হার্টব্লকের উপসর্গ

হার্টের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য কি পরিমাণ রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন তা খুব সহজে নির্ণয় করা যায় না। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের প্রতি মিনিটে সারা শরীরে ৫ লিটারের মতো রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন, সেমতে এ সময়ে হার্ট প্রতি মিনিটে ৫ লিটার রক্ত পাম্প করবে। একজন মানুষ যখন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকে অথবা প্রতিযোগিতামূলক কোনো খেলায় অংশগ্রহণ করে অথবা কখন কোনোরূপ দুর্ঘটনায় পতিত হয় তখন শারীরিক রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট তার পাম্পিং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ৫ লিটারের পরিবর্তে মিনিটে ১০০ লিটার পর্যন্ত রক্ত পাম্প করতে পারে। এবার ধরুন ৫ লিটার রক্ত পাম্প করা আর ১০০ লিটার রক্ত পাম্প করার মধ্যে শক্তি খরচের মাত্রা অনেকগুণ বৃদ্ধি পায় ফলশ্রুতিতে ওই সময়ে হার্টে জ্বালানি ও অক্সিজেনের চাহিদা ১০ থেকে ৫০ গুণ বৃদ্ধি পায়। তার মানে দাঁড়াল হার্টের নিজস্ব রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন শারীরিক কর্মকান্ডের ওপর নির্ভর করে অনেক কমবেশি হয়ে থাকে। এখান থেকে আরও একটি ব্যাপার নির্ণয় করা যায় যে, প্রয়োজনের সময় অত বেশি পরিমাণ রক্ত সরবরাহের জন্য হার্টে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্তনালি বিদ্যমান থাকে। এছাড়া বিশ্রামকালীন সময়ে খুবই অল্প পরিমাণ রক্তনালি খোলা থাকলেই চলে তাই অল্প কিছু রক্তনালি খোলা থাকে এবং বাকিগুলো চুপসানো অবস্থায় থাকে এবং চুপসানো নালিগুলো প্রয়োজনে আবারও রক্ত সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। রক্তনালির ভিতর দিকে চর্বিজাতীয় পদার্থ খুব ধীরে ধীরে জমা হতে হতে রক্তপ্রবাহের পথ আটকে ব্লকের সৃষ্টি করে। ব্লক সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্রামকালীন এবং স্বাভাবিক পরিশ্রম যেমন পথ হাঁটা সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা ইত্যাদি কাজে, ব্লক থাকা সত্ত্বেও রক্ত সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় রোগী ব্লকের কোনো উপসর্গে আক্রান্ত হয় না।

তবে দ্রুত দৌড় দেওয়া অথবা প্রতিযোগিতামূলক কর্মকা- সম্পাদনের সময় রোগী হাঁপিয়ে ওঠা, বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গে আক্রান্ত হয়। সমস্যাগুলোকে একত্রে এনজিনা নামে অবিহিত করা হয়, মানে এসব কাজের সময় রোগী এনজিনায় আক্রান্ত হয়। কাজ শেষে খুব দ্রুত এনজিনা কমে গিয়ে ব্যক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে। ব্লকের তীব্রতা ও সংখ্যা  বৃদ্ধি পেলে দ্রুত হাঁটতে গেলে এবং সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে এনজিনায় আক্রান্ত হন এবং কাজ শেষে খুব এনজিনা কমে যায়। ব্লকের তীব্রতা ও সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে রোগী সামান্য কাজ করতে গেলে এনজিনা আক্রান্ত হয়। এ ধরনের রোগীর ব্লকের তীব্রতার জন্য হার্ট শারীরিক চাহিদামতো রক্তপাম্প করতে না পারায় রোগীর হার্ট ফেইলুর দেখা দেয়। যার ফলে রোগীর শরীরে পানি জমা হতে থাকে কাজেই বিছানায় শুতে গেলে শুকনো কাশির উদ্রেগ হয়, সব সময় পেটে ভরা ভরা ভাব অনুভূত হয়। ব্লকের পরিমাণ এবং হার্ট ফেইলুরের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে রোগী বিশ্রামকালীন যেমন শুয়ে বসে থাকাকালীন এনজিনায় আক্রান্ত হয় এবং হার্ট ফেইলুরের উপসর্গ বৃদ্ধি পায়। এত কিছু বিবেচনা করে চিকিৎসক এনজিওগ্রামের আগেই ব্লকের তীব্রতা অনুমান করেন এবং অনুমান শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই প্রায় সঠিক হয়ে থাকে।

ডা. এম শমশের আলী (কার্ডিওলজিস্ট)

সিনিয়র কনসালটেন্ট (প্রা.), ঢাকা মেডিকেল

কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» খুলনায় হচ্ছে শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

» এখন থেকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে উদযাপিত হবে ৭ মার্চ

» মধুপুরে মায়ের অভিযোগে মাদক আসক্ত ছেলেকে গ্রেফতার ভ্রাম্যমান আদালতে ১ বছরের কারাদন্ড

» তিন মেয়ের নিরাপত্তায় রাতে বাড়ি পাহারাদার বসিয়েছেন কৃষক

» লক্ষ্মীপুরে নদী ভাঙ্গন রোধের দাবিতে মানববন্ধন!

» দিনের বেলায় উন্মুক্ত স্থানে বর্জ্য না ফেলতে ঢাকাবাসীকে অনুরোধ জানিয়েছেন ডিএসসিসি মেয়র ব্যারিস্টার শেখ তাপস

» রায়পুরে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের ইয়াবাসহ আটক

» পাবনায় ইউপি চেয়ারম্যানকে হাতুড়ি দিয়ে পেটালো প্রতিপক্ষরা

» হোটেলে একসঙ্গে পার্টি করতেন শাহেদ-পাপিয়া

» হাতীবান্ধায় বিপদ সিমার ৫০সে.মি উপরে তিস্তার পানি রেড এলার্ট জারি  বন্যার পানিতে পড়ে শিশুর মৃত্যু

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

হার্টব্লকের উপসর্গ

হার্টের নিজস্ব ব্যবহারের জন্য কি পরিমাণ রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন তা খুব সহজে নির্ণয় করা যায় না। একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের প্রতি মিনিটে সারা শরীরে ৫ লিটারের মতো রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন, সেমতে এ সময়ে হার্ট প্রতি মিনিটে ৫ লিটার রক্ত পাম্প করবে। একজন মানুষ যখন যুদ্ধক্ষেত্রে থাকে অথবা প্রতিযোগিতামূলক কোনো খেলায় অংশগ্রহণ করে অথবা কখন কোনোরূপ দুর্ঘটনায় পতিত হয় তখন শারীরিক রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট তার পাম্পিং দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ৫ লিটারের পরিবর্তে মিনিটে ১০০ লিটার পর্যন্ত রক্ত পাম্প করতে পারে। এবার ধরুন ৫ লিটার রক্ত পাম্প করা আর ১০০ লিটার রক্ত পাম্প করার মধ্যে শক্তি খরচের মাত্রা অনেকগুণ বৃদ্ধি পায় ফলশ্রুতিতে ওই সময়ে হার্টে জ্বালানি ও অক্সিজেনের চাহিদা ১০ থেকে ৫০ গুণ বৃদ্ধি পায়। তার মানে দাঁড়াল হার্টের নিজস্ব রক্ত সরবরাহের প্রয়োজন শারীরিক কর্মকান্ডের ওপর নির্ভর করে অনেক কমবেশি হয়ে থাকে। এখান থেকে আরও একটি ব্যাপার নির্ণয় করা যায় যে, প্রয়োজনের সময় অত বেশি পরিমাণ রক্ত সরবরাহের জন্য হার্টে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্তনালি বিদ্যমান থাকে। এছাড়া বিশ্রামকালীন সময়ে খুবই অল্প পরিমাণ রক্তনালি খোলা থাকলেই চলে তাই অল্প কিছু রক্তনালি খোলা থাকে এবং বাকিগুলো চুপসানো অবস্থায় থাকে এবং চুপসানো নালিগুলো প্রয়োজনে আবারও রক্ত সরবরাহ করতে সক্ষম হয়। রক্তনালির ভিতর দিকে চর্বিজাতীয় পদার্থ খুব ধীরে ধীরে জমা হতে হতে রক্তপ্রবাহের পথ আটকে ব্লকের সৃষ্টি করে। ব্লক সৃষ্টির প্রাথমিক পর্যায়ে বিশ্রামকালীন এবং স্বাভাবিক পরিশ্রম যেমন পথ হাঁটা সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠা ইত্যাদি কাজে, ব্লক থাকা সত্ত্বেও রক্ত সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকায় রোগী ব্লকের কোনো উপসর্গে আক্রান্ত হয় না।

তবে দ্রুত দৌড় দেওয়া অথবা প্রতিযোগিতামূলক কর্মকা- সম্পাদনের সময় রোগী হাঁপিয়ে ওঠা, বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গে আক্রান্ত হয়। সমস্যাগুলোকে একত্রে এনজিনা নামে অবিহিত করা হয়, মানে এসব কাজের সময় রোগী এনজিনায় আক্রান্ত হয়। কাজ শেষে খুব দ্রুত এনজিনা কমে গিয়ে ব্যক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে। ব্লকের তীব্রতা ও সংখ্যা  বৃদ্ধি পেলে দ্রুত হাঁটতে গেলে এবং সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে গেলে এনজিনায় আক্রান্ত হন এবং কাজ শেষে খুব এনজিনা কমে যায়। ব্লকের তীব্রতা ও সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেলে রোগী সামান্য কাজ করতে গেলে এনজিনা আক্রান্ত হয়। এ ধরনের রোগীর ব্লকের তীব্রতার জন্য হার্ট শারীরিক চাহিদামতো রক্তপাম্প করতে না পারায় রোগীর হার্ট ফেইলুর দেখা দেয়। যার ফলে রোগীর শরীরে পানি জমা হতে থাকে কাজেই বিছানায় শুতে গেলে শুকনো কাশির উদ্রেগ হয়, সব সময় পেটে ভরা ভরা ভাব অনুভূত হয়। ব্লকের পরিমাণ এবং হার্ট ফেইলুরের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে রোগী বিশ্রামকালীন যেমন শুয়ে বসে থাকাকালীন এনজিনায় আক্রান্ত হয় এবং হার্ট ফেইলুরের উপসর্গ বৃদ্ধি পায়। এত কিছু বিবেচনা করে চিকিৎসক এনজিওগ্রামের আগেই ব্লকের তীব্রতা অনুমান করেন এবং অনুমান শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই প্রায় সঠিক হয়ে থাকে।

ডা. এম শমশের আলী (কার্ডিওলজিস্ট)

সিনিয়র কনসালটেন্ট (প্রা.), ঢাকা মেডিকেল

কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা।বাংলাদেশ প্রতিদিন

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com