১০ জিলহজ পরানো হবে কাবার নতুন গিলাফ

আমিন মুনশি : কাবা শরিফের নতুন গিলাফ ‘কিসওয়াহ’ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। মসজিদে হারামের তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সদস্যরা তৈরিকৃত নতুন গিলাফ বুধবার (২৪ জুলাই) পরিদর্শন করেছেন। জিলহজ মাসের প্রথম সপ্তাহে মসজিদে হারামের প্রধান খতিব শায়খ আবদুর রহমান সুদাইসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। কাবা শরিফে নতুন গিলাফটি পরানো হবে ১০ জিলহজ সকালে।

পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফকে ‘কিসওয়াহ’ বলা হয়। কালো রেশমি কাপড়ে তৈরি গিলাফটির গায়ে স্বর্ণের সুতা দিয়ে আরবি ক্যালিওগ্রাফিতে লেখা থাকে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ, আল্লাহতায়ালা, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম, ইয়া হান্নান, ইয়া মান্নানসহ আল্লাহতায়ালার পবিত্র নামসমূহ। (সূত্র: বার্তা২৪)

কাবাঘরের গিলাফ তৈরির কারখানাটি মক্কা নগরীর উম্মুল জুদ এলাকায় অবস্থিত। এ কারখানায় মদিনায় হুজরায়ে নববীর গিলাফও তৈরি করা হয়। কাবার গিলাফ তৈরিতে ১ কোটি ৭০ লাখ সৌদি রিয়াল ব্যয় হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৮ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৪ টাকা।

১৪ মিটার দীর্ঘ ও ৯৫ সেমি প্রস্থ ৪১টি বস্ত্রখণ্ড জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয় গিলাফ। চার কোনায় সৌন্দর্যবর্ধন করে বৃত্তাকারে লেখা থাকে সূরা ইখলাস। রেশমি কাপড়ের নিচে দেওয়া হয় মোটা সাধারণ কাপড়। একটি গিলাফে ব্যবহৃত রেশমি কাপড়ের ওজন ৬৭০ কিলোগ্রাম ও স্বর্ণের ওজন ১৫ কিলোগ্রাম।

কাবাঘরকে গিলাফ দিয়ে আচ্ছাদন করা কবে থেকে শুরু হয় সেই সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা গেছে, হিমিয়ারের রাজা তুব্বা আবু কবর আসাদই পবিত্র কাবাঘর গিলাফের মাধ্যমে আচ্ছাদনকারী প্রথম ব্যক্তি। ১৩৪৬ হিজরিতে কাবাঘরের গিলাফ তৈরির জন্য একটি বিশেষ কারখানা স্থাপন করা হয়। ১৩৮১ হিজরিতে সৌদি হজ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দক্ষ সৌদি কারিগরের মাধ্যমে রেশমি ও সোনালি সূতা দিয়ে গিলাফ তৈরি করে কাবার গায়ে পরানোর ব্যবস্থা করা হয়। ১৩৮২ হিজরিতে বাদশাহ ফয়সাল ইবনে আবদুল আজিজ নতুনভাবে পবিত্র কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে খাঁটি প্রাকৃতিক রেশমি রঙের সঙ্গে কালো কাপড় দিয়ে পবিত্র কাবার গিলাফ তৈরির ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতি বছর হজের ৩ সপ্তাহ আগে কাবা শরিফের গিলাফ কিছুটা ওপরে সরিয়ে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। যেন হাজিরা মনের আবেগে গিলাফের কোনো অংশ কেটে না নেয়। ১০ জিলহজ তারিখে কাবায় নতুন গিলাফ পরানো হয়। আর পুরনো গিলাফটি খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রধান, ইসলামি স্কলার, কৃতি ব্যক্তিদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। কাবার গায়ে ঠাঁই পেয়ে সাধারণ এক খণ্ড বস্ত্র হয়ে ওঠে মহামূল্যবান। তাই এই জিনিসের প্রতি সব দেশেরই আগ্রহ থাকে।

গিলাফ পরিবর্তনের কাজে মসজিদুল হারামের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্ব দেন। এ সময় সৌদি বাদশার প্রতিনিধিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত থাকেন। প্রতিবছর দু’টি করে (একটি সতর্কতামূলক) গিলাফ তৈরি করা হয়। হাতে তৈরি করতে সময় লাগে আট থেকে নয় মাস। অন্যটি মেশিনে মাত্র এক মাসে তৈরি করা হয়।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অবরোদ্ধ বিটিভির সাংবাদিক নার্গিস জুঁই

» ফেসবুকে প্রতারণা থেকে বাঁচাতে পুলিশ যে উপদেশ দিল

» বগুড়া-১ আসনে উপ-নির্বাচন, বৃষ্টির মাঝে নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ

» স্মার্ট ল্যাম্পপোস্ট উদ্বোধন করলেন ডিএনসিসি মেয়র

» ছেলেদের দলে মেয়ে, ক্রিকেটবিশ্বে তোলপাড়

» কোরবানির গরুর নাম যখন বিন লাদেন, সাদ্দাম, গাদ্দাফি!

» রাজধানীর কাকরাইলে লাজ ফার্মায় র‌্যাবের অভিযান, ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

» খুলনায় হচ্ছে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

» এখন থেকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে উদযাপিত হবে ৭ মার্চ

» মধুপুরে মায়ের অভিযোগে মাদক আসক্ত ছেলেকে গ্রেফতার ভ্রাম্যমান আদালতে ১ বছরের কারাদন্ড

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

১০ জিলহজ পরানো হবে কাবার নতুন গিলাফ

আমিন মুনশি : কাবা শরিফের নতুন গিলাফ ‘কিসওয়াহ’ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। মসজিদে হারামের তত্ত্বাবধায়ক কমিটির সদস্যরা তৈরিকৃত নতুন গিলাফ বুধবার (২৪ জুলাই) পরিদর্শন করেছেন। জিলহজ মাসের প্রথম সপ্তাহে মসজিদে হারামের প্রধান খতিব শায়খ আবদুর রহমান সুদাইসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে। কাবা শরিফে নতুন গিলাফটি পরানো হবে ১০ জিলহজ সকালে।

পবিত্র কাবা শরিফের গিলাফকে ‘কিসওয়াহ’ বলা হয়। কালো রেশমি কাপড়ে তৈরি গিলাফটির গায়ে স্বর্ণের সুতা দিয়ে আরবি ক্যালিওগ্রাফিতে লেখা থাকে- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলাল্লাহ, আল্লাহতায়ালা, সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আজিম, ইয়া হান্নান, ইয়া মান্নানসহ আল্লাহতায়ালার পবিত্র নামসমূহ। (সূত্র: বার্তা২৪)

কাবাঘরের গিলাফ তৈরির কারখানাটি মক্কা নগরীর উম্মুল জুদ এলাকায় অবস্থিত। এ কারখানায় মদিনায় হুজরায়ে নববীর গিলাফও তৈরি করা হয়। কাবার গিলাফ তৈরিতে ১ কোটি ৭০ লাখ সৌদি রিয়াল ব্যয় হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩৮ কোটি ১১ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৪ টাকা।

১৪ মিটার দীর্ঘ ও ৯৫ সেমি প্রস্থ ৪১টি বস্ত্রখণ্ড জোড়া দিয়ে তৈরি করা হয় গিলাফ। চার কোনায় সৌন্দর্যবর্ধন করে বৃত্তাকারে লেখা থাকে সূরা ইখলাস। রেশমি কাপড়ের নিচে দেওয়া হয় মোটা সাধারণ কাপড়। একটি গিলাফে ব্যবহৃত রেশমি কাপড়ের ওজন ৬৭০ কিলোগ্রাম ও স্বর্ণের ওজন ১৫ কিলোগ্রাম।

কাবাঘরকে গিলাফ দিয়ে আচ্ছাদন করা কবে থেকে শুরু হয় সেই সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। ঐতিহাসিক সূত্রে জানা গেছে, হিমিয়ারের রাজা তুব্বা আবু কবর আসাদই পবিত্র কাবাঘর গিলাফের মাধ্যমে আচ্ছাদনকারী প্রথম ব্যক্তি। ১৩৪৬ হিজরিতে কাবাঘরের গিলাফ তৈরির জন্য একটি বিশেষ কারখানা স্থাপন করা হয়। ১৩৮১ হিজরিতে সৌদি হজ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে দক্ষ সৌদি কারিগরের মাধ্যমে রেশমি ও সোনালি সূতা দিয়ে গিলাফ তৈরি করে কাবার গায়ে পরানোর ব্যবস্থা করা হয়। ১৩৮২ হিজরিতে বাদশাহ ফয়সাল ইবনে আবদুল আজিজ নতুনভাবে পবিত্র কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। এরপর থেকে খাঁটি প্রাকৃতিক রেশমি রঙের সঙ্গে কালো কাপড় দিয়ে পবিত্র কাবার গিলাফ তৈরির ব্যবস্থা করা হয়।

প্রতি বছর হজের ৩ সপ্তাহ আগে কাবা শরিফের গিলাফ কিছুটা ওপরে সরিয়ে সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। যেন হাজিরা মনের আবেগে গিলাফের কোনো অংশ কেটে না নেয়। ১০ জিলহজ তারিখে কাবায় নতুন গিলাফ পরানো হয়। আর পুরনো গিলাফটি খণ্ড খণ্ড করে বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রধান, ইসলামি স্কলার, কৃতি ব্যক্তিদের উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। কাবার গায়ে ঠাঁই পেয়ে সাধারণ এক খণ্ড বস্ত্র হয়ে ওঠে মহামূল্যবান। তাই এই জিনিসের প্রতি সব দেশেরই আগ্রহ থাকে।

গিলাফ পরিবর্তনের কাজে মসজিদুল হারামের দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক নেতৃত্ব দেন। এ সময় সৌদি বাদশার প্রতিনিধিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত থাকেন। প্রতিবছর দু’টি করে (একটি সতর্কতামূলক) গিলাফ তৈরি করা হয়। হাতে তৈরি করতে সময় লাগে আট থেকে নয় মাস। অন্যটি মেশিনে মাত্র এক মাসে তৈরি করা হয়।

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com