ধীরে খাওয়া আর সঠিক খাবারেই মিলতে পারে পেটের স্বস্তি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই পেট ভারী লাগে, ফাঁপা ভাব হয়। কখনো গ্যাস, কখনো অস্বস্তি। এই সমস্যা ছোট–বড় সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। হার্ভার্ডে প্রশিক্ষিত পেটের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন—কেন এই পেট ফাঁপার সমস্যা হয় এবং কী করলে তা কমানো যায়। ডা. শেঠি বলছেন, শুধু গ্যাসই পেট ফাঁপার একমাত্র কারণ নয়। আমাদের খাওয়ার ধরন, কী খাবার খাচ্ছি এবং পেটের ভেতরের স্বাভাবিক কাজকর্ম—সবকিছুর সঙ্গেই এটি জড়িত।

তিনি প্রথমেই বলেন, খুব দ্রুত খাবার খাওয়া বড় একটি কারণ। যারা ১০ মিনিটের কম সময়ে খাবার শেষ করেন, তারা বেশি বাতাস গিলে ফেলেন। এতে খাবার হজম ঠিকমতো হয় না এবং পেট ফাঁপে। তাই ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়া জরুরি। পেট ভরে গেলে থামতে হবে, অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।

দ্বিতীয় কারণ হলো খাবারের ধরন। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, পেঁয়াজ-রসুন, বড় কাঁচা সালাদ এবং কিছু কৃত্রিম মিষ্টি অনেকের পেটে গ্যাস তৈরি করে। দুধের মধ্যে থাকা ল্যাকটোজ (এক ধরনের চিনি) হজম না হলে পেট ফাঁপতে পারে। ডায়রিয়া না হলেও হালকা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

তৃতীয় বিষয়টি হলো মলত্যাগের অভ্যাস। প্রতিদিন টয়লেটে গেলেও অনেক সময় পেট পুরো পরিষ্কার হয় না। তখন খাবার খেলেই পেট ভারী লাগে। কিছু ক্ষেত্রে আইবিএস (পেটের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা) বা সিবো (ছোট অন্ত্রে অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া) থাকলেও প্রায় প্রতিবার খাবারের পর পেট ফাঁপে।

পেট ফাঁপা কমাতে ডা. শেঠির সহজ পরামর্শ—খেতে সময় নিন (১৫–২০ মিনিট), কাঁচা সবজির বদলে রান্না করা সবজি খান, দুধে সমস্যা হলে ল্যাকটোজমুক্ত খাবার নিন, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং আঁশযুক্ত খাবার খান।

তবে তিনি সতর্কও করেছেন। যদি নতুন করে বা দীর্ঘদিন পেট ফাঁপা থাকে, ওজন কমে যায়, পায়খানায় রক্ত যায়, তীব্র ব্যথা হয় বা রাতে উপসর্গ বাড়ে—তাহলে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ডা. শেঠির কথায়, পেট ফাঁপা আসলে শরীরের একটি সংকেত। খাওয়ার অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই অনেক সময় এই সমস্যা থেকে স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।

সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি ৫ দিন: নোয়াব

» শরণখোলায় ১৮ ফুট লম্বা অজগরের পেটে ছাগল, পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত

» দেড় হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রি দিলেন  সাবেক ইউপি সদস্য

» বড়াইগ্রামে মহাসড়কের পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

» ব্র্যাক ব্যাংক বিক্রয় বিভাগের নারী কর্মীরা কেন সার্থক?

» রবি ওয়াইফাই কিনে স্মার্ট টিভি ও শপিং ভাউচার জেতার সুযোগ

» বিএনপি ক্ষমতার জন‍্য রাজনীতি করে না, বিএনপি রাজনীতি করে  জনগণের জন্য — ড.আব্দুল মঈন

» প্রথম ধাপে বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড পেল ৪৯৬ জন

» দুই ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

» তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলিসহ দুজন গ্রেপ্তার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ধীরে খাওয়া আর সঠিক খাবারেই মিলতে পারে পেটের স্বস্তি

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই পেট ভারী লাগে, ফাঁপা ভাব হয়। কখনো গ্যাস, কখনো অস্বস্তি। এই সমস্যা ছোট–বড় সব বয়সের মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। হার্ভার্ডে প্রশিক্ষিত পেটের রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. সৌরভ শেঠি সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছেন—কেন এই পেট ফাঁপার সমস্যা হয় এবং কী করলে তা কমানো যায়। ডা. শেঠি বলছেন, শুধু গ্যাসই পেট ফাঁপার একমাত্র কারণ নয়। আমাদের খাওয়ার ধরন, কী খাবার খাচ্ছি এবং পেটের ভেতরের স্বাভাবিক কাজকর্ম—সবকিছুর সঙ্গেই এটি জড়িত।

তিনি প্রথমেই বলেন, খুব দ্রুত খাবার খাওয়া বড় একটি কারণ। যারা ১০ মিনিটের কম সময়ে খাবার শেষ করেন, তারা বেশি বাতাস গিলে ফেলেন। এতে খাবার হজম ঠিকমতো হয় না এবং পেট ফাঁপে। তাই ধীরে ধীরে খাবার চিবিয়ে খাওয়া জরুরি। পেট ভরে গেলে থামতে হবে, অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়।

দ্বিতীয় কারণ হলো খাবারের ধরন। দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, পেঁয়াজ-রসুন, বড় কাঁচা সালাদ এবং কিছু কৃত্রিম মিষ্টি অনেকের পেটে গ্যাস তৈরি করে। দুধের মধ্যে থাকা ল্যাকটোজ (এক ধরনের চিনি) হজম না হলে পেট ফাঁপতে পারে। ডায়রিয়া না হলেও হালকা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

তৃতীয় বিষয়টি হলো মলত্যাগের অভ্যাস। প্রতিদিন টয়লেটে গেলেও অনেক সময় পেট পুরো পরিষ্কার হয় না। তখন খাবার খেলেই পেট ভারী লাগে। কিছু ক্ষেত্রে আইবিএস (পেটের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা) বা সিবো (ছোট অন্ত্রে অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া) থাকলেও প্রায় প্রতিবার খাবারের পর পেট ফাঁপে।

পেট ফাঁপা কমাতে ডা. শেঠির সহজ পরামর্শ—খেতে সময় নিন (১৫–২০ মিনিট), কাঁচা সবজির বদলে রান্না করা সবজি খান, দুধে সমস্যা হলে ল্যাকটোজমুক্ত খাবার নিন, কোমল পানীয় ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন। প্রতিদিন খাবারের পর অন্তত ১০ মিনিট হাঁটুন, পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং আঁশযুক্ত খাবার খান।

তবে তিনি সতর্কও করেছেন। যদি নতুন করে বা দীর্ঘদিন পেট ফাঁপা থাকে, ওজন কমে যায়, পায়খানায় রক্ত যায়, তীব্র ব্যথা হয় বা রাতে উপসর্গ বাড়ে—তাহলে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ডা. শেঠির কথায়, পেট ফাঁপা আসলে শরীরের একটি সংকেত। খাওয়ার অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই অনেক সময় এই সমস্যা থেকে স্বস্তি পাওয়া সম্ভব।

সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com