বিয়ে পড়াবেন কীভাবে? জেনে নিন সুন্নত পদ্ধতি

সংগৃহীত ছবি

 

ধর্ম ডেস্ক :ইসলামে বিবাহ একটি পবিত্র চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এতে বর-কনের স্বাধীন সম্মতি একটি মৌলিক শর্ত। জোরপূর্বক বিবাহ ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিম্নে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিবাহ পড়ানোর সুন্নতি পদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

১. বর-কনের সম্মতি অপরিহার্য

ইসলাম জোরপূর্বক বিবাহকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে তোমরা জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে।’ (সুরা নিসা: ১৯)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (স.) বলেছেন- ‘কোনো বিধবা নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কোনো কুমারি নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কুমারির অনুমতি কীভাবে বোঝা যাবে? তিনি বললেন, ‘তার চুপ থাকাই তার অনুমতি।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬)

২. বিবাহের সময় ও স্থান

বিবাহ সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়। মসজিদে এবং জুমার দিনে বিবাহ হওয়া উত্তম; এতে বিবাহের ঘোষণা ও জনসমাগম বৃদ্ধি পায়। তবে অন্য দিন ও অন্য স্থানেও শরয়িভাবে বিবাহ সম্পন্ন করা বৈধ।

৩. কনের অনুমতি গ্রহণ

বিবাহ পড়ানোর আগে অবশ্যই কনের কাছ থেকে স্পষ্টভাবে অনুমতি নিতে হবে। কনের সম্মতি ছাড়া কোনো বিবাহ শুদ্ধ নয়। (সহিহ মুসলিম: ১৪১৯; আলবাহরুর রায়েক: ৩/১১০; ফাতহুল কাদির: ৩/১৬১)

৪. অভিভাবকের ভূমিকা ও অনুমতি

বিশেষ করে কনের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।’ (সুনানে তিরমিজি: ১১০১)

৫. বিবাহের খুতবা পাঠ

বিবাহের শুরুতে সুন্নাহ অনুযায়ী বিবাহের খুতবা পাঠ করতে হবে। খুতবার কাঠামো হবে-

প্রথমে আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ, এরপর নিম্নোক্ত তিনটি আয়াত তেলাওয়াত করা:

সুরা নিসা, আয়াত: ১, সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২, সুরা আহজাব, আয়াত: ৭০–৭১ (সুনানে আবু দাউদ: ২১১৮)

৬. ইজাব ও কবুল

খুতবা পাঠের পর কনের অভিভাবক বরের সামনে কনের পরিচয় ও মোহরের পরিমাণ উল্লেখ করে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করবেন; এটিকে ইজাব বলা হয়। এরপর বর স্পষ্টভাবে বলবে- ‘কবুল করলাম’, ‘আমি গ্রহণ করলাম’ বা অনুরূপ শব্দে। এটিই কবুল।

৭. সাক্ষীর উপস্থিতি

বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য কমপক্ষে দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক। বর উচ্চস্বরে কবুল বলবে; তিনবার বলা উত্তম। (সহিহ বুখারি: ৯৫)

উল্লেখ্য, কবুল শুধু বরই বলবে। কনের পক্ষ থেকে অভিভাবক সম্মতি প্রদান করবেন। বর যদি বোবা হন, তবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইশারা বা লেখার মাধ্যমেও কবুল করা বৈধ।

৮. সুন্নতি দোয়া

ইজাব-কবুল সম্পন্ন হওয়ার পর উপস্থিত সবাই বর-কনের জন্য নিম্নোক্ত সুন্নতি দোয়া পাঠ করবে-

‘বা-রাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বা-রাকা আলাইকা, ওয়া জামাআ বায়নাকুমা ফী খায়র।’ অর্থ: ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের দুজনকে কল্যাণের সঙ্গে একত্রিত করুন।’ (সুনানে তিরমিজি: ১০৯১)

বিবাহ একটি ইবাদত; তাই তা সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পন্ন করাই কাম্য। বর-কনের সম্মতি, অভিভাবকের ভূমিকা, সাক্ষীর উপস্থিতি এবং সঠিক ইজাব-কবুলের মাধ্যমেই একটি বিবাহ শরয়িভাবে সম্পন্ন হয় এবং তাতে বরকত নেমে আসে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সুন্নত মোতাবেক পবিত্র দাম্পত্য জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।  সূএ: ঢাকা মেইল ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার অধিকার কেড়ে নিচ্ছে আইসিসি: আসিফ নজরুল

» ভারতীয় মদসহ ৩ মাদক কারবারি আটক

» ট্রেনে কাটা পড়ে বাকপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু

» সেনাবাহিনীর অভিযানে ১৮জন গ্রেফতার

» ঢাকা-১১ আসনজুড়ে ভয়ের পরিবেশ, মানা হচ্ছে না আচরণবিধিও: নাহিদ

» তারেক রহমানের ফ্যামিলি কার্ড হবে মা-বোনদের অস্ত্র: মির্জা ফখরুল

» ‘উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়’

» নতুন ওয়েব ফিল্মে অপু বিশ্বাস

» ভারতের সঙ্গে বিএনপির চুক্তি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : মাহদী আমিন

» মাদক ও চাঁদাবাজমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার আমিনুল হকের

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বিয়ে পড়াবেন কীভাবে? জেনে নিন সুন্নত পদ্ধতি

সংগৃহীত ছবি

 

ধর্ম ডেস্ক :ইসলামে বিবাহ একটি পবিত্র চুক্তি ও গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এতে বর-কনের স্বাধীন সম্মতি একটি মৌলিক শর্ত। জোরপূর্বক বিবাহ ইসলামে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিম্নে কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে বিবাহ পড়ানোর সুন্নতি পদ্ধতি সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

১. বর-কনের সম্মতি অপরিহার্য

ইসলাম জোরপূর্বক বিবাহকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে তোমরা জোরপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে।’ (সুরা নিসা: ১৯)

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী কারিম (স.) বলেছেন- ‘কোনো বিধবা নারীকে তার সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না এবং কোনো কুমারি নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না।’ সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! কুমারির অনুমতি কীভাবে বোঝা যাবে? তিনি বললেন, ‘তার চুপ থাকাই তার অনুমতি।’ (সহিহ বুখারি: ৫১৩৬)

২. বিবাহের সময় ও স্থান

বিবাহ সুন্নাহসম্মত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা বাঞ্ছনীয়। মসজিদে এবং জুমার দিনে বিবাহ হওয়া উত্তম; এতে বিবাহের ঘোষণা ও জনসমাগম বৃদ্ধি পায়। তবে অন্য দিন ও অন্য স্থানেও শরয়িভাবে বিবাহ সম্পন্ন করা বৈধ।

৩. কনের অনুমতি গ্রহণ

বিবাহ পড়ানোর আগে অবশ্যই কনের কাছ থেকে স্পষ্টভাবে অনুমতি নিতে হবে। কনের সম্মতি ছাড়া কোনো বিবাহ শুদ্ধ নয়। (সহিহ মুসলিম: ১৪১৯; আলবাহরুর রায়েক: ৩/১১০; ফাতহুল কাদির: ৩/১৬১)

৪. অভিভাবকের ভূমিকা ও অনুমতি

বিশেষ করে কনের ক্ষেত্রে অভিভাবকের অনুমতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন- ‘অভিভাবক ছাড়া কোনো বিবাহ নেই।’ (সুনানে তিরমিজি: ১১০১)

৫. বিবাহের খুতবা পাঠ

বিবাহের শুরুতে সুন্নাহ অনুযায়ী বিবাহের খুতবা পাঠ করতে হবে। খুতবার কাঠামো হবে-

প্রথমে আল্লাহর হামদ ও ছানা পাঠ, এরপর নিম্নোক্ত তিনটি আয়াত তেলাওয়াত করা:

সুরা নিসা, আয়াত: ১, সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২, সুরা আহজাব, আয়াত: ৭০–৭১ (সুনানে আবু দাউদ: ২১১৮)

৬. ইজাব ও কবুল

খুতবা পাঠের পর কনের অভিভাবক বরের সামনে কনের পরিচয় ও মোহরের পরিমাণ উল্লেখ করে বিবাহের প্রস্তাব পেশ করবেন; এটিকে ইজাব বলা হয়। এরপর বর স্পষ্টভাবে বলবে- ‘কবুল করলাম’, ‘আমি গ্রহণ করলাম’ বা অনুরূপ শব্দে। এটিই কবুল।

৭. সাক্ষীর উপস্থিতি

বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার জন্য কমপক্ষে দুইজন ন্যায়পরায়ণ মুসলিম সাক্ষীর উপস্থিতি আবশ্যক। বর উচ্চস্বরে কবুল বলবে; তিনবার বলা উত্তম। (সহিহ বুখারি: ৯৫)

উল্লেখ্য, কবুল শুধু বরই বলবে। কনের পক্ষ থেকে অভিভাবক সম্মতি প্রদান করবেন। বর যদি বোবা হন, তবে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ইশারা বা লেখার মাধ্যমেও কবুল করা বৈধ।

৮. সুন্নতি দোয়া

ইজাব-কবুল সম্পন্ন হওয়ার পর উপস্থিত সবাই বর-কনের জন্য নিম্নোক্ত সুন্নতি দোয়া পাঠ করবে-

‘বা-রাকাল্লাহু লাকা, ওয়া বা-রাকা আলাইকা, ওয়া জামাআ বায়নাকুমা ফী খায়র।’ অর্থ: ‘আল্লাহ তোমাকে বরকত দান করুন, তোমার ওপর বরকত নাজিল করুন এবং তোমাদের দুজনকে কল্যাণের সঙ্গে একত্রিত করুন।’ (সুনানে তিরমিজি: ১০৯১)

বিবাহ একটি ইবাদত; তাই তা সুন্নাহ অনুযায়ী সম্পন্ন করাই কাম্য। বর-কনের সম্মতি, অভিভাবকের ভূমিকা, সাক্ষীর উপস্থিতি এবং সঠিক ইজাব-কবুলের মাধ্যমেই একটি বিবাহ শরয়িভাবে সম্পন্ন হয় এবং তাতে বরকত নেমে আসে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে সুন্নত মোতাবেক পবিত্র দাম্পত্য জীবন গঠনের তাওফিক দান করুন। আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।  সূএ: ঢাকা মেইল ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com