জাতিসংঘে গাজার ‘গণহত্যার’ করুণ চিত্র তুলে ধরলেন এরদোয়ান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আবার নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ কথা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, এখান থেকে আমি আন্তরিকভাবে সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আজই সেই দিন, আজ মানবতার খাতিরে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর দিন। যখন আপনাদের জনগণ গাজায় চলমান বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তখন সাহস দেখান, এগিয়ে আসুন।

ফিলিস্তিনকে যেসব দেশ এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যারা এখনও স্বীকৃতি দেয়নি তাদের উচিত ‘আর দেরি না করে’ পদক্ষেপ নেওয়া। গত ২৩ মাস ধরে গাজায় প্রতি ঘণ্টায় একটি করে শিশু নিহত হয়েছে।’ এরদোয়ান বলেন, ‘এগুলো সংখ্যা নয়, এরা নিষ্পাপ মানুষ।’

 

প্রতিদিন ২৫ লাখ গাজাবাসী তাদের অবস্থান থেকে স্থানচ্যুত হচ্ছে, অন্যত্র যেতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে বলেও জানান তিনি। গাজার শিশুদের ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, ‘মাত্র দুই বা তিন বছরের ছোট ছোট বাচ্চারা হাত-পা হারাচ্ছে। আজ গাজায় এটি এক সাধারণ দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

 

এরপর এক জীবিত কঙ্কাল হয়ে যাওয়া শিশুর ছবি দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কোন বিবেক এটি সহ্য করতে পারে, কোন বিবেক নীরব থাকতে পারে? যে বিশ্বে শিশুরা ক্ষুধায়, ওষুধের অভাবে মারা যায়, সেখানে শান্তি কীভাবে সম্ভব?’ ইসরায়েলের চলমান ‘গণহত্যার’ প্রমাণ হিসেবে আনাদোলুর তোলা এ ছবি উপস্থাপন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকায়, ইউরোপে, বিশ্বজুড়ে কোথাও যদি কোনো শিশুর হাতে ছোট্ট কাঁটা বিঁধে, তখন বাবা-মায়ের হৃদয় কেঁপে ওঠে। অথচ গাজায় শিশুদের হাত-পা অজ্ঞান না করেই কেটে ফেলতে হচ্ছে। স্পষ্ট করে বলি, এটাই মানবতার সর্বনিম্ন স্তর। গত শতকে মানব ইতিহাস এমন বর্বরতা প্রত্যক্ষ করেনি। আমাদের চোখের সামনেই সবকিছু ঘটছে। গণহত্যা সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।’

 

এরদোয়ান বলেন, গাজায় আসলে কোনো যুদ্ধ চলছে না, ইসরায়েলি সেনারা সর্বাধুনিক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার অজুহাতে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কোনো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নয়, বরং নির্বাসন, গণহত্যা ও গণনিধনের নীতি।

 

ইসরায়েল শুধু গাজা ও পশ্চিম তীরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক শান্তিকেও হুমকির মুখে ফেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া কাতারে সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরায়েল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শান্তি চান না কিংবা বন্দিদের মুক্ত করতেও আগ্রহী নন।’ সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিন আজ

» শিক্ষায় বাজেট শিক্ষাঙ্গন দখল করে চাঁদাবাজির বিস্তার করার জন্য: হামিদুর

» শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ৫ দিনের রিমান্ডে

» ইরানের ভয়ে গোপনে বিমান পাল্টানোর কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প

» গাজীপুর, খুলনা ও কুষ্টিয়ায় নতুন পুলিশ সুপার

» বিশেষ অভিযানে মোট ৬৭ জন গ্রেফতার

» আগামী দুই বছরে ঢাকার চেহারা পরিবর্তন করা সম্ভব : প্রশাসক

» হামের টিকাদানে ডিএনসিসি সফল, আগামী সপ্তাহে কলেরা টিকা: প্রশাসক

» অপহৃত স্কুলছাত্রী উদ্ধার, মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

» ইয়াবাসহ দুইজন আটক

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জাতিসংঘে গাজার ‘গণহত্যার’ করুণ চিত্র তুলে ধরলেন এরদোয়ান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান আবার নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি এ কথা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, এখান থেকে আমি আন্তরিকভাবে সব রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আজই সেই দিন, আজ মানবতার খাতিরে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর দিন। যখন আপনাদের জনগণ গাজায় চলমান বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে, তখন সাহস দেখান, এগিয়ে আসুন।

ফিলিস্তিনকে যেসব দেশ এখন পর্যন্ত স্বীকৃতি দিয়েছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যারা এখনও স্বীকৃতি দেয়নি তাদের উচিত ‘আর দেরি না করে’ পদক্ষেপ নেওয়া। গত ২৩ মাস ধরে গাজায় প্রতি ঘণ্টায় একটি করে শিশু নিহত হয়েছে।’ এরদোয়ান বলেন, ‘এগুলো সংখ্যা নয়, এরা নিষ্পাপ মানুষ।’

 

প্রতিদিন ২৫ লাখ গাজাবাসী তাদের অবস্থান থেকে স্থানচ্যুত হচ্ছে, অন্যত্র যেতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে বলেও জানান তিনি। গাজার শিশুদের ভয়াবহ অবস্থা তুলে ধরে এরদোয়ান বলেন, ‘মাত্র দুই বা তিন বছরের ছোট ছোট বাচ্চারা হাত-পা হারাচ্ছে। আজ গাজায় এটি এক সাধারণ দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

 

এরপর এক জীবিত কঙ্কাল হয়ে যাওয়া শিশুর ছবি দেখিয়ে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘কোন বিবেক এটি সহ্য করতে পারে, কোন বিবেক নীরব থাকতে পারে? যে বিশ্বে শিশুরা ক্ষুধায়, ওষুধের অভাবে মারা যায়, সেখানে শান্তি কীভাবে সম্ভব?’ ইসরায়েলের চলমান ‘গণহত্যার’ প্রমাণ হিসেবে আনাদোলুর তোলা এ ছবি উপস্থাপন করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।

 

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকায়, ইউরোপে, বিশ্বজুড়ে কোথাও যদি কোনো শিশুর হাতে ছোট্ট কাঁটা বিঁধে, তখন বাবা-মায়ের হৃদয় কেঁপে ওঠে। অথচ গাজায় শিশুদের হাত-পা অজ্ঞান না করেই কেটে ফেলতে হচ্ছে। স্পষ্ট করে বলি, এটাই মানবতার সর্বনিম্ন স্তর। গত শতকে মানব ইতিহাস এমন বর্বরতা প্রত্যক্ষ করেনি। আমাদের চোখের সামনেই সবকিছু ঘটছে। গণহত্যা সরাসরি সম্প্রচারিত হচ্ছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।’

 

এরদোয়ান বলেন, গাজায় আসলে কোনো যুদ্ধ চলছে না, ইসরায়েলি সেনারা সর্বাধুনিক ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে নিরীহ সাধারণ মানুষের ওপর। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার অজুহাতে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কোনো সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান নয়, বরং নির্বাসন, গণহত্যা ও গণনিধনের নীতি।

 

ইসরায়েল শুধু গাজা ও পশ্চিম তীরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; সিরিয়া, ইরান, ইয়েমেন ও লেবাননে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক শান্তিকেও হুমকির মুখে ফেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া কাতারে সাম্প্রতিক হামলার পর ইসরায়েল সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, এটি প্রমাণ করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শান্তি চান না কিংবা বন্দিদের মুক্ত করতেও আগ্রহী নন।’ সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com