৪০০ ডলারে কানাডিয়ান হয়ে গেলেন নরসিংদীর সৈকত!..

৪০০ ডলার খরচ করে কিনেছেন বিদেশি এক নাগরিকের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। সেই অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন পেজ ভেরিফিকেশনের বিজ্ঞাপন। খরচ মাত্র ২০ হাজার টাকা। অনেকেই বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে হয়েছেন প্রতারিত। পুলিশ বলছে, নিজেকে ভেরিফায়েড এক্সপার্ট ও কানাডার নাগরিক দাবি করা সৈকত মিয়া আসলে নরসিংদীর বাসিন্দা। মিশরের একটি হ্যাকার দল অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটে এসব পেজ কেনাবেচার ব্যবসা করে বলেও তথ্য আছে গোয়েন্দাদের কাছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হৃদয় আহমেদ। ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা ৬৭ হাজার। নিজের অ্যাকাউন্টটি ভেরিফিকেশনের ইচ্ছা তার। ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন মাত্র ১০ হাজার অনুসারী থাকলেই অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড করে দেওয়া হয়। ওই গ্রুপের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগাম ১০ হাজার টাকা আর নিজের ইউজার আইডি দেন। তারপর কী হলো? ভুক্তভোগী হৃদয় আহমেদ জানান, লগ ইন করতে না পারার পর তার নম্বরে ফোন করি। এরপর তিনি আমাকে ব্লক করে দেয়। বিভিন্ন ব্লাক মার্কেটে যে গ্রুপগুলো আছে, সেখানে আমার এটি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন দেন তিনি। তখন আমি পুলিশের শরণাপন্ন হই।

মামলা হওয়ার পর পুলিশ খোঁজ পায় চার্লস এন্ড্রুস ব্রায়াম নামে একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের, যার মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন হৃদয় আহমেদ। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, নিজেকে কানাডিয়ান নাগরিক দাবি করা ওই ব্যক্তির আসল নাম সৈকত মিয়া। পরে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৈকত জানান, ৪০০ ডলার খরচ করে মিশরীয় এক নাগরিকের কাছ থেকে তার ভেরিফায়েড পেজ কেনার পর নিজের নামে চালানো শুরু করেন।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুনায়েদ আলম সরকার বলেন, সৈকত মিয়া আসলে দুটি পদক্ষেপে এটি করত। প্রথমত বলত যে ভেরিফায়েড করতে ২০ হাজার টাকা লাগবে, ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করত। এরপর সে যখন টাকা পেয়ে যেত তখন সবাইকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে বলত। এরপর সে ওই ইউজার আইডি দিয়ে পেজের নিয়ন্ত্রণটা নিয়ে নিত। এভাবে সে প্রতারণার কাজ করত।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, মিশরের একটি হ্যাকার দল অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটে এসব পেজ কেনাবেচার ব্যবসা করে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।

ফেসবুক পেজ ভেরিফাই করতে কয়েক হাজার লোক সৈকত মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তথ্য আছে গোয়েন্দাদের কাছে। যাদের অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

সূএ: খবর সময় নিউজ,বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কোনো ভাষণে দেশ স্বাধীন হয়নি: গয়েশ্বর

» ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়টি কিছুদিনের মধ্যে দেখবো:আনিসুল হক

» প্রেম ও যৌনতার ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করতো তারা

» বাংলাদেশের পথে মেট্রোরেলের প্রথম ট্রেন

» পুলিশের জেরার মুখে তামিমা

» ৭১ কেজি প্লাস্টিক খাওয়া গরুটি অবশেষে মারা গেল

» অবশেষে ফাঁসছেন নাসিরের স্ত্রী তামিমা!

» মহেশপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় নারী পুরুষ ও শিশুসহ ১৭ জন আটক

» নড়াইলে অভিযান চালিয়ে ১৫ লিটার মদ ও ইয়াবাসহ ৩ জন গ্রেফতার

» ভরণ-পোষণ আইনে ছেলের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

৪০০ ডলারে কানাডিয়ান হয়ে গেলেন নরসিংদীর সৈকত!..

৪০০ ডলার খরচ করে কিনেছেন বিদেশি এক নাগরিকের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। সেই অ্যাকাউন্টে দিয়েছেন পেজ ভেরিফিকেশনের বিজ্ঞাপন। খরচ মাত্র ২০ হাজার টাকা। অনেকেই বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে হয়েছেন প্রতারিত। পুলিশ বলছে, নিজেকে ভেরিফায়েড এক্সপার্ট ও কানাডার নাগরিক দাবি করা সৈকত মিয়া আসলে নরসিংদীর বাসিন্দা। মিশরের একটি হ্যাকার দল অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটে এসব পেজ কেনাবেচার ব্যবসা করে বলেও তথ্য আছে গোয়েন্দাদের কাছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হৃদয় আহমেদ। ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা ৬৭ হাজার। নিজের অ্যাকাউন্টটি ভেরিফিকেশনের ইচ্ছা তার। ফেসবুকে একটি গ্রুপের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন মাত্র ১০ হাজার অনুসারী থাকলেই অ্যাকাউন্ট ভেরিফায়েড করে দেওয়া হয়। ওই গ্রুপের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে আগাম ১০ হাজার টাকা আর নিজের ইউজার আইডি দেন। তারপর কী হলো? ভুক্তভোগী হৃদয় আহমেদ জানান, লগ ইন করতে না পারার পর তার নম্বরে ফোন করি। এরপর তিনি আমাকে ব্লক করে দেয়। বিভিন্ন ব্লাক মার্কেটে যে গ্রুপগুলো আছে, সেখানে আমার এটি বিক্রি করে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞাপন দেন তিনি। তখন আমি পুলিশের শরণাপন্ন হই।

মামলা হওয়ার পর পুলিশ খোঁজ পায় চার্লস এন্ড্রুস ব্রায়াম নামে একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টের, যার মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন হৃদয় আহমেদ। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, নিজেকে কানাডিয়ান নাগরিক দাবি করা ওই ব্যক্তির আসল নাম সৈকত মিয়া। পরে নরসিংদী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সৈকত জানান, ৪০০ ডলার খরচ করে মিশরীয় এক নাগরিকের কাছ থেকে তার ভেরিফায়েড পেজ কেনার পর নিজের নামে চালানো শুরু করেন।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার জুনায়েদ আলম সরকার বলেন, সৈকত মিয়া আসলে দুটি পদক্ষেপে এটি করত। প্রথমত বলত যে ভেরিফায়েড করতে ২০ হাজার টাকা লাগবে, ১০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করত। এরপর সে যখন টাকা পেয়ে যেত তখন সবাইকে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নম্বর দিতে বলত। এরপর সে ওই ইউজার আইডি দিয়ে পেজের নিয়ন্ত্রণটা নিয়ে নিত। এভাবে সে প্রতারণার কাজ করত।

ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, মিশরের একটি হ্যাকার দল অনলাইন ব্ল্যাক মার্কেটে এসব পেজ কেনাবেচার ব্যবসা করে বলে আমাদের কাছে তথ্য আছে।

ফেসবুক পেজ ভেরিফাই করতে কয়েক হাজার লোক সৈকত মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে তথ্য আছে গোয়েন্দাদের কাছে। যাদের অনেকেই প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

সূএ: খবর সময় নিউজ,বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com