ওয়াল্টন ঝড়ে চট্টগ্রামের বিশাল সংগ্রহ

পেটের অসুখের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই ছিটকে গেছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা উইল জ্যাকস। তবে তার অভাব বুঝতে দেননি চ্যাডউইক ওয়াল্টন। এই ক্যারিবীয় তারকার উত্তাল ব্যাটে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে ১৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

 

পরাজয় এড়িয়ে আসরের ফাইনাল খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে খুলনাকে করতে হবে ১৯০ রান। নিজেদের শেষ ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল দলটি। আজকের ম্যাচে ছাড়িয়ে যেতে হবে সেটিকেও, গড়তে হবে চলতি আসরে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

চট্টগ্রামকে রানপাহাড়ে তোলার পথে সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন ওয়াল্টন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকতে হয়েছে তাকে। খুলনার বোলারদেরকে ৭টি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়েছেন এ ক্যারিবীয় ব্যাটার। এছাড়া মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬ রান।

 

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তস জিতে চট্টগ্রামকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল খুলনা। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই একটি করে চার-ছক্কা হাঁকান জ্যাকসের জায়গায় একাদশে ফেরা কেনার লুইস। তবে ওভারের শেষ বলে আরেক ওপেনার জাকির হাসানকে ফিরিয়ে দেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ।

 

এক ওভার পর অধিনায়ক আফিফ হোসেন ধ্রুবর উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। রুয়েল মিয়ার বলে পুল খেলতে গিয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ৩ রান করা আফিফ। শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর ফলে থেমে যায় রানের চাকা। প্রথম পাওয়ার প্লে’তে দু উইকেটের বিনিময়ে আসে মাত্র ৩৯ রান।

 

ইনিংসের অষ্টম ওভারের প্রথম দুই বলে চার-ছয় হাঁকিয়ে দলীয় পঞ্চাশ পূরণ করেন কেনার। তবে পরের ওভারেই তার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন নাবিল সামাদ। লেগ বিফোর আউট হওয়ার আগে ৪ চার ও ২ ছয়ের মারে ৩২ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন কেনার লুইস। ঠিক পরের ওভারে আউট হন ৭ বলে ১০ রান করা শামীম পাটোয়ারীও।

যার ফলে দশ ওভার শেষে চট্টগ্রামের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে মাত্র ৬৬ রান। সেখান থেকে শেষ ১০ ওভারে আরও ১২৩ রান পায় দলটি। যার মূল কৃতিত্ব ওয়াল্টনের। তার সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে পার্শ্বনায়কের ভূমিকা পালন করেন মেহেদি মিরাজ। এ দুজন মিলে মাত্র ৯.৪ ওভারে ১১৫ রানের জুটি গড়েন। যা দলকে এনে দেয় বিশাল সংগ্রহের ভিত।

 

১৫তম ওভারে রুয়েল মিয়ার চার বলে যথাক্রমে ৪, ৪, ৬ ও ৪ মেরে মাত্র ২৮ বলে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি পূরণ করেন ওয়াল্টন। এরপর খেলা ১৬ বলে আরও ৩৯ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটার। ইনিংসের ১৯তম ওভার শেষে ওয়াল্টনের নামের পাশে ছিল ৮৮ রান।

 

কিন্তু শেষ ওভারে তিনি স্ট্রাইক পান মাত্র একটি বল। সেখানে সিঙ্গেল নিয়ে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়াল্টন। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হওয়ার ২ চার ও ১ ছয়ের মারে ৩৬ রান করেন মিরাজ। বিশাল এক ছক্কাসহ ৩ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন বেনি হাওয়েল। শেষ ৬ ওভারে চট্টগ্রাম তুলে নেয় ৮০ রান।

 

খুলনার পক্ষে খালেদ আহমেদ নেন ২ উইকেট। এছাড়া নাবিল সামাদ, রুয়েল মিয়া ও শেখ মেহেদি হাসানের শিকার ১টি করে উইকেট। নিজের ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করেন বাঁহাতি স্পিনার নাবিল।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» এক টুকরো মেঘ,

» ঘূর্ণিঝড় রেমালে ১৯ উপজেলার ভোট স্থগিত : ইসি সচিব

» স্থলভাগে এসে দুর্বল রেমাল, উঠিয়ে নেওয়া হল ১০ নম্বর বিপৎসংকেত

» ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

» বন্দুকসহ একজন গ্রেফতার

» নারীকে জোরপূর্বক গণধর্ষণ মামলায় পলাতক প্রধান আসামি গ্রেফতার

» নির্মাণাধীন ভবনের দেয়াল ধসে যুবক নিহত

» দুর্যোগে সহযোগিতার নামে ফটোসেশন করে বিএনপি: কাদের

» মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক

» বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে বিক্রি ও সেবনের অপরাধে ৩২জন গ্রেপ্তার

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ওয়াল্টন ঝড়ে চট্টগ্রামের বিশাল সংগ্রহ

পেটের অসুখের কারণে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগেই ছিটকে গেছেন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা উইল জ্যাকস। তবে তার অভাব বুঝতে দেননি চ্যাডউইক ওয়াল্টন। এই ক্যারিবীয় তারকার উত্তাল ব্যাটে খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে এলিমিনেটর ম্যাচে ১৮৯ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স।

 

পরাজয় এড়িয়ে আসরের ফাইনাল খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখতে খুলনাকে করতে হবে ১৯০ রান। নিজেদের শেষ ম্যাচে ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জিতেছিল দলটি। আজকের ম্যাচে ছাড়িয়ে যেতে হবে সেটিকেও, গড়তে হবে চলতি আসরে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।

চট্টগ্রামকে রানপাহাড়ে তোলার পথে সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েছিলেন ওয়াল্টন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪৪ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকতে হয়েছে তাকে। খুলনার বোলারদেরকে ৭টি করে চার ও ছক্কা হাঁকিয়েছেন এ ক্যারিবীয় ব্যাটার। এছাড়া মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৬ রান।

 

মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তস জিতে চট্টগ্রামকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছিল খুলনা। ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই একটি করে চার-ছক্কা হাঁকান জ্যাকসের জায়গায় একাদশে ফেরা কেনার লুইস। তবে ওভারের শেষ বলে আরেক ওপেনার জাকির হাসানকে ফিরিয়ে দেন সৈয়দ খালেদ আহমেদ।

 

এক ওভার পর অধিনায়ক আফিফ হোসেন ধ্রুবর উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। রুয়েল মিয়ার বলে পুল খেলতে গিয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ৩ রান করা আফিফ। শুরুতেই দুই উইকেট হারানোর ফলে থেমে যায় রানের চাকা। প্রথম পাওয়ার প্লে’তে দু উইকেটের বিনিময়ে আসে মাত্র ৩৯ রান।

 

ইনিংসের অষ্টম ওভারের প্রথম দুই বলে চার-ছয় হাঁকিয়ে দলীয় পঞ্চাশ পূরণ করেন কেনার। তবে পরের ওভারেই তার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন নাবিল সামাদ। লেগ বিফোর আউট হওয়ার আগে ৪ চার ও ২ ছয়ের মারে ৩২ বলে ৩৯ রানের ইনিংস খেলেন কেনার লুইস। ঠিক পরের ওভারে আউট হন ৭ বলে ১০ রান করা শামীম পাটোয়ারীও।

যার ফলে দশ ওভার শেষে চট্টগ্রামের স্কোর দাঁড়ায় ৪ উইকেটে মাত্র ৬৬ রান। সেখান থেকে শেষ ১০ ওভারে আরও ১২৩ রান পায় দলটি। যার মূল কৃতিত্ব ওয়াল্টনের। তার সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে পার্শ্বনায়কের ভূমিকা পালন করেন মেহেদি মিরাজ। এ দুজন মিলে মাত্র ৯.৪ ওভারে ১১৫ রানের জুটি গড়েন। যা দলকে এনে দেয় বিশাল সংগ্রহের ভিত।

 

১৫তম ওভারে রুয়েল মিয়ার চার বলে যথাক্রমে ৪, ৪, ৬ ও ৪ মেরে মাত্র ২৮ বলে নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি পূরণ করেন ওয়াল্টন। এরপর খেলা ১৬ বলে আরও ৩৯ রান করেন এ ডানহাতি ব্যাটার। ইনিংসের ১৯তম ওভার শেষে ওয়াল্টনের নামের পাশে ছিল ৮৮ রান।

 

কিন্তু শেষ ওভারে তিনি স্ট্রাইক পান মাত্র একটি বল। সেখানে সিঙ্গেল নিয়ে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন ওয়াল্টন। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট হওয়ার ২ চার ও ১ ছয়ের মারে ৩৬ রান করেন মিরাজ। বিশাল এক ছক্কাসহ ৩ বলে ৮ রানে অপরাজিত থাকেন বেনি হাওয়েল। শেষ ৬ ওভারে চট্টগ্রাম তুলে নেয় ৮০ রান।

 

খুলনার পক্ষে খালেদ আহমেদ নেন ২ উইকেট। এছাড়া নাবিল সামাদ, রুয়েল মিয়া ও শেখ মেহেদি হাসানের শিকার ১টি করে উইকেট। নিজের ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করেন বাঁহাতি স্পিনার নাবিল।

 

Facebook Comments Box

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ,বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি। (দপ্তর সম্পাদক)  
উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা
 সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,
ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,
ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু,
নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com