সেই হাঁসের মাংসের স্বাদ।।এখনও জিভে জল আনে…

মাকসুদা লিসাঃ সিলেট আমাকে মুগ্ধ করে। আমাকে টানে। আমি খুব অধীর হয়ে অপেক্ষায় থাকি। কখন সুযোগ হবে। তখন আমি হারাবো। হারিয়ে যাবো ভালবাসার টানে। প্রকৃতি,পাহাড়, নদী অরণ্যে।

সিলেট যাওয়া হয়েছে অনেক অনেকবার।কখনও পেশার সুবাধে। আবার প্রাণের বন্ধুর সাথে।

আমার প্রিয় বন্ধু ফারজানা রহমান। সিলেটের মেয়ে। তার সাথে কারনে অকারনে দে… ছুট। আমাকে পায় কে !

সিলেট ঘুরেছি বন্ধুর সাথে। ভাললাগার, ভালবাসার অপার পেখম মেলে।

বছর কয়েক আগের কথা। সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট পরিদর্শন করে ফিরছিলাম। ভর দুপুর বেলা। পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। আসে পাশে ভাল মানের কোন হোটেল পাওয়া গেল না। কি করবো ভাবছিলাম।

আমাদের টিমের এক ভাই বললেন, “চলো তোমাদের আজ এমন হোটেলে খাওয়াবো অনেকদিন মনে থাকবে। সব খাবার এখানে সাথে সাথে রান্না করে দেবে। গরম পাবে।

যত রকমের মাংস খেতে চাও পাবে এখানে। বিশেষ করে পাখির মাংস, আর হাঁসের মাংস”।

আহ ! হাঁসের মাংস আর পাখির মাংস শুনেই আমার মাথা নষ্ট।

এক কথায় রাজি।

গাড়ি পার্ক করে, আমরা ছয়জনা তার পিছু নিলাম। রাস্তার দু’পাশে নিচু জমিতে বাঁশের বেড়া দেয়া ছোট একচালা ঘর। এগুলোই এই এলাকার বিখ্যাত খাবার হোটেল। মূলত এসমস্ত হোটেলে খেতে আসে ট্রাক ড্রাইভাররা।

জাফলং থেকে এই রোডে যেসমস্ত ট্রাক পাথর বোঝাই করে নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে আসা-যাওয়া করে তাদের জন্য গড়ে উঠেছে এই হোটেলগুলো। আছে সু-ব্যবস্থা। ছোট মাটির ভিটার ঘর। তিনটা ছোট কাঠের বেঞ্চ। মাটির চুলায় ভাত, মাংসের তরকারী রান্না হচ্ছে। কি খাবেন জানালেই গরম গরম এনে সামনে হাজির করে দেবে।

বাইরে চাপকলে হাত-মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা। দাঁত মাজন, টুথ পেষ্ট ঝোলানো কলের পাশে।

মাত্র দুজন ছিলেন হোটেলের তদারকিতে। স্বামী ও স্ত্রী। তাদের দু’বছরের এক সন্তান।

এখানে খুব পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আশা করা বোকামি। তারপরও ভালই লাগলো।

অন্য রকম অ্যাডভেঞ্চার। দোনামনা , ইতস্তত করে খেতে বসলাম। আগুন গরম ভাত। হাঁসের মাংস, পাখির মাংস, সবজি আর ডাল। অমৃত সব খাবারের স্বাদ। পেট পুরে খেয়েছিলাম।

শহরের অনেক নামী-দামি হোটেলের চেয়ে ভাল রন্ধনশৈলী জ্ঞান।

এক কথায়, যার স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে।

মনে হলেই জিভে জল চলে আসে।

আবার সুযোগ পেলেই দেবো ছুট।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেট এর দর্শনীয় স্থান, ঘুরে বেড়ানোর এটাই সেরা সময়।

বছরের শুরুতে কাজের চাপ কম থাকে। বাচ্চাদের স্কুলের নতুন ক্লাসের লেখা-পড়ার তেমন জামেলা নেই ।

সারা বছরের একঘেয়েমি কাটিয়ে উঠতে পারেন পর্যটন শহর সিলেট ভ্রমনে।

মনের মাধুরীর সবটুকু আয়োজন নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন।

ভ্রমন পিপাসুরা খুঁজে পাবেন অনাবিল আনন্দ।

 

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» পাঁচবিবিতে ৬শ পরিবারের মাঝে গোস্ত বিতরণ

» রাণীনগরে ছাত্রলীগের দুই নেতার উপর হামলা ও মারপিট; আটক এক

» চট্টগ্রামে উচ্ছিষ্ট শুধু চামড়াই!

» সখীপুরে দেবরের হাতে ভাবি খুন

» করোনায় ২৪ ঘণ্টায় ৩০ মৃত্যু, শনাক্ত ১৩৫৬

» ১৫ ও ২১ আগস্টের ষড়যন্ত্রকারীদের অপচেষ্টা অব্যাহত, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে : ওবায়দুল কাদের

» সিদ্ধিরগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষ

» ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত চলাচল, পরতে হবে মাস্ক

» কাতারে সাগর পাড়ে হাজারও মানুষের ঢল

» বিচারকের ভূমিকায় মেহজাবিন চৌধুরী

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সেই হাঁসের মাংসের স্বাদ।।এখনও জিভে জল আনে…

মাকসুদা লিসাঃ সিলেট আমাকে মুগ্ধ করে। আমাকে টানে। আমি খুব অধীর হয়ে অপেক্ষায় থাকি। কখন সুযোগ হবে। তখন আমি হারাবো। হারিয়ে যাবো ভালবাসার টানে। প্রকৃতি,পাহাড়, নদী অরণ্যে।

সিলেট যাওয়া হয়েছে অনেক অনেকবার।কখনও পেশার সুবাধে। আবার প্রাণের বন্ধুর সাথে।

আমার প্রিয় বন্ধু ফারজানা রহমান। সিলেটের মেয়ে। তার সাথে কারনে অকারনে দে… ছুট। আমাকে পায় কে !

সিলেট ঘুরেছি বন্ধুর সাথে। ভাললাগার, ভালবাসার অপার পেখম মেলে।

বছর কয়েক আগের কথা। সিলেটের গোয়াইনঘাটে অবস্থিত রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট পরিদর্শন করে ফিরছিলাম। ভর দুপুর বেলা। পেটে প্রচণ্ড ক্ষুধা। আসে পাশে ভাল মানের কোন হোটেল পাওয়া গেল না। কি করবো ভাবছিলাম।

আমাদের টিমের এক ভাই বললেন, “চলো তোমাদের আজ এমন হোটেলে খাওয়াবো অনেকদিন মনে থাকবে। সব খাবার এখানে সাথে সাথে রান্না করে দেবে। গরম পাবে।

যত রকমের মাংস খেতে চাও পাবে এখানে। বিশেষ করে পাখির মাংস, আর হাঁসের মাংস”।

আহ ! হাঁসের মাংস আর পাখির মাংস শুনেই আমার মাথা নষ্ট।

এক কথায় রাজি।

গাড়ি পার্ক করে, আমরা ছয়জনা তার পিছু নিলাম। রাস্তার দু’পাশে নিচু জমিতে বাঁশের বেড়া দেয়া ছোট একচালা ঘর। এগুলোই এই এলাকার বিখ্যাত খাবার হোটেল। মূলত এসমস্ত হোটেলে খেতে আসে ট্রাক ড্রাইভাররা।

জাফলং থেকে এই রোডে যেসমস্ত ট্রাক পাথর বোঝাই করে নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে আসা-যাওয়া করে তাদের জন্য গড়ে উঠেছে এই হোটেলগুলো। আছে সু-ব্যবস্থা। ছোট মাটির ভিটার ঘর। তিনটা ছোট কাঠের বেঞ্চ। মাটির চুলায় ভাত, মাংসের তরকারী রান্না হচ্ছে। কি খাবেন জানালেই গরম গরম এনে সামনে হাজির করে দেবে।

বাইরে চাপকলে হাত-মুখ ধোয়ার ব্যবস্থা। দাঁত মাজন, টুথ পেষ্ট ঝোলানো কলের পাশে।

মাত্র দুজন ছিলেন হোটেলের তদারকিতে। স্বামী ও স্ত্রী। তাদের দু’বছরের এক সন্তান।

এখানে খুব পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আশা করা বোকামি। তারপরও ভালই লাগলো।

অন্য রকম অ্যাডভেঞ্চার। দোনামনা , ইতস্তত করে খেতে বসলাম। আগুন গরম ভাত। হাঁসের মাংস, পাখির মাংস, সবজি আর ডাল। অমৃত সব খাবারের স্বাদ। পেট পুরে খেয়েছিলাম।

শহরের অনেক নামী-দামি হোটেলের চেয়ে ভাল রন্ধনশৈলী জ্ঞান।

এক কথায়, যার স্বাদ এখনও মুখে লেগে আছে।

মনে হলেই জিভে জল চলে আসে।

আবার সুযোগ পেলেই দেবো ছুট।

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেট এর দর্শনীয় স্থান, ঘুরে বেড়ানোর এটাই সেরা সময়।

বছরের শুরুতে কাজের চাপ কম থাকে। বাচ্চাদের স্কুলের নতুন ক্লাসের লেখা-পড়ার তেমন জামেলা নেই ।

সারা বছরের একঘেয়েমি কাটিয়ে উঠতে পারেন পর্যটন শহর সিলেট ভ্রমনে।

মনের মাধুরীর সবটুকু আয়োজন নিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন।

ভ্রমন পিপাসুরা খুঁজে পাবেন অনাবিল আনন্দ।

 

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

উপদেষ্টা – মাকসুদা লিসা।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

 

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com