<script async src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”></script>
<!– ccf –>
<ins class=”adsbygoogle”
style=”display:block”
data-ad-client=”ca-pub-6746894633655595″
data-ad-slot=”3307490317″
data-ad-format=”auto”
data-full-width-responsive=”true”></ins>
<script>
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
</script>

<script async src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”></script>
<!– ccf –>
<ins class=”adsbygoogle”
style=”display:block”
data-ad-client=”ca-pub-6746894633655595″
data-ad-slot=”3307490317″
data-ad-format=”auto”
data-full-width-responsive=”true”></ins>
<script>
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
</script>

৫০ টাকায় কেনা হাসি…

তখন রাত সাড়ে ১১টা। নতুন সহকর্মীকে লেখা সম্পাদনার কাজ দেখিয়ে দিতে একটু দেরি। এদিকে সময় আর আমাকে থাকতে দিতে চাচ্ছে না। চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে অফিস থেকে নিচে নামলাম। তার অতীতের কথা ও বর্তমান বিষয়গুলো নিয়ে খোশগল্প করতে করতে বাসার দিকে হাঁটছি।

একটু যেতেই তিনি তার পথে যেতে বিদায় নিলেন। আমি সামনের দিকে হেঁটেই চলছি। এদিকে ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টায় এসে থেমেছে। আসে পাশের সব দোকান-পাট বন্ধ। শীতও অনেক পড়েছে। এমন সময় পেছন থেকে ডাক, ‘মামা একটা তিলের খাজা নেবেন? মাত্র ১০ টাকা। নেন ভালো লাগবে’।

একটু চমকে গেলাম! আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন বৃদ্ধ। শরীরে একটা ময়লাযুক্ত কম্বল। মুখে একটা মিষ্টি হাসি। হাসির পেছনে একটা কষ্টের গল্প আছে, তা দেখলে বোঝা যায়। মনটা কেমন জানি করছে! তার গল্পটা শোনা দরকার। না হলে মনটা তৃপ্তি পাবে না।

বাসার দিকে না গিয়ে বসলাম তার পাশে। গল্প হলো তার সঙ্গে কিছু সময়। তার নাম আমিরুল ইসলাম। তিনি কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এসেছেন কাজ করার জন্য। এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে বৃদ্ধর। তারা খুবই ছোট। তিনি ঢাকার আবদুল্লাহপুরে থাকেন। দুই বছর আগে একটা দুর্ঘটনায় তিনি তার পায়ে আঘাত পান। ফলে এখন আর বড় বা ভারী কাজ করতে পারেন না।

পরিবারের একমাত্র অপার্জনকারী তিনি। বড় অভাবের সংসার। কারো কাছে তিনি সাহায্য নিতে নারাজ। নিজে কিছু করতে চান। সাহায্য গ্রহণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামা অন্যের কাছে হাত পাততে ভালো লাগে না।আর ভিক্ষা করতেও বিবেকে বাঁধে। মানুষ অনেক কথা কয়। আর মোর ভাইয়েরাও দেখে না। আত্মীয়স্বজন সবাই নিজের কাজ নিয়ে থাকে। কে কারে দেখবো কন? আমি নিজে এইভাবে সারারাত এই বেচাকেনার কাজ করি আর সংসার চালাই। রাতে তাড়াতাড়ি বাড়িতে গেলে কম বেচা হয়, এইজন্য যাই না। দেরিতে যাই। দেখি কী হয়?’

তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি আমাকে তার তিলের খাজাটা দিলেন। আমি নিয়ে তাকে ৫০ টাকার নোটটা দিলাম। তিনি ফেরত দিতে চাইলেন আমি না নিয়ে রেখে দিলাম। তিনি একটা সুন্দর হাসি দিলেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকার হাসি এত সুন্দর-নির্মল!

অতঃপর বাসার দিকে রওনা দিলাম। যদিও অনেক টাকা দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু মানিব্যাগের অবস্থাও করুন। দিতে পারি নাই। আক্ষেপ কিছুটা ছিল! আসুন এইভাবে এমন মানুষের পাশে দাঁড়াই। মানবিক হয়ে উঠি।

লেখক: শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী। সূএ:রাইজিংবিডি.কম

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সবার আগে খাদ্য উৎপাদন করতে হবে..আ.ন.ম ফয়জুল হক-ডিসি

» অর্ধলক্ষ মানুষের প্রত্যাশিত এরা বরাক নদীতে সেতুর কাজ শুরু

» পাঁচবিবির কয়া সীমান্তে ৭০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার

» যে ৪ ধরনের মানুষকে আল্লাহ ঘৃণা করেন

» সাকিবকে নিয়ে যা বললেন ক্যারিবিয় দলনেতা,

» লেবাননে লকডাউন : পিছিয়ে গেল প্রবাসীদের দেশে ফেরা

» প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আদেশ জারি

» সুইম স্যুট পরে আলোচনায় অপরাজিতা,

» যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে ৭৭ বোতল ফেন্সিডিলসহ স্বামী-স্ত্রীকে আটক

» গ্যালাক্সি এস২১ আল্ট্রা ৫জি ফোনের প্রি-অর্ডার শুরু.

<script async src=”https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js”></script>
<!– ccf –>
<ins class=”adsbygoogle”
style=”display:block”
data-ad-client=”ca-pub-6746894633655595″
data-ad-slot=”3307490317″
data-ad-format=”auto”
data-full-width-responsive=”true”></ins>
<script>
(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
</script>

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

৫০ টাকায় কেনা হাসি…

তখন রাত সাড়ে ১১টা। নতুন সহকর্মীকে লেখা সম্পাদনার কাজ দেখিয়ে দিতে একটু দেরি। এদিকে সময় আর আমাকে থাকতে দিতে চাচ্ছে না। চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে অফিস থেকে নিচে নামলাম। তার অতীতের কথা ও বর্তমান বিষয়গুলো নিয়ে খোশগল্প করতে করতে বাসার দিকে হাঁটছি।

একটু যেতেই তিনি তার পথে যেতে বিদায় নিলেন। আমি সামনের দিকে হেঁটেই চলছি। এদিকে ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টায় এসে থেমেছে। আসে পাশের সব দোকান-পাট বন্ধ। শীতও অনেক পড়েছে। এমন সময় পেছন থেকে ডাক, ‘মামা একটা তিলের খাজা নেবেন? মাত্র ১০ টাকা। নেন ভালো লাগবে’।

একটু চমকে গেলাম! আমি পেছনে তাকিয়ে দেখি আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে একজন বৃদ্ধ। শরীরে একটা ময়লাযুক্ত কম্বল। মুখে একটা মিষ্টি হাসি। হাসির পেছনে একটা কষ্টের গল্প আছে, তা দেখলে বোঝা যায়। মনটা কেমন জানি করছে! তার গল্পটা শোনা দরকার। না হলে মনটা তৃপ্তি পাবে না।

বাসার দিকে না গিয়ে বসলাম তার পাশে। গল্প হলো তার সঙ্গে কিছু সময়। তার নাম আমিরুল ইসলাম। তিনি কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় এসেছেন কাজ করার জন্য। এক মেয়ে ও এক ছেলে আছে বৃদ্ধর। তারা খুবই ছোট। তিনি ঢাকার আবদুল্লাহপুরে থাকেন। দুই বছর আগে একটা দুর্ঘটনায় তিনি তার পায়ে আঘাত পান। ফলে এখন আর বড় বা ভারী কাজ করতে পারেন না।

পরিবারের একমাত্র অপার্জনকারী তিনি। বড় অভাবের সংসার। কারো কাছে তিনি সাহায্য নিতে নারাজ। নিজে কিছু করতে চান। সাহায্য গ্রহণ করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মামা অন্যের কাছে হাত পাততে ভালো লাগে না।আর ভিক্ষা করতেও বিবেকে বাঁধে। মানুষ অনেক কথা কয়। আর মোর ভাইয়েরাও দেখে না। আত্মীয়স্বজন সবাই নিজের কাজ নিয়ে থাকে। কে কারে দেখবো কন? আমি নিজে এইভাবে সারারাত এই বেচাকেনার কাজ করি আর সংসার চালাই। রাতে তাড়াতাড়ি বাড়িতে গেলে কম বেচা হয়, এইজন্য যাই না। দেরিতে যাই। দেখি কী হয়?’

তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে তিনি আমাকে তার তিলের খাজাটা দিলেন। আমি নিয়ে তাকে ৫০ টাকার নোটটা দিলাম। তিনি ফেরত দিতে চাইলেন আমি না নিয়ে রেখে দিলাম। তিনি একটা সুন্দর হাসি দিলেন। মাত্র পঞ্চাশ টাকার হাসি এত সুন্দর-নির্মল!

অতঃপর বাসার দিকে রওনা দিলাম। যদিও অনেক টাকা দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু মানিব্যাগের অবস্থাও করুন। দিতে পারি নাই। আক্ষেপ কিছুটা ছিল! আসুন এইভাবে এমন মানুষের পাশে দাঁড়াই। মানবিক হয়ে উঠি।

লেখক: শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মী। সূএ:রাইজিংবিডি.কম

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com