২’শ কোটি টাকা বিক্রির টার্গেট লক্ষ্মীপুরে শীতের শাক সবজির বাম্পার ফলন

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে শীতের শাকসবজি ফলানোর মৌসুমে প্রথম বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লক্ষ্মীপুরের কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়লেও পরক্ষণে পানি নেমে যাওয়ার পর পুনরায় বীজতলা তৈরি করে কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। সত্যিই এবার সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাসহ রায়পুর কমলনগর ও রামগতির কৃষকেরা। বিভিন্ন চরচরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে এবার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় এসব এলাকার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
চলতি শীত মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ৪ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে শীতকালিন শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৬০০ মে.টন শাক-সবজি। যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ২০০ কোটি টাকারও বেশি। ফসল উৎপাদনে উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক পেয়েছেন কাঙ্খিত মূল্য। চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।গেল বছর শীত মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। অসময়ের ওই বৃষ্টিতে শাক-সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবার গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে লাভের মুখে দেখেছেন কৃষকরা। হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।
লক্ষ্মীপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলায় এবার ব্যাপকহারে শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর, রায়পুরে ১ হাজার ৭৫ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮০০ হেক্টর, রামগতিতে ১ হাজার ২০০ হেক্টর ও কমলনগরে ৩১০ হেক্টর জমিতে মূলা, লালশাক পালংশাক বেগুন টমেটো ফুলকপি বাঁধাকপি গাজর, লাউ বরবটি ওলকপি শালগম মিষ্টিকুমড়া করলা শীম ঢেঁড়শ শসা ধুন্দল ঝিঙা পটল শসা চিচিঙার ব্যাপক আবাদ হয়। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ মে.টন। যার গড় মূল্য প্রায় ২শ’ ১২ কোটি টাকা। উৎপাদিত ধানের চেয়ে শাক-সবজির দাম বেশি, লাভও বেশি। যে কারণে লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা শাক সবিজ আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিবছরই বাড়ছে সবজি আবাদ।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আবিরনগর, টুমচর, শাকচর, মিয়ারবেড়ি, চর উভূতি ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সারা বছর ধরে শাক সবজির চাষ হয়। তবে শীত মৌসুমে আবাদ হয় ব্যাপক হারে। জেলার সব চেয়ে বড় সবজির হাট পিয়ারাপুর। সপ্তাহে ৪দিন হাট বসে ওই বাজারে। স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি হাটে তোলে কৃষিপণ্য। পাইকারি দরে বিক্রি করেন তারা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এসব শাক-সবজি ট্রাক-পিকআপ ভরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন। স্থানীয় সবজি চাষিরা জানান, ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। যে কারণে কৃষকরা সবজি চাষে ঝুকছেন। সফলও হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে কাঁচামাল সংরক্ষণের সরকারি-বেসরকারি কোনো হিমাগার নেই। না থাকায় তাদের বিপাকে পড়তে হয়। ফসল কাটার পর-পরই বিক্রি করতে বাধ্য হন। যে কারণে তারা সারা বছর সংরক্ষণ করে শাক সবজি বিক্রি করতে পারেন না। হিমাগার থাকলে তারা আরও বেশি সুফল পেতেন। আয় বাড়ত।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, চলতি মৌসুমে আবহওয়া অনুকূলে থাকায় শাক-সবজির ভালো ফলন হয়েছে। বেশি ফসল উৎপাদনে কৃষকদের নানান ভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকের কল্যাণে কাজ করছেন।
Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধনের দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

» লালমনিরহাটে সময়ের আলো পত্রিকার দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত

» জামালপুরে কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

» পাঁচবিবিতে সড়ক দূর্ঘটনায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু

» ক্ষতি ২৫ কোটি টাকা আগুনে পুড়েছে ২৫ দোকান,আতঙ্কে ব্যবসায়ীর হার্টঅ্যাটাক!

» মধুপুরে  দৃষ্টিহীন  আয়শা পেলেন  প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘর উপহার

» সাবেক বিচারপতি এর কাজ থেকে নারী উদ্যোক্তা শফুরা’র সন্মাননা পদক গ্রহন 

» সর্বস্তরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা চালুর দাবিতে হিউম্যান রিসোর্স এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশনের আলোচনা সভা

» বাগেরহাটে ফকিরহাটে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে র‌্যালী ও আলোচনা সভা

» বাগেরহাটে বলেশ্বর নদে ৩০ কেজি ওজনের অজগর সুন্দরবনে   অবমুক্ত

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

২’শ কোটি টাকা বিক্রির টার্গেট লক্ষ্মীপুরে শীতের শাক সবজির বাম্পার ফলন

অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে শীতের শাকসবজি ফলানোর মৌসুমে প্রথম বীজতলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় লক্ষ্মীপুরের কৃষকেরা দুশ্চিন্তায় পড়লেও পরক্ষণে পানি নেমে যাওয়ার পর পুনরায় বীজতলা তৈরি করে কৃষকেরা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করেন। সত্যিই এবার সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠেছেন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলাসহ রায়পুর কমলনগর ও রামগতির কৃষকেরা। বিভিন্ন চরচরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে এবার সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি ভালো দাম পাওয়ায় এসব এলাকার কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
চলতি শীত মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ৪ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে শীতকালিন শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৬০০ মে.টন শাক-সবজি। যার বাজার মূল্য দাঁড়ায় ২০০ কোটি টাকারও বেশি। ফসল উৎপাদনে উপযোগী মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক পেয়েছেন কাঙ্খিত মূল্য। চাঙ্গা হয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতি।গেল বছর শীত মৌসুমে লক্ষ্মীপুরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। অসময়ের ওই বৃষ্টিতে শাক-সবজিসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এবার গত বছরের ক্ষতি কাটিয়ে লাভের মুখে দেখেছেন কৃষকরা। হাসি ফুটেছে তাদের মুখে।
লক্ষ্মীপুর কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলায় এবার ব্যাপকহারে শাক-সবজির আবাদ হয়েছে। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর, রায়পুরে ১ হাজার ৭৫ হেক্টর, রামগঞ্জে ৮০০ হেক্টর, রামগতিতে ১ হাজার ২০০ হেক্টর ও কমলনগরে ৩১০ হেক্টর জমিতে মূলা, লালশাক পালংশাক বেগুন টমেটো ফুলকপি বাঁধাকপি গাজর, লাউ বরবটি ওলকপি শালগম মিষ্টিকুমড়া করলা শীম ঢেঁড়শ শসা ধুন্দল ঝিঙা পটল শসা চিচিঙার ব্যাপক আবাদ হয়। এতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০ মে.টন। যার গড় মূল্য প্রায় ২শ’ ১২ কোটি টাকা। উৎপাদিত ধানের চেয়ে শাক-সবজির দাম বেশি, লাভও বেশি। যে কারণে লক্ষ্মীপুরের কৃষকরা শাক সবিজ আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। প্রতিবছরই বাড়ছে সবজি আবাদ।
লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার আবিরনগর, টুমচর, শাকচর, মিয়ারবেড়ি, চর উভূতি ভবানীগঞ্জ, তেওয়ারিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় সারা বছর ধরে শাক সবজির চাষ হয়। তবে শীত মৌসুমে আবাদ হয় ব্যাপক হারে। জেলার সব চেয়ে বড় সবজির হাট পিয়ারাপুর। সপ্তাহে ৪দিন হাট বসে ওই বাজারে। স্থানীয় কৃষকরা সরাসরি হাটে তোলে কৃষিপণ্য। পাইকারি দরে বিক্রি করেন তারা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা এসব শাক-সবজি ট্রাক-পিকআপ ভরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করেন। স্থানীয় সবজি চাষিরা জানান, ধানের ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। যে কারণে কৃষকরা সবজি চাষে ঝুকছেন। সফলও হয়েছেন। লক্ষ্মীপুরে কাঁচামাল সংরক্ষণের সরকারি-বেসরকারি কোনো হিমাগার নেই। না থাকায় তাদের বিপাকে পড়তে হয়। ফসল কাটার পর-পরই বিক্রি করতে বাধ্য হন। যে কারণে তারা সারা বছর সংরক্ষণ করে শাক সবজি বিক্রি করতে পারেন না। হিমাগার থাকলে তারা আরও বেশি সুফল পেতেন। আয় বাড়ত।
লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ পরিচালক মো. বেলাল হোসেন খান বলেন, চলতি মৌসুমে আবহওয়া অনুকূলে থাকায় শাক-সবজির ভালো ফলন হয়েছে। বেশি ফসল উৎপাদনে কৃষকদের নানান ভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কৃষকের কল্যাণে কাজ করছেন।
Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com