সাপ কেন খোলস বদলায় জানেন?

ছবি সংগৃহীত

 

ফিচার ডেস্ক : মাঝে মাঝেই বাড়ির আনাচে কানাচে সাপের খোলস পরে থাকতে হয়তো দেখবেন। কিংবা ছোটবেলায় দেখেছেন অনেকে। শহরে এই দৃশ্যের সাক্ষী না হলেও গ্রামে যাদের বসবাস তারা এখনো সাপের খোলস দেখতে পান। কিন্তু সাপ কেন খোলস বদলায় জানেন কি? এ নিয়ে অনেক ধরনের গল্পকথা ছড়িয়ে আছে আমাদের গ্রামবাংলার মানুষের মুখে মুখে।

 

সাপ জীবনের বিভিন্ন সময় তাদের পুরোনো চামড়া ঝরিয়ে নতুন চামড়া গড়ে তোলে যাতে তারা আরও স্বস্তিতে থাকতে পারে। বছরে ২ থেকে ৪ বার তাদের চামড়া ঝরায় সাপ। এই প্রক্রিয়াকে একডাইসিস বলা হয়। এতে শরীর বৃদ্ধি পায়, পরজীবী দূর হয় এবং কোনো ব্যথাও হয় না। অনেক প্রাণীও এই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।

আসলে সব প্রাণীর মতো সাপের হাড়, পেশি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জীবনের সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়, কিন্তু তাদের চামড়া সেই হারে বাড়ে না। ফলে সাপ ধীরে ধীরে তাদের পুরোনো চামড়া ছোট মনে করতে শুরু করে, এবং তার নিচে একটি নতুন চামড়া গড়ে ওঠে। এরপর পুরোনো চামড়াটি তারা ঝরিয়ে ফেলে। এই প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হয় একডাইসিস। এই প্রক্রিয়ার আরও একটি উপকারিতা হলো এতে চামড়ায় লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকর পরজীবীও দূর হয়।

 

সাপ কীভাবে চামড়া ছাড়ায় জানেন? চামড়া ঝরানোর কিছুদিন আগে সাপের গায়ের রং মলিন হয়ে আসে এবং চোখ ঘোলা বা ধূসর দেখায়। তখন তাদের দৃষ্টিশক্তি আরও কমে যায়। এই সময় সাপ সাধারণত কোনো পাথরের গায়ে মাথা ঘষে পুরোনো চামড়ায় ফাটল ধরিয়ে দেয় এবং সেখান থেকেই চামড়া ছাড়ানো শুরু হয়।

চামড়া ছাড়ানোর সময় সাপ অত্যন্ত দুর্বল অনুভব করে, তাই তারা সাধারণত গর্ত বা নিরাপদ জায়গায় নিজেকে আড়াল করে রাখে। সেই কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপের চামড়া ছাড়ানোর দৃশ্য দেখা খুবই কঠিন।

 

তবে এই প্রক্রিয়াটি সাপের জন্য বেদনাদায়ক নয়। পুরোনো এবং নতুন চামড়ার মাঝে এক ধরনের প্রাকৃতিক তরল তৈরি হয়, যা সাপকে সহজে এবং স্বস্তিতে চামড়া ছাড়াতে সাহায্য করে। সাধারণত বছরে ২ থেকে ৪ বার সাপরা এই কাজটি করে।

 

সাপ অনেক সময় উজ্জ্বল রঙের হলেও পুরোনো চামড়ায় তেমন রং দেখা যায় না। কারণ সাপ শুধু উপরিভাগের কেরাটিনযুক্ত স্তরটি (যা আমাদের নখ তৈরি করে) ঝরায়, ভেতরের রঙিন স্তরটি থেকে যায়। সাপের রং এবং নকশা পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকার জন্য, শিকার টানার জন্য বা শত্রুকে ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার হয়।

সাপ ছাড়াও অন্য অনেক প্রাণী আছে যারা শরীরের চামড়া ছাড়ায়। অনেক প্রাণীই তাদের বাইরের স্তর পরিবর্তন করে। যেমন-মাকড়সা, কীটপতঙ্গ এবং কাঁকড়া। ট্যারান্টুলা প্রজাতির মাকড়সা প্রতি বছর তাদের এক্সোস্কেলেটন ঝরায় যাতে তাদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত না হয়। ঘাসফড়িং কেবল তাদের নিম্ফ অবস্থায় এই কাজ করে, বড় হলে আর করে না। কাঁকড়ারাও সাপের মতো চামড়া ঝরিয়ে পরজীবী ও পুরোনো আবরণ ত্যাগ করে।

খোলস বা চামড়া ঝরানো শুধু একটি শারীরিক প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক, পরজীবী মুক্তিকর এবং নতুন বৃদ্ধির সূচক। প্রকৃতিতে এই চক্রে রয়েছে প্রাণীদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও টিকে থাকার কৌশল। যা প্রকৃতিতে টিকে থাকতে অনেক প্রাণীই করে থাকে।

সূএ :জাগোনিউজ২৪.কম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মাদরাসার ওয়াশরুম থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় রিভলবার ও গুলি উদ্ধার

» আগামী এক বছরের মধ্যে রূপগঞ্জের দুই সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে : সেতু প্রতিমন্ত্রী

» জুলাই সনদের ফয়সালা সংসদে না হলে রাজপথে হবে: গোলাম পরওয়ার

» জামায়াত আমিরের সঙ্গে পাকিস্তান হাইকমিশনারের বৈঠক

» গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে কাজ করবে সরকার: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

» নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেওয়ার আহ্বান: প্রধানমন্ত্রী

» বিভাগে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৬ জন গ্রেফতার

» পুলিশের অভিযানে ১০ মাদক কারবারি গ্রেফতার

» সোনারগাঁয়ে শপিংমলে অগ্নিকাণ্ড

» ট্রাক উল্টে রেললাইন ব্লক, কুড়িগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সাপ কেন খোলস বদলায় জানেন?

ছবি সংগৃহীত

 

ফিচার ডেস্ক : মাঝে মাঝেই বাড়ির আনাচে কানাচে সাপের খোলস পরে থাকতে হয়তো দেখবেন। কিংবা ছোটবেলায় দেখেছেন অনেকে। শহরে এই দৃশ্যের সাক্ষী না হলেও গ্রামে যাদের বসবাস তারা এখনো সাপের খোলস দেখতে পান। কিন্তু সাপ কেন খোলস বদলায় জানেন কি? এ নিয়ে অনেক ধরনের গল্পকথা ছড়িয়ে আছে আমাদের গ্রামবাংলার মানুষের মুখে মুখে।

 

সাপ জীবনের বিভিন্ন সময় তাদের পুরোনো চামড়া ঝরিয়ে নতুন চামড়া গড়ে তোলে যাতে তারা আরও স্বস্তিতে থাকতে পারে। বছরে ২ থেকে ৪ বার তাদের চামড়া ঝরায় সাপ। এই প্রক্রিয়াকে একডাইসিস বলা হয়। এতে শরীর বৃদ্ধি পায়, পরজীবী দূর হয় এবং কোনো ব্যথাও হয় না। অনেক প্রাণীও এই একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়।

আসলে সব প্রাণীর মতো সাপের হাড়, পেশি ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জীবনের সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়, কিন্তু তাদের চামড়া সেই হারে বাড়ে না। ফলে সাপ ধীরে ধীরে তাদের পুরোনো চামড়া ছোট মনে করতে শুরু করে, এবং তার নিচে একটি নতুন চামড়া গড়ে ওঠে। এরপর পুরোনো চামড়াটি তারা ঝরিয়ে ফেলে। এই প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলা হয় একডাইসিস। এই প্রক্রিয়ার আরও একটি উপকারিতা হলো এতে চামড়ায় লুকিয়ে থাকা ক্ষতিকর পরজীবীও দূর হয়।

 

সাপ কীভাবে চামড়া ছাড়ায় জানেন? চামড়া ঝরানোর কিছুদিন আগে সাপের গায়ের রং মলিন হয়ে আসে এবং চোখ ঘোলা বা ধূসর দেখায়। তখন তাদের দৃষ্টিশক্তি আরও কমে যায়। এই সময় সাপ সাধারণত কোনো পাথরের গায়ে মাথা ঘষে পুরোনো চামড়ায় ফাটল ধরিয়ে দেয় এবং সেখান থেকেই চামড়া ছাড়ানো শুরু হয়।

চামড়া ছাড়ানোর সময় সাপ অত্যন্ত দুর্বল অনুভব করে, তাই তারা সাধারণত গর্ত বা নিরাপদ জায়গায় নিজেকে আড়াল করে রাখে। সেই কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশে সাপের চামড়া ছাড়ানোর দৃশ্য দেখা খুবই কঠিন।

 

তবে এই প্রক্রিয়াটি সাপের জন্য বেদনাদায়ক নয়। পুরোনো এবং নতুন চামড়ার মাঝে এক ধরনের প্রাকৃতিক তরল তৈরি হয়, যা সাপকে সহজে এবং স্বস্তিতে চামড়া ছাড়াতে সাহায্য করে। সাধারণত বছরে ২ থেকে ৪ বার সাপরা এই কাজটি করে।

 

সাপ অনেক সময় উজ্জ্বল রঙের হলেও পুরোনো চামড়ায় তেমন রং দেখা যায় না। কারণ সাপ শুধু উপরিভাগের কেরাটিনযুক্ত স্তরটি (যা আমাদের নখ তৈরি করে) ঝরায়, ভেতরের রঙিন স্তরটি থেকে যায়। সাপের রং এবং নকশা পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকার জন্য, শিকার টানার জন্য বা শত্রুকে ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার হয়।

সাপ ছাড়াও অন্য অনেক প্রাণী আছে যারা শরীরের চামড়া ছাড়ায়। অনেক প্রাণীই তাদের বাইরের স্তর পরিবর্তন করে। যেমন-মাকড়সা, কীটপতঙ্গ এবং কাঁকড়া। ট্যারান্টুলা প্রজাতির মাকড়সা প্রতি বছর তাদের এক্সোস্কেলেটন ঝরায় যাতে তাদের বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত না হয়। ঘাসফড়িং কেবল তাদের নিম্ফ অবস্থায় এই কাজ করে, বড় হলে আর করে না। কাঁকড়ারাও সাপের মতো চামড়া ঝরিয়ে পরজীবী ও পুরোনো আবরণ ত্যাগ করে।

খোলস বা চামড়া ঝরানো শুধু একটি শারীরিক প্রক্রিয়া নয়। এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক, পরজীবী মুক্তিকর এবং নতুন বৃদ্ধির সূচক। প্রকৃতিতে এই চক্রে রয়েছে প্রাণীদের নিজস্ব নিরাপত্তা ও টিকে থাকার কৌশল। যা প্রকৃতিতে টিকে থাকতে অনেক প্রাণীই করে থাকে।

সূএ :জাগোনিউজ২৪.কম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com