা-মা’কে দায়িত্বশীল হতে হবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বাংলাদেশ যেন দুর্ভিক্ষের কবলে না পড়ে: সচিবদের প্রধানমন্ত্রী

» ২ মিনিটেই গোল দিয়ে শুরু করলো কানাডা

» শেখ হাসিনা কখনো বলেননি জোর করে ক্ষমতায় থাকবেন: শাজাহান খান

» সরকার ও জনগণের সম্পত্তি হেফাজত করতে হবে: ডিএমপি কমিশনার

» বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা দেশের মানুষকে তাদের প্রজা বানাতে চায়: আইনমন্ত্রী

» মানুষের অধিকার আদায়ের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের জন্ম: শিক্ষামন্ত্রী

» দুই ক্যাটাগরিতে ‘মাস্টারকার্ড এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০২২’ পেল নগদ

» কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে থামাতে পারবে না -ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

» নারায়ণগঞ্জে কবিতা বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত 

» বিএনপির সঙ্গে জোটের প্রশ্নই আসে না: রওশন

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

নতুন বাবা-মায়ের জন্য আর্থিক প্রস্তুতি

৩৬ বছর বয়সে প্রথম বাবা হয়েছেন। এখন তার সন্তানের বয়স পাঁচ বছর। রাজশাহী থেকে রাজধানীতে এসে থিতু হন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতেই।

 

তারপর থেকে জীবনের প্রায় সবটাই কাটিয়েছেন এই শহরেই। পেশায় তিনি হিসাবরক্ষক, অর্থ ব্যবস্থাপনাই তার জীবিকার ভিত্তি।

তবুও প্রথম সন্তানের বাবা হওয়ার পর ওই অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েই খেই হারানো অবস্থা হয় আব্দুল আওয়ালের।

 

আওয়াল বলেন, “পরিবারে নতুন সদস্য সবার জন্যই আনন্দের জোয়ার বয়ে আনে। তবে সঙ্গে আসে অনেকগুলো নতুন খরচ খাত। যার জন্য প্রস্তুত থাকা হয়ত কখনই সম্ভব নয়।”

 

করোনাভাইরাস মহামারীর প্রকোপ শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নয় আর্থিক অবস্থার ওপরেও পড়েছে। গত দুই বছরে উপার্জনের নানান চড়াই উৎরাই পার হয়েছেন আব্দুল আওয়াল।

 

তিনি বলেন, “মহামারির আগে যতটুকু উপার্জন ছিল, আজও উপার্জন তার তুলনায় কিছুটা কমই। তারপরও জীবন থেমে নেই। সংসার চালানোর পাশাপাশি নিজেদের অবসর আর ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তাও থেমে থাকবে না। সঙ্গে এটাও নিশ্চিত করতে হবে যে আমার সন্তান জীবনে যে পথেই পা বাড়াক না কেনো, আর্থিক দিক থেকে তাকে যেনো সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে পারি।

 

তিনি আরও বলেন, “এখন চিন্তা হয় নিজেদের অবসরের সঞ্চয় পরিকল্পনাটা হয়ত কিছুটা পিছিয়ে পড়বে। প্রয়োজনীয় খরচ কিংবা বেড়াতে যাওয়ার মতো বিনোদনভিত্তিক খরচগুলো সঞ্চিত অর্থের ওপর ভাগ বসাতে পারে। আবার ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে গিয়ে বর্তমানকে উপভোগ করতে যেন ভুলে না যাই, এই বিষয়টা নিয়েও দ্বন্দ্বে ভুগি অনেক সময়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফাইন্যান্সিয়াল এডুকেশন’-বিষয়ক সংস্থা ‘দ্য ব্রোকব্ল্যাকগার্ল ডটকম’য়ের প্রতিষ্ঠাতা দাশা কেনেডি বলেন, “নতুন বাবা-মায়ের অর্থ ব্যবস্থাপনার জন্য আদর্শ নীতি হতে পারে ‘জিরো-বেইজড বাজেটিং’। ধরা যাক, আপনি মাসের সকল খরচের হিসাব করলেন। এবার পরিবারের সকল উপার্জনের হিসাব করলেন। সকল উপার্জন একত্রিক মাসিক খরচগুলোর জন্য অর্থ আলাদা করার পর দেখা গেল আপনার হাতে দুই হাজার টাকা আছে বাড়তি। এই বাড়তি টাকাটা আপনি কী করবেন সেটাই হবে ‘জিরো-বেজড বাজেটিং’য়ের প্রশ্ন।

 

দি রিয়েল সিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি আরও বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো না কোনো কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রশ্ন আসতেই থাকবে। এই বাড়তি অর্থ আপনি সঞ্চয় করতে পারেন, সন্তানের লেখাপড়ার জন্য সরিয়ে রাখতে পারেন, ঋণ থাকলে সেগুলো আগেই শোধ করায় ব্যবহার করতে পারেন, এমন অনেক কিছু থাকতে পারে। এভাবে আপনার সকল অর্থের একটা নির্দিষ্ট খরচের উদ্দেশ্য থাকবে।

 

কেনেডি আরও বলেন, “বেশিরভাগ বাবা-মা খরচকে প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সাজানোর ক্ষেত্রে সন্তানের শিক্ষার ওপর বেশি প্রাধান্য দেন। তবে সন্তানের শিক্ষা খাতে যে খরচটা হয়ত এক বছর পরে হবে তার জন্য সঞ্চয় করতে গিয়ে যে খরচটা আপনাকে এক মাস পরেই করতে হবে সেখানে ঘাটতি রাখলে হিসাব কখনই মিলবে না।

 

যারা সন্তান নেওয়ার কথা ভাবছেন তাদের পরিকল্পনার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হবে ঋণের বোঝা আয়ত্বে আনা এবং খরচের লাগাম টানা।

 

কেনেডি বলেন, “সন্তান নেওয়ার কথা যখন ভাববেন তখন নিজের খরচের যে পরিকল্পনাগুলো করেছিলেন তার সবই ওলটপালট হয়ে যাবে। আপনার প্রয়োজনীয়তাগুলোও বদলাবে।

 

সন্তানের জন্য খরচ করেই বাবা-মা হিসেবে আর্থিক দায়িত্ব শেষ হয় না। তাদেরকেও অর্থ ব্যবস্থাপনার শিক্ষা দিতে হবে।

 

কেনেডি বলেন, “সন্তান প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তার উপার্জন না থাকলেও পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনাগুলোতে তাকে সঙ্গে রাখা উচিত। এতে আপনার সন্তান নিজের প্রয়োজনের আগে পরিবারের প্রয়োজনকে প্রাধান্য দিতে শিখবে আপনার কাছ থেকেই।

“মৌখিক শিক্ষা দিতেই পারেন। তবে শেষ পর্যন্ত যখন সন্তানের কাঁধে অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পড়বে তখন সে আপনার দেওয়া মৌখিক শিক্ষা অনুযায়ী নয়, আপনি পরিবারের জন্য যেভাবে অর্থ নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন সেই পদাঙ্কই অনুসরণ করবে। অর্থাৎ সন্তানকে আর্থিক দিক থেকে দায়িত্বশীল করতে হলে বাবা-মা’কে দায়িত্বশীল হতে হবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com