এনসিপির সমাবেশ চলাকালে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছিল ডেকোরেটাররা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শুরুর পর সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কাকতালীয় ব্যাপার ছিল বলে জানিয়েছেন সাভার পল্লীবিদ্যুৎ-৩ এর জিএম মামুনুর রশীদ। এছাড়াও মঞ্চের পাশের ফিডার থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছিল ডেকোরেটাররা।

জিএম মামুনুর রশীদ আজ (বৃহস্পতিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় পল্লী বিদ্যুতের সদর দপ্তরের গেণ্ডা উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ওই দিন কোনো লোডশেডিং না থাকায় গেণ্ডা উপকেন্দ্রের সব ফিডার চালু ছিল।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর মহাব্যবস্থাপক মো. মামুন অর রশীদ বলেন, এনসিপির সমাবেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য মৌখিক কিংবা লিখিত কোনো আবেদন আমাদের কাছে করেনি । তাদের সমাবেশ স্থানের বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কাকতালীয় ব্যাপার ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বিদ্যুৎ বন্ধ করেনি; যারা মঞ্চ তৈরি করেছে সেই ডেকোরেটরের লোকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, মঞ্চের পাশের ৪নং ফিডার থেকে হুক বাজিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, রাত ৯টা ২০ মিনিটে ৪নং ফিডার হঠাৎ ট্রিপ করে। ট্রিপিংয়ের সময় ফিডারের এসিআরে ৩৩৯৭ অ্যাম্পিয়ার ফেজ টু গ্রাউন্ড ফল্ট কারেন্ট প্রদর্শন করে। তাৎক্ষণিকভাবে ফিডার ফল্টের কারণ অনুসন্ধান করতে থাকা হয়। এমতাবস্থায় ভাগলপুর মহল্লা থেকে মো. শরিফুজ্জামান অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইলে ফোন করে জানান যে, তার নিকটবর্তী স্থাপনায় স্থাপিত ট্রান্সফরমারের কাছে শব্দ ও ফায়ারিং হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। পরে ডিউটিরত লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. কামরুজ্জামান ফিডারটি ট্রায়াল দিলে রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে ফিডারটি অস্থায়ী ফল্ট রিমুভ হয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ চালু হয়ে যায় এবং গ্রাহক বিদ্যুৎ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।

পরবর্তীতে জানা যায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকাকালীন সময়ে ওই ফিডারের আওতায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এনসিপির প্রোগ্রামে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে।

মহাব্যবস্থাপক আরও বলেন, বিদ্যুৎ বন্ধের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য ট্যানারি জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. হেমায়েত হোসেন বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী প্রকৌশলী (এসওডি) ঢাকা (উত্তর) মজিবুর রহমান ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি-১) সদর দপ্তরের মুহাম্মদ সাদ আল মুনির। আজ বৃহস্পতিবার একটি রিপোর্ট দাখিল করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ বিদুৎ সংযোগ নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

মহাব্যবস্থাপক মামুন বলেন, এনসিপির নেতারা মঞ্চে উঠার আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া ও বোমা বিস্ফোরণের পরপরই বিদ্যুৎ ফিরে আসা একটা কাকতালীয় বিষয় ছিল। এ কারণেই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং ঘটনার পর তিনি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটা প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

​এনসিপির ঢাকা জেলার সদস্য সচিব ও মামলার বাদী মো. সালামত উল্লাহ রনি বলেন, আমাদের এই প্রোগ্রামের বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। এখন বাকি বিষয় তো প্রশাসন দেখবে। তবে বিদ্যুৎ যখন চলে যায় সঙ্গে সঙ্গে আমরা পল্লী বিদ্যুতের অফিসের অভিযোগ নাম্বারে একাধিকবার কল করেছি কিন্তু কেউ ধরেননি।

এর আগে গত সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে বিকট শব্দে হাতবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণ হয়। তখন মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঈদগাহ মাঠ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেঁপে উঠে স্টেজ। মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে শুরু করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ‘সমস্যা সমাধানে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে’

» এআই’র অপব্যবহার রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী

» রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো: মির্জা ফখরুল

» কৃষি ও পল্লী খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম: বাংলাদেশ ব্যাংক-ইউসিবি চুক্তি

» নারী কর্মীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতে ‘হার এশিয়াটিক সার্কেল’ ও ‘সুখী’র যৌথ গ্রুপ সেশন

» বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে ২৪.৬০ কোটি টাকা জমা দিলো গ্রামীণফোন

» ব্র্যাক ব্যাংকে ইয়াং লিডার্স ব্যাচ ২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন

» উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ‘ফরচুন গ্লোবাল ৫০০’-এ ২৩২তম শাওমি

» তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে ভর্তি নেওয়া হবে : আমিনুল হক

» ট্রাফিক আইন ভাঙলেই এআই ক্যামেরায় জরিমানা, মালিকের মোবাইলে যাবে বার্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

এনসিপির সমাবেশ চলাকালে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছিল ডেকোরেটাররা

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শুরুর পর সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে সমাবেশ চলাকালে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কাকতালীয় ব্যাপার ছিল বলে জানিয়েছেন সাভার পল্লীবিদ্যুৎ-৩ এর জিএম মামুনুর রশীদ। এছাড়াও মঞ্চের পাশের ফিডার থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছিল ডেকোরেটাররা।

জিএম মামুনুর রশীদ আজ (বৃহস্পতিবার) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গত সোমবার সন্ধ্যায় পল্লী বিদ্যুতের সদর দপ্তরের গেণ্ডা উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল। ওই দিন কোনো লোডশেডিং না থাকায় গেণ্ডা উপকেন্দ্রের সব ফিডার চালু ছিল।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ এর মহাব্যবস্থাপক মো. মামুন অর রশীদ বলেন, এনসিপির সমাবেশে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য মৌখিক কিংবা লিখিত কোনো আবেদন আমাদের কাছে করেনি । তাদের সমাবেশ স্থানের বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কাকতালীয় ব্যাপার ছিল। ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ বিদ্যুৎ বন্ধ করেনি; যারা মঞ্চ তৈরি করেছে সেই ডেকোরেটরের লোকদের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি, মঞ্চের পাশের ৪নং ফিডার থেকে হুক বাজিয়ে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়েছিল।

তিনি বলেন, রাত ৯টা ২০ মিনিটে ৪নং ফিডার হঠাৎ ট্রিপ করে। ট্রিপিংয়ের সময় ফিডারের এসিআরে ৩৩৯৭ অ্যাম্পিয়ার ফেজ টু গ্রাউন্ড ফল্ট কারেন্ট প্রদর্শন করে। তাৎক্ষণিকভাবে ফিডার ফল্টের কারণ অনুসন্ধান করতে থাকা হয়। এমতাবস্থায় ভাগলপুর মহল্লা থেকে মো. শরিফুজ্জামান অভিযোগ কেন্দ্রের মোবাইলে ফোন করে জানান যে, তার নিকটবর্তী স্থাপনায় স্থাপিত ট্রান্সফরমারের কাছে শব্দ ও ফায়ারিং হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে গেছে। পরে ডিউটিরত লাইনম্যান গ্রেড-১ মো. কামরুজ্জামান ফিডারটি ট্রায়াল দিলে রাত ৯টা ৪৪ মিনিটে ফিডারটি অস্থায়ী ফল্ট রিমুভ হয়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবে বিদ্যুৎ চালু হয়ে যায় এবং গ্রাহক বিদ্যুৎ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।

পরবর্তীতে জানা যায়, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকাকালীন সময়ে ওই ফিডারের আওতায় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে অবস্থিত একটি খোলা মাঠে অনুষ্ঠিত এনসিপির প্রোগ্রামে ককটেল বিস্ফোরণ হয়েছে।

মহাব্যবস্থাপক আরও বলেন, বিদ্যুৎ বন্ধের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য ট্যানারি জোনাল অফিসের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. হেমায়েত হোসেন বিশ্বাসকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- সহকারী প্রকৌশলী (এসওডি) ঢাকা (উত্তর) মজিবুর রহমান ও সহকারী মহাব্যবস্থাপক (আইটি-১) সদর দপ্তরের মুহাম্মদ সাদ আল মুনির। আজ বৃহস্পতিবার একটি রিপোর্ট দাখিল করেছেন বলে জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অবৈধ বিদুৎ সংযোগ নেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে।

মহাব্যবস্থাপক মামুন বলেন, এনসিপির নেতারা মঞ্চে উঠার আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়া ও বোমা বিস্ফোরণের পরপরই বিদ্যুৎ ফিরে আসা একটা কাকতালীয় বিষয় ছিল। এ কারণেই তদন্ত কমিটি করা হয়েছে এবং ঘটনার পর তিনি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর একটা প্রাথমিক প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।

​এনসিপির ঢাকা জেলার সদস্য সচিব ও মামলার বাদী মো. সালামত উল্লাহ রনি বলেন, আমাদের এই প্রোগ্রামের বিষয়ে আমরা প্রশাসনকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। এখন বাকি বিষয় তো প্রশাসন দেখবে। তবে বিদ্যুৎ যখন চলে যায় সঙ্গে সঙ্গে আমরা পল্লী বিদ্যুতের অফিসের অভিযোগ নাম্বারে একাধিকবার কল করেছি কিন্তু কেউ ধরেননি।

এর আগে গত সোমবার রাতে সাভারের তারাপুর ঈদগাহ মাঠে এনসিপির সমাবেশ চলাকালে বিকট শব্দে হাতবোমা বা ককটেল বিস্ফোরণ হয়। তখন মঞ্চে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমসহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বিস্ফোরণে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ঈদগাহ মাঠ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কেঁপে উঠে স্টেজ। মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি করতে শুরু করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com