ক্যামেরা বন্ধ, পরিদর্শনে বাধা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আইএইএর নালিশ

অনলাইন ডেস্ক : জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এনেছে। একই সঙ্গে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সহায়তা চেয়েছে সংস্থাটি। বুধবার কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।আইএইএর পরিচালনা পর্ষদের ৩৫ সদস্যের মধ্যে ২৩ জন তেহরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে জানানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান পরমাণু নিরাপত্তাব্যবস্থা মানছে না বলে পাস হওয়া প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় বুধবারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিএনএনের পর্যালোচনা করা জাতিসংঘের নথি এবং সাবেক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে আইএইএ। তবে সময়ের সঙ্গে ইরান সংস্থাটির পরিদর্শন কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে। এর মধ্যে নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর করা এবং পরিদর্শকদের ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক শারীরিক তল্লাশি’র অভিযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের করা পরমাণু চুক্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর পরমাণু পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু হয়। ২০১৬ সালে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর আইএইএ জানায়, ইরান এর শর্ত মেনে চলছে। তবে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ২০১৯ সাল থেকে ইরানের চুক্তি মেনে চলার প্রবণতা কমতে শুরু করে।

২০২০ সালে ইরান আইএইএর পরিদর্শকদের দুটি স্থাপনায় প্রবেশে বাধা দেয়। পরে ২০২১ সালে কারাজে একটি সেন্ট্রিফিউজ কর্মশালার নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর ও একটি ক্যামেরা ধ্বংস করা হয়। ২০২২ সালে ইরান আইএইএর সব চুক্তি-সংশ্লিষ্ট নজরদারি সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বলে।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ফোরদো স্থাপনায় আইএইএ ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হচ্ছিল এমন অনঘোষিত সেন্ট্রিফিউজের সন্ধান পায়। পরে কয়েকজন আইএইএ বিশেষজ্ঞকে ইরান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে আইএইএ প্রস্তাব পাস করার পরদিন ইসরায়েল হামলা শুরু করে। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে হামলা চালায়।

সিএনএন জানায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী বিমান অভিযান শুরুর পর আইএইএ বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া অন্য কোনো ইরানি পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারেনি। ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম ও সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজের অবস্থান সম্পর্কে সংস্থাটির নজরদারি ব্যাহত হয়েছে।

তেহরান আইএইএর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বুধবারের প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিক’ ও ‘ঐকমত্য ছাড়াই গৃহীত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাশিয়া ও চীন স্থায়ী সদস্য হওয়ায় তারা যেকোনো প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারে।  সূত্র: সিএনএন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ৮ ঘণ্টার ব্যাটারি স্টোরেজ সুবিধাসহ রামপাল সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী সাকি

» ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

» রাজনীতিতে মতপার্থক্য, গঠনমূলক সমালোচনা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য: রাষ্ট্রপতি

» গণতান্ত্রিক উত্তরণে তরুণদের সক্রিয় থাকার আহ্বান আলী রীয়াজের

» একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

» ১ জানুয়ারি থেকে অবৈধ ফোন বন্ধ, নতুন করে চালু হচ্ছে এনইআইআর

» শিগগিরই আসছে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের নতুন নেতৃত্ব, আলোচনায় যারা

» সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কারণেই তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন: এমপি বরকত উল্লাহ বুলু

» গণভোট অবৈধ হলে বিএনপি সরকারও অবৈধ: মামুনুল হক

» পানির হিস্যায় ভারতকে এক চুলও ছাড় দেবো না: নাহিদ ইসলাম

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ক্যামেরা বন্ধ, পরিদর্শনে বাধা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে আইএইএর নালিশ

অনলাইন ডেস্ক : জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র তৈরি ঠেকাতে নির্ধারিত নিরাপত্তাব্যবস্থা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ এনেছে। একই সঙ্গে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সহায়তা চেয়েছে সংস্থাটি। বুধবার কূটনৈতিক কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।আইএইএর পরিচালনা পর্ষদের ৩৫ সদস্যের মধ্যে ২৩ জন তেহরানের বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদে জানানোর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। রাশিয়া, চীন ও নাইজার এর বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরান পরমাণু নিরাপত্তাব্যবস্থা মানছে না বলে পাস হওয়া প্রস্তাবের ধারাবাহিকতায় বুধবারের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিএনএনের পর্যালোচনা করা জাতিসংঘের নথি এবং সাবেক কর্মকর্তা ও কূটনীতিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, এক দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা চালিয়ে আসছে আইএইএ। তবে সময়ের সঙ্গে ইরান সংস্থাটির পরিদর্শন কার্যক্রমে বাধা দিয়েছে। এর মধ্যে নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর করা এবং পরিদর্শকদের ‘অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক শারীরিক তল্লাশি’র অভিযোগ রয়েছে।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে ইরানের করা পরমাণু চুক্তিতে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর পরমাণু পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু হয়। ২০১৬ সালে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর আইএইএ জানায়, ইরান এর শর্ত মেনে চলছে। তবে ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর ২০১৯ সাল থেকে ইরানের চুক্তি মেনে চলার প্রবণতা কমতে শুরু করে।

২০২০ সালে ইরান আইএইএর পরিদর্শকদের দুটি স্থাপনায় প্রবেশে বাধা দেয়। পরে ২০২১ সালে কারাজে একটি সেন্ট্রিফিউজ কর্মশালার নজরদারি ক্যামেরা অকার্যকর ও একটি ক্যামেরা ধ্বংস করা হয়। ২০২২ সালে ইরান আইএইএর সব চুক্তি-সংশ্লিষ্ট নজরদারি সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে বলে।

২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ফোরদো স্থাপনায় আইএইএ ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বিশুদ্ধতার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হচ্ছিল এমন অনঘোষিত সেন্ট্রিফিউজের সন্ধান পায়। পরে কয়েকজন আইএইএ বিশেষজ্ঞকে ইরান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে আইএইএ প্রস্তাব পাস করার পরদিন ইসরায়েল হামলা শুরু করে। এর দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে হামলা চালায়।

সিএনএন জানায়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী বিমান অভিযান শুরুর পর আইএইএ বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া অন্য কোনো ইরানি পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন করতে পারেনি। ফলে ইরানের ইউরেনিয়াম ও সমৃদ্ধকরণ সেন্ট্রিফিউজের অবস্থান সম্পর্কে সংস্থাটির নজরদারি ব্যাহত হয়েছে।

তেহরান আইএইএর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বুধবারের প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিক’ ও ‘ঐকমত্য ছাড়াই গৃহীত’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাশিয়া ও চীন স্থায়ী সদস্য হওয়ায় তারা যেকোনো প্রস্তাবে ভেটো দিতে পারে।  সূত্র: সিএনএন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com