১৫ বছরেও শেষ হয়নি কিবরিয়া হত্যার বিচার

পেরিয়েছে ১৫ বছর। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার বিচার হয়নি আজো।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন এই বরেণ্য রাজনীতিক।

জানা গেছে, বর্তমানে হত্যা এবং বিস্ফোরক মামলা দু’টি সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ সাক্ষ্য না যাওয়ায় কার্যত থমকে আছে মামলার অগ্রগতি। ১৭১ জন সাক্ষী থাকলেও হত্যা মামলায় ৪৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সব আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিস্ফোরক মামলার চার্জ গঠন হয়নি এখনো।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কিশোর কুমার কর রাইজিংবিডিকে জানান, আদালতে দীর্ঘদিন বিচারক ছিলেন না। এছাড়া যথা সময়ে সব আসামি উপস্থিত না হওয়ায় বিচার কাজে বিলম্ব হচ্ছে। নির্ধারিত তারিখে যদি সকল আসামি আদালতে উপস্থিত হন তাহলে বিচার কাজ দ্রুত হবে। বর্তমানে বিচারক চলে এসেছেন। তাই দ্রুত এই মামলাটি সমাধানের পর্যায়ে যাবে।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কিছু আইনী জটিলতার কারণে মামলায় দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিশেষ আদালতে বিচারক সংকট ও আসামিদের অনুপস্থিতি। চাঞ্চল্যকর এই মামলার আসামিরা আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলারও আসামি। এতে করে তাদের বিভিন্ন মামলায় সাক্ষ্য এবং হাজিরা দিতে হয়। যে কারণে কিবরিয়া হত্যা মামলার তারিখে প্রায়ই তাদেরকে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না। আসামিদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণও আইন বহির্ভূত।’

শাহ এএমএস কিবরিয়ার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ও হবিগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শোক র‌্যালি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। পৃথকভাবে এ কর্মসূচিগুলো পালন করবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং কিবরিয়া স্মৃতি সংসদ।

ঢাকার বনানীতে অবস্থিত মরহুমের কবরস্থানে সকাল ১১টায় পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন কিবরিয়া পরিবার। পরে তারা সেখানে জিয়ারত করবেন। এছাড়াও কিবরিয়া হত্যার বিচার দাবীতে নীল কাপড় পরিধান করে বনানী কবরস্থানে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে। আসমা কিবরিয়া শান্তির স্বপক্ষে নিলিমা নামে এই কর্মসূচি চালু করেছিলেন। ড. রেজা কিবরিয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তৎকালীন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। জনসভা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বক্তব্য শেষে যখন তিনি মঞ্চ থেকে নেমে সহকর্মীদের নিয়ে বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেইটে আসেন তখন দিনের আলো নিভে প্রায় সন্ধ্যা। হঠাৎ করেই বিকট শব্দ। হুড়োহুড়িতে চারদিকে গগনবিদারী চিৎকার। আর্জেস গ্রেনেডের আঘাতে অনেকেই ক্ষতবিক্ষত। এ হামলায় শুধু শাহ এএমএস কিবরিয়াই নন, তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী প্রাণ হারান। আহত হন কমপক্ষে ৭০ নেতাকর্মী।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» পাঁচবিবিতে ৬শ পরিবারের মাঝে গোস্ত বিতরণ

» রাণীনগরে ছাত্রলীগের দুই নেতার উপর হামলা ও মারপিট; আটক এক

» চট্টগ্রামে উচ্ছিষ্ট শুধু চামড়াই!

» সখীপুরে দেবরের হাতে ভাবি খুন

» করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৬

» ১৫ ও ২১ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারীদের অপচেষ্টা অব্যাহত, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদের

» সিদ্ধিরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ

» ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত চলাচল, পরতে হবে মাস্ক

» কাতারে সাগর পাড়ে হাজারও মানুষের ঢল

» বিচারকের ভূমিকায় মেহজাবিন চৌধুরী

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

১৫ বছরেও শেষ হয়নি কিবরিয়া হত্যার বিচার

পেরিয়েছে ১৫ বছর। প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যার বিচার হয়নি আজো।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নির্মমভাবে নিহত হন এই বরেণ্য রাজনীতিক।

জানা গেছে, বর্তমানে হত্যা এবং বিস্ফোরক মামলা দু’টি সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ সাক্ষ্য না যাওয়ায় কার্যত থমকে আছে মামলার অগ্রগতি। ১৭১ জন সাক্ষী থাকলেও হত্যা মামলায় ৪৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে সব আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিস্ফোরক মামলার চার্জ গঠন হয়নি এখনো।

সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর কিশোর কুমার কর রাইজিংবিডিকে জানান, আদালতে দীর্ঘদিন বিচারক ছিলেন না। এছাড়া যথা সময়ে সব আসামি উপস্থিত না হওয়ায় বিচার কাজে বিলম্ব হচ্ছে। নির্ধারিত তারিখে যদি সকল আসামি আদালতে উপস্থিত হন তাহলে বিচার কাজ দ্রুত হবে। বর্তমানে বিচারক চলে এসেছেন। তাই দ্রুত এই মামলাটি সমাধানের পর্যায়ে যাবে।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘কিছু আইনী জটিলতার কারণে মামলায় দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিশেষ আদালতে বিচারক সংকট ও আসামিদের অনুপস্থিতি। চাঞ্চল্যকর এই মামলার আসামিরা আরো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলারও আসামি। এতে করে তাদের বিভিন্ন মামলায় সাক্ষ্য এবং হাজিরা দিতে হয়। যে কারণে কিবরিয়া হত্যা মামলার তারিখে প্রায়ই তাদেরকে হাজির করা সম্ভব হচ্ছে না। আসামিদের অনুপস্থিতিতে সাক্ষ্য গ্রহণও আইন বহির্ভূত।’

শাহ এএমএস কিবরিয়ার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা ও হবিগঞ্জে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে হবিগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে স্মৃতিস্তম্ভে পুস্পস্তবক অর্পণ, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শোক র‌্যালি, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা। পৃথকভাবে এ কর্মসূচিগুলো পালন করবে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং কিবরিয়া স্মৃতি সংসদ।

ঢাকার বনানীতে অবস্থিত মরহুমের কবরস্থানে সকাল ১১টায় পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন কিবরিয়া পরিবার। পরে তারা সেখানে জিয়ারত করবেন। এছাড়াও কিবরিয়া হত্যার বিচার দাবীতে নীল কাপড় পরিধান করে বনানী কবরস্থানে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে। আসমা কিবরিয়া শান্তির স্বপক্ষে নিলিমা নামে এই কর্মসূচি চালু করেছিলেন। ড. রেজা কিবরিয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে ঈদ পরবর্তী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তৎকালীন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। জনসভা ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। বক্তব্য শেষে যখন তিনি মঞ্চ থেকে নেমে সহকর্মীদের নিয়ে বৈদ্যের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গেইটে আসেন তখন দিনের আলো নিভে প্রায় সন্ধ্যা। হঠাৎ করেই বিকট শব্দ। হুড়োহুড়িতে চারদিকে গগনবিদারী চিৎকার। আর্জেস গ্রেনেডের আঘাতে অনেকেই ক্ষতবিক্ষত। এ হামলায় শুধু শাহ এএমএস কিবরিয়াই নন, তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুরুল হুদা, আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রহিম, আবুল হোসেন ও সিদ্দিক আলী প্রাণ হারান। আহত হন কমপক্ষে ৭০ নেতাকর্মী।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com