ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের শুধু নিরামিষ খাওয়ানো নিয়ে তুমুল বিতর্ক

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের জন্য জমকালো নৈশভোজ। টেবিলে সাজানো হয়েছে একের পর এক ভারতীয় পদ। কিন্তু মেনুতে নেই মাংস, মুরগি কিংবা মাছ। নৈশভোজের পুরো আয়োজনই ছিল নিরামিষ। আর এই খাবারের তালিকা নিয়েই ভারতে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত নৈশভোজে ১০টির বেশি পদ পরিবেশন করা হয়। শুরুতে ছিল ‘খুম্ব গালৌটি’, পনির ও মাশরুমের নানা পদ, বাজরার পোলাও, বিটের রায়তা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি। মিষ্টান্নের তালিকায় ছিল পুরোনো দিল্লির ফলের ক্রিম ও জিলাপি এবং শাহদুত ফিরনি।

ব্রিকসের এই নৈশভোজের মেনু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘রেকর্ড হিসেবে বলে রাখি, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু। ঠিক যেমনটি আমার বোনের তৈরি ছোলে ভাটুরে।’

রাহুলের বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও রাজনৈতিক রূপ নেয়। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপি আগে থেকেই নিজেদের খাদ্যাভ্যাস মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অতিথিদের ওপরও সেই পছন্দ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওয়ারিস পাঠানও বলেন, ভারতের বৈচিত্র্য শুধু ভাষা ও সংস্কৃতিতে নয়, খাবারেও রয়েছে। তার মতে, মাটন মসালা ফ্রাই, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি মুরগি, বাটার চিকেন ও গোয়ান মাছের ঝোলের মতো খাবারও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা যেত।

জবাবে বিজেপি অভিযোগ করে, সম্মেলনের অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পেরে কংগ্রেস খাবারের মেনু নিয়ে রাজনীতি করছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, সমালোচনা করার মতো যদি বিরোধীদের কাছে খাবারের তালিকা ছাড়া আর কিছু না থাকে, তাহলে সেটিই ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যের প্রমাণ।

বিজেপির আরেক মুখপাত্র তুহিন সিনহা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ‘তুচ্ছ ও অবান্তর’ বলে সমালোচনা করেন। তার দাবি, এমন মন্তব্য কংগ্রেসের মানসিকতারই প্রতিফলন।

এদিকে জানানো হয়েছে, নৈশভোজের মেনুতে ছিল খান্ডভি মিল্লে, খুম্ব গালৌটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, গাজর বিন পোরিয়াল, বাজরার পোলাও, বিটের রায়তা, ভারতীয় রুটি, জিলাপি ও শাহদুত ফিরনি। ফলে খাবারের বৈচিত্র্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সামনে এসেছে আমিষ ও নিরামিষ খাবারের প্রসঙ্গ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাকি

» ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

» রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি

» গণতান্ত্রিক উত্তরণে তরুণদের সক্রিয় থাকার আহ্বান আলী রীয়াজের

» একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

» ১ জানুয়ারি থেকে অবৈধ ফোন বন্ধ, নতুন করে চালু হচ্ছে এনইআইআর

» শিগগিরই আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব, আলোচনায় যারা

» সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারণেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন: এমপি বরকত উল্লাহ বুলু

» গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: মামুনুল হক

» পানির হিস্যায় ভারতকে এক চুলও ছাড় দেবো না: নাহিদ ইসলাম

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের শুধু নিরামিষ খাওয়ানো নিয়ে তুমুল বিতর্ক

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ব্রিকস সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের জন্য জমকালো নৈশভোজ। টেবিলে সাজানো হয়েছে একের পর এক ভারতীয় পদ। কিন্তু মেনুতে নেই মাংস, মুরগি কিংবা মাছ। নৈশভোজের পুরো আয়োজনই ছিল নিরামিষ। আর এই খাবারের তালিকা নিয়েই ভারতে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।

শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত নৈশভোজে ১০টির বেশি পদ পরিবেশন করা হয়। শুরুতে ছিল ‘খুম্ব গালৌটি’, পনির ও মাশরুমের নানা পদ, বাজরার পোলাও, বিটের রায়তা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি। মিষ্টান্নের তালিকায় ছিল পুরোনো দিল্লির ফলের ক্রিম ও জিলাপি এবং শাহদুত ফিরনি।

ব্রিকসের এই নৈশভোজের মেনু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘রেকর্ড হিসেবে বলে রাখি, ভারতের ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু। ঠিক যেমনটি আমার বোনের তৈরি ছোলে ভাটুরে।’

রাহুলের বক্তব্যের পর বিষয়টি আরও রাজনৈতিক রূপ নেয়। কংগ্রেস নেতা পবন খেরা অভিযোগ করেন, বিজেপি আগে থেকেই নিজেদের খাদ্যাভ্যাস মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আসছে। এবার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অতিথিদের ওপরও সেই পছন্দ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ওয়ারিস পাঠানও বলেন, ভারতের বৈচিত্র্য শুধু ভাষা ও সংস্কৃতিতে নয়, খাবারেও রয়েছে। তার মতে, মাটন মসালা ফ্রাই, হায়দরাবাদি বিরিয়ানি, তন্দুরি মুরগি, বাটার চিকেন ও গোয়ান মাছের ঝোলের মতো খাবারও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরা যেত।

জবাবে বিজেপি অভিযোগ করে, সম্মেলনের অর্জন ও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পেরে কংগ্রেস খাবারের মেনু নিয়ে রাজনীতি করছে। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, সমালোচনা করার মতো যদি বিরোধীদের কাছে খাবারের তালিকা ছাড়া আর কিছু না থাকে, তাহলে সেটিই ব্রিকস সম্মেলনের সাফল্যের প্রমাণ।

বিজেপির আরেক মুখপাত্র তুহিন সিনহা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ‘তুচ্ছ ও অবান্তর’ বলে সমালোচনা করেন। তার দাবি, এমন মন্তব্য কংগ্রেসের মানসিকতারই প্রতিফলন।

এদিকে জানানো হয়েছে, নৈশভোজের মেনুতে ছিল খান্ডভি মিল্লে, খুম্ব গালৌটি, পনির লাবাবদার, গুচ্ছি মারমিক, গাজর বিন পোরিয়াল, বাজরার পোলাও, বিটের রায়তা, ভারতীয় রুটি, জিলাপি ও শাহদুত ফিরনি। ফলে খাবারের বৈচিত্র্য নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সামনে এসেছে আমিষ ও নিরামিষ খাবারের প্রসঙ্গ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com