মেসি: ম্যাজিক, মায়া, মোহ

‎ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি, শত রূপে শত বার। জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়, গাঁথিয়াছে গীতহার, কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার।’ রবীন্দ্রনাথে অনন্ত প্রেম কবিতার শুরুটা কি তবে লিওনেল মেসিকে নিয়েই লেখা, নিশ্চয়ই না। তারপরও আর্জেন্টিনা ভক্ত যে কারো কাছেই হয়তো মেসি এমনই এক অনুভূতি, যাকে শত রূপে শত বার ভালোবাসা যায়, যুগে যুগে যে থাকে অনিবার।

এই মেসির ম্যাজিকে মুগ্ধ থাকা যায় চিরকাল। মেসি মোহে আবিষ্ট হয়ে চিরদিনই গাঁথা যায় গীতহার। ভক্তের গাঁথা মালা মেসিও যে পরম মমতায় গলায় পরেন, বিনিময়ে দেন আবেগি উপহার, তার প্রমাণ পাওয়া গেল চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা, সেই খবরের চেয়েও বড় খবর তিনটি গোলটি করেছেন ম্যাজিশিয়ান মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাট্রিক করে ছুঁয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড।

কানসাস সিটির গোধূলি আকাশ তখন হয়তো এক মহাকাব্যের সাক্ষী হতে প্রস্তুত হচ্ছিল। বুকে একরাশ স্বপ্ন আর পায়ে জাদুর ছোঁয়া নিয়ে সবুজ গালিচায় পা রাখলেন ফুটবল ঈশ্বর। তিনি আর কেউ নন, লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আলজেরিয়ার রক্ষণব্যূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে আলবিসেলেস্তেদের ৩-০ গোলের মহিমান্বিত এক জয় উপহার দিলেন এই মহানায়ক। আর এই জয়ের রূপকথা লেখা হলো তাঁরই জাদুকরী বাঁ পায়ের হ্যাটট্রিকে।

ম্যাচের বয়স তখন ১৭ মিনিট, বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির সেই চিরচেনা বাঁ পায়ের শট যখন আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের হাত গলে জাল স্পর্শ করল, তখনই যেন মহাকালের চাকা ঘুরতে শুরু করেছিল। প্রথম গোলের পর যখন ক্যামেরা তাঁর মুখের ওপর থমকে দাঁড়াল, দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। উল্লাসের ভিড়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল। এ কি তবে নিজের শেষ বিশ্বমঞ্চের প্রথম সাফল্যের আনন্দ, নাকি আরও একটি সোনালী স্বপ্নকে ছোঁয়ার আকুলতা? সেই অশ্রুবিন্দু যেন কোটি ভক্তের হৃদয়কে এক লহমায় ছুঁয়ে গেল।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হলো মেসির সেই চিরপরিচিত রেকর্ডের ভাঙা-গড়ার খেলা। ৬০ মিনিটে ম্যাক আলিস্টারের ফিরতি শট থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন, আর ৭৬ মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক কোণাকুণি শটে পূর্ণ করলেন তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। এই তিন গোলের হাত ধরে ফুটবল ইতিহাসের পাতাগুলো নতুন করে ওলটপালট হয়ে গেল। বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৬টি গোল নিয়ে তিনি এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে, গার্ড মুলার আর দ্য ফেনোমেনন রোনালদো নাজারিওকে ছাড়িয়ে বসে আছেন চূড়ায়, যেখানে তাঁর পাশে আছেন কেবল মিরোস্লাভ ক্লোসা।

রেকর্ড বুক বলছে, ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে এই হ্যাটট্রিক করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন মেসি। শুধু তা-ই নয়, ২০০৬ থেকে শুরু করে ২০২৬; পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তিতেও তিনি এখন সিআরসেভেনের সমকক্ষ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই রাতটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হয়ে থাকল না; এটি হয়ে রইল এক মহানায়কের অশ্রু, চিরযৌবনা হ্যাটট্রিক আর রেকর্ডের সিংহাসনে আরোহণের এক অবিস্মরণীয় উপাখ্যান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ‘সমস্যা সমাধানে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে’

» এআই’র অপব্যবহার রোধে সচেতনতার বিকল্প নেই: তথ্যমন্ত্রী

» রাষ্ট্রপতি হলেও আমার ইচ্ছে আছে, জনগণের পাশে থেকে সেবা করবো: মির্জা ফখরুল

» কৃষি ও পল্লী খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম: বাংলাদেশ ব্যাংক-ইউসিবি চুক্তি

» নারী কর্মীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিতে ‘হার এশিয়াটিক সার্কেল’ ও ‘সুখী’র যৌথ গ্রুপ সেশন

» বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিলে ২৪.৬০ কোটি টাকা জমা দিলো গ্রামীণফোন

» ব্র্যাক ব্যাংকে ইয়াং লিডার্স ব্যাচ ২০২৫-এর গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন

» উদ্ভাবন ও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় ‘ফরচুন গ্লোবাল ৫০০’-এ ২৩২তম শাওমি

» তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকেএসপিতে ভর্তি নেওয়া হবে : আমিনুল হক

» ট্রাফিক আইন ভাঙলেই এআই ক্যামেরায় জরিমানা, মালিকের মোবাইলে যাবে বার্তা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মেসি: ম্যাজিক, মায়া, মোহ

‎ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি, শত রূপে শত বার। জনমে জনমে, যুগে যুগে অনিবার। চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়, গাঁথিয়াছে গীতহার, কত রূপ ধরে পরেছ গলায়, নিয়েছ সে উপহার।’ রবীন্দ্রনাথে অনন্ত প্রেম কবিতার শুরুটা কি তবে লিওনেল মেসিকে নিয়েই লেখা, নিশ্চয়ই না। তারপরও আর্জেন্টিনা ভক্ত যে কারো কাছেই হয়তো মেসি এমনই এক অনুভূতি, যাকে শত রূপে শত বার ভালোবাসা যায়, যুগে যুগে যে থাকে অনিবার।

এই মেসির ম্যাজিকে মুগ্ধ থাকা যায় চিরকাল। মেসি মোহে আবিষ্ট হয়ে চিরদিনই গাঁথা যায় গীতহার। ভক্তের গাঁথা মালা মেসিও যে পরম মমতায় গলায় পরেন, বিনিময়ে দেন আবেগি উপহার, তার প্রমাণ পাওয়া গেল চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে। আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা, সেই খবরের চেয়েও বড় খবর তিনটি গোলটি করেছেন ম্যাজিশিয়ান মেসি। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাট্রিক করে ছুঁয়েছেন মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড।

কানসাস সিটির গোধূলি আকাশ তখন হয়তো এক মহাকাব্যের সাক্ষী হতে প্রস্তুত হচ্ছিল। বুকে একরাশ স্বপ্ন আর পায়ে জাদুর ছোঁয়া নিয়ে সবুজ গালিচায় পা রাখলেন ফুটবল ঈশ্বর। তিনি আর কেউ নন, লিওনেল আন্দ্রেস মেসি। আলজেরিয়ার রক্ষণব্যূহ চূর্ণ-বিচূর্ণ করে আলবিসেলেস্তেদের ৩-০ গোলের মহিমান্বিত এক জয় উপহার দিলেন এই মহানায়ক। আর এই জয়ের রূপকথা লেখা হলো তাঁরই জাদুকরী বাঁ পায়ের হ্যাটট্রিকে।

ম্যাচের বয়স তখন ১৭ মিনিট, বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া মেসির সেই চিরচেনা বাঁ পায়ের শট যখন আলজেরিয়ার গোলরক্ষকের হাত গলে জাল স্পর্শ করল, তখনই যেন মহাকালের চাকা ঘুরতে শুরু করেছিল। প্রথম গোলের পর যখন ক্যামেরা তাঁর মুখের ওপর থমকে দাঁড়াল, দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। উল্লাসের ভিড়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়কের চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে নোনা জল। এ কি তবে নিজের শেষ বিশ্বমঞ্চের প্রথম সাফল্যের আনন্দ, নাকি আরও একটি সোনালী স্বপ্নকে ছোঁয়ার আকুলতা? সেই অশ্রুবিন্দু যেন কোটি ভক্তের হৃদয়কে এক লহমায় ছুঁয়ে গেল।

এরপর দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হলো মেসির সেই চিরপরিচিত রেকর্ডের ভাঙা-গড়ার খেলা। ৬০ মিনিটে ম্যাক আলিস্টারের ফিরতি শট থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করলেন, আর ৭৬ মিনিটে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত এক কোণাকুণি শটে পূর্ণ করলেন তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিক। এই তিন গোলের হাত ধরে ফুটবল ইতিহাসের পাতাগুলো নতুন করে ওলটপালট হয়ে গেল। বিশ্বকাপের মঞ্চে ১৬টি গোল নিয়ে তিনি এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে, গার্ড মুলার আর দ্য ফেনোমেনন রোনালদো নাজারিওকে ছাড়িয়ে বসে আছেন চূড়ায়, যেখানে তাঁর পাশে আছেন কেবল মিরোস্লাভ ক্লোসা।

রেকর্ড বুক বলছে, ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন বয়সে এই হ্যাটট্রিক করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সবচেয়ে বেশি বয়সে হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি নিজের করে নিলেন মেসি। শুধু তা-ই নয়, ২০০৬ থেকে শুরু করে ২০২৬; পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তিতেও তিনি এখন সিআরসেভেনের সমকক্ষ। আলজেরিয়ার বিপক্ষে এই রাতটি কেবল একটি ফুটবল ম্যাচ হয়ে থাকল না; এটি হয়ে রইল এক মহানায়কের অশ্রু, চিরযৌবনা হ্যাটট্রিক আর রেকর্ডের সিংহাসনে আরোহণের এক অবিস্মরণীয় উপাখ্যান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com