সর্বনাশা প্রতিদান

সুলেখা আক্তার শান্তা :
বার্ধক্যে একাকীত্বের যন্ত্রণা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বোঝেনা। জীর্ণ অস্তিত্বের ছাপ শরীরে পড়লেও মনটাকে জরাজীর্ণ করে না। একটা অবলম্বন তখন জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। ছোট্ট মেয়ে মায়া আজিজার বার্ধক্যের একাকীত্ব পূরণ করছে। সাইফুল আর মর্জিনা স্বামী স্ত্রী। দুজনই কর্মজীবী। তাদের ছোট মেয়ে মায়াকে রেখে যায় দাদি আজিজার কাছে। সারাদিন কাজ করে ফেরার পর দুইজনেই ক্লান্ত থাকে। মর্জিনা বাসায় এসে আবার রান্নাবান্না করে। মেয়েকে কাছে পায় না। কাজের ফাঁকে সারাক্ষণ মনে পড়ে মেয়ের কথা। বাসায় এসে মেয়েকে কী করবে, বুকে রাখবে না মাথায় রাখবে বুঝে উঠতে পারে না। সোনামনি জাদুমনি বলে আদরে ভরিয়ে তুলতে চায়। আজিজা পুত্রবধূকে বলেন, বৌমা তুমি এবার কাজ ছেড়ে দাও। এইটুকু বাচ্চা মায়ের আদর ভালোবাসা পায় না। ছোট বাচ্চা বলতে পারে না। মায়ের জন্য কলিজা থাকে সুখাইয়া। মর্জিনা বলে, মা কাজ যা করতেছি বাচ্চাটার ভবিষ্যতের দিকে তাকাইয়া। মায়া যখন একটু বুঝতে শিখব তখন বাচ্চাকে নিয়েই থাকবো। এখন আপনি আছেন নাতির দেখাশোনা করতে পারেন।
মর্জিনা রান্নাবান্না সেরে রাতে সবাই একসঙ্গে খায়। খাওয়া-দাওয়ার পরে মর্জিনা স্বামী কে বলে, তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ো সকালে উঠে কাজে যেতে হবে। ঘুমের প্রস্তুতি নেয় এমন সময় কেউ দরজায় নক করে। সাইফুল দরজা খুলে দেখে একটা বৃদ্ধ মহিলা। বৃদ্ধ মহিলা বলে, বাবা আমি বয়স্ক মানুষ আমাকে রাতে একটু শুইতে জায়গা দিবা? সকালে উঠে আমি চলে যাব। সাইফুল দ্বিধায় পড়ে। একজন মহিলা তাকে চেনে না জানে না কি করে তাকে জায়গা দেয়। আমাদের বাসায় তেমন জায়গা নেই আপনাকে যে রাখবো। বাবা আমি বুড়া মানুষ একটু কোনরকম জায়গা দিলেই রাতটা পার কইরা ভোরে চলে যাব। মর্জিনা দরজার কাছে এগিয়ে এসে বলে, এত করে যখন বলছে দেও না রাত্রে জায়গা। অগত্যা সাইফুল বলে, ঠিক আছে আসেন। রাতে খাবার দিল বৃদ্ধ আলেয়া খেয়ে বলে, আমি মনটা খুলে দোয়া করি তোমরা সুখী হও। আজিজার কাছেই শয়নের ব্যবস্থা হয়। একটা শব্দ পেয়ে মধ্য রাতে সাইফুল ঘুম ভেঙ্গে যায়। উঠে দেখে বৃদ্ধা আলেয়া দাঁড়িয়ে আছে। আপনি ঘুমান নাই। বাবা আমি একটু পানি খাব। সাইফুল গ্লাসে করে পানি দেয়। মেয়ে মায়াকে আদর করে সাইফুল ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে মেয়ে মায়া আর বৃদ্ধ আলেয়া নাই। বাসায় কান্নাকাটির রোল পড়ে যায়। হায় হায় একি সর্বনাশ হলো! যাকে দয়া দেখাতে গিয়ে আশ্রয় দেওয়া হলো, সেই বুড়ো মহিলা কী সর্বনাশ করল! ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে মায়ার সন্ধান পাওয়া গেল না, বুড়ো আলেয়ও লা পাত্তা। বাবা মার বুকে এখন হাহাকার আর হাহাকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় পথচারী নিহত, চালক আটক

» প্রবীণ সাংবাদিকদের অবসর ভাতা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

» উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

» মৃগী রোগ নিয়ে কিছু কথা

» ১৪০০ লিটার অবৈধ ডিজেলসহ ৪জন আটক

» আফগানি চিকেন কাবাব মালাইকারি তৈরির রেসিপি

» সৌদি আরবে পৌঁছেছে প্রথম হজ ফ্লাইট

» বিদেশ সফরে গেলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

» হরমুজ খোলা নিয়ে যা বলা হচ্ছে, বাস্তবতা কি একেবারেই ভিন্ন

» কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সর্বনাশা প্রতিদান

সুলেখা আক্তার শান্তা :
বার্ধক্যে একাকীত্বের যন্ত্রণা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বোঝেনা। জীর্ণ অস্তিত্বের ছাপ শরীরে পড়লেও মনটাকে জরাজীর্ণ করে না। একটা অবলম্বন তখন জীবনকে প্রাণবন্ত করে তোলে। ছোট্ট মেয়ে মায়া আজিজার বার্ধক্যের একাকীত্ব পূরণ করছে। সাইফুল আর মর্জিনা স্বামী স্ত্রী। দুজনই কর্মজীবী। তাদের ছোট মেয়ে মায়াকে রেখে যায় দাদি আজিজার কাছে। সারাদিন কাজ করে ফেরার পর দুইজনেই ক্লান্ত থাকে। মর্জিনা বাসায় এসে আবার রান্নাবান্না করে। মেয়েকে কাছে পায় না। কাজের ফাঁকে সারাক্ষণ মনে পড়ে মেয়ের কথা। বাসায় এসে মেয়েকে কী করবে, বুকে রাখবে না মাথায় রাখবে বুঝে উঠতে পারে না। সোনামনি জাদুমনি বলে আদরে ভরিয়ে তুলতে চায়। আজিজা পুত্রবধূকে বলেন, বৌমা তুমি এবার কাজ ছেড়ে দাও। এইটুকু বাচ্চা মায়ের আদর ভালোবাসা পায় না। ছোট বাচ্চা বলতে পারে না। মায়ের জন্য কলিজা থাকে সুখাইয়া। মর্জিনা বলে, মা কাজ যা করতেছি বাচ্চাটার ভবিষ্যতের দিকে তাকাইয়া। মায়া যখন একটু বুঝতে শিখব তখন বাচ্চাকে নিয়েই থাকবো। এখন আপনি আছেন নাতির দেখাশোনা করতে পারেন।
মর্জিনা রান্নাবান্না সেরে রাতে সবাই একসঙ্গে খায়। খাওয়া-দাওয়ার পরে মর্জিনা স্বামী কে বলে, তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়ো সকালে উঠে কাজে যেতে হবে। ঘুমের প্রস্তুতি নেয় এমন সময় কেউ দরজায় নক করে। সাইফুল দরজা খুলে দেখে একটা বৃদ্ধ মহিলা। বৃদ্ধ মহিলা বলে, বাবা আমি বয়স্ক মানুষ আমাকে রাতে একটু শুইতে জায়গা দিবা? সকালে উঠে আমি চলে যাব। সাইফুল দ্বিধায় পড়ে। একজন মহিলা তাকে চেনে না জানে না কি করে তাকে জায়গা দেয়। আমাদের বাসায় তেমন জায়গা নেই আপনাকে যে রাখবো। বাবা আমি বুড়া মানুষ একটু কোনরকম জায়গা দিলেই রাতটা পার কইরা ভোরে চলে যাব। মর্জিনা দরজার কাছে এগিয়ে এসে বলে, এত করে যখন বলছে দেও না রাত্রে জায়গা। অগত্যা সাইফুল বলে, ঠিক আছে আসেন। রাতে খাবার দিল বৃদ্ধ আলেয়া খেয়ে বলে, আমি মনটা খুলে দোয়া করি তোমরা সুখী হও। আজিজার কাছেই শয়নের ব্যবস্থা হয়। একটা শব্দ পেয়ে মধ্য রাতে সাইফুল ঘুম ভেঙ্গে যায়। উঠে দেখে বৃদ্ধা আলেয়া দাঁড়িয়ে আছে। আপনি ঘুমান নাই। বাবা আমি একটু পানি খাব। সাইফুল গ্লাসে করে পানি দেয়। মেয়ে মায়াকে আদর করে সাইফুল ঘুমিয়ে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে মেয়ে মায়া আর বৃদ্ধ আলেয়া নাই। বাসায় কান্নাকাটির রোল পড়ে যায়। হায় হায় একি সর্বনাশ হলো! যাকে দয়া দেখাতে গিয়ে আশ্রয় দেওয়া হলো, সেই বুড়ো মহিলা কী সর্বনাশ করল! ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে মায়ার সন্ধান পাওয়া গেল না, বুড়ো আলেয়ও লা পাত্তা। বাবা মার বুকে এখন হাহাকার আর হাহাকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com