সাদিয়া এখন কোথায়?

সম্প্রতি সাদিয়া খানম নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বোন এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাগেরহাটের মোল্লারহাট শাসন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে। সহপাঠী অপর শিক্ষার্থী শাকিল চৌধুরী তাকে স্কুলের কোচিং থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার করে দিতে পারে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীর পরিবার। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে কথা হয় । শিক্ষার্থীর মা শিরিনা খাতুন মেয়ের সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, সাদিয়া খানমের বয়স ১৪ বছর। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে সাদিয়া দ্বিতীয়। গত ২৬শে আগস্ট স্কুলের কোচিংয়ে যাওয়ার পরে আর বাসায় ফিরে আসেনি।

সাদিয়ার মা বলেন, তিনি পেশায় একজন স্বাস্থকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সাদিয়ার বাবা আরিফুল আলম মুন্সি ডিস্ট্রিক ফার্টিলাইজার ডিলার। ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সাদিয়া ছিল ভদ্র এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল। সে মোল্লারহাটের চুনখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল এবং বাসার বাইরে সাদিয়া কখনো একা কোথাও যাতায়াত করেননি। ঘটনার দিন সকালে শিক্ষার্থীর বাবা তাকে সঙ্গে করে স্কুলের কোচিংয়ে দিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তার মা বাসায় ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে স্বামীকে জানায়। এ সময় তারা কোচিংয়ের শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অনেক আগেই সাদিয়া বাসায় চলে গেছে বলে জানায়।

তিনি বলেন, এরপর আমরা স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করলে তারা ২৪ ঘণ্টা পরে আসতে বলেন। এ সময় সাদিয়াকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাকিল চৌধুরী একটি অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়ার পথে তাদের এক প্রতিবেশী দেখে ফেলেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরদিন একটি অপরিচিত নম্বর থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাসার ফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সাদিয়াকে আপু বলে কান্না করতে শোনা যায়। হঠাৎ করে ফোনটি কেটে যায়। এরপর থেকে ওই মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্র জানায়, পরবর্তীতে গত ১লা সেপ্টেম্বর মোল্লারহাট উপজেলার সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা করে সাদিয়ার পরিবার।

অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী সম্পর্কে শিক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্র জানায়, মোল্লারহাটের শাসন এলাকার একটি প্রবাসী পরিবারের বাড়ি দেখাশোনার কাজ করে শাকিলের মা। তার অপর দুই ভাই একটি দোকানে কাজ করেন। বাবা মারা যাওয়ায় মায়ের সঙ্গে অন্যের বাড়িতে আশ্রিতা হিসেবে থাকেন। এ ছাড়া অভিযুক্ত শাকিল পারিবারিক শাসন না থাকায় উচ্ছন্নে গেছেন। সে মাদক সেবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে জানায় পারিবারিক সূত্র। এ ছাড়া শাকিল তার স্কুলে নিয়মিত ছিল না। এদিকে সাদিয়ার নিখোঁজের পর থেকে পাগলপ্রায় তার পরিবার। সাদিয়ার বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম বলেন, আমাদের ওখানে সীমান্ত এলাকা হওয়ায় কম বয়সী মেয়েদের চাকরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের ঘটনা অহরহ ঘটছে। আমার বোনের ভাগ্যে আসলে কি ঘটেছে সেটা এখনো জানি না। তবে আমাদের ধারণা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অভিযুক্ত শাকিল তাকে ভারতে পাচার করে দিয়েছে। বোনকে হারিয়ে আমরা এখন দিশাহারা। এ সময় তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যেকোনো মূল্যে আমরা সাদিয়াকে ফেরত পেতে চাই। এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে, এম, আরিফুল হক  বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে পেতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট থানা। সূএ: মানবজমিন

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» টাখনুর নিচে কাপড় পরা হারাম কেন?

» বেড়ে ওঠা শৈশবের হৃদয়

» নুডলস পাকোড়া বানানোর সহজ রেসিপি

» রানি ক্লিওপেট্রা কেন পানির নিচে রাজপ্রাসাদ গড়েছিলেন?

» ‘বাতাসেই দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনা’

» কুষ্টিয়ায় সাব রেজিস্ট্রার হত্যায় ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

» সাগরে ফের লঘুচাপ

» বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে ৫২ জন গ্রেফতার

» যেসব রঙ ঘরে শান্তি আনে

» তারাও যেন ঐশ্বরিয়া

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সাদিয়া এখন কোথায়?

সম্প্রতি সাদিয়া খানম নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর বোন এবং দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাগেরহাটের মোল্লারহাট শাসন এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছে। সহপাঠী অপর শিক্ষার্থী শাকিল চৌধুরী তাকে স্কুলের কোচিং থেকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পাচার করে দিতে পারে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীর পরিবার। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে কথা হয় । শিক্ষার্থীর মা শিরিনা খাতুন মেয়ের সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, সাদিয়া খানমের বয়স ১৪ বছর। দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে সাদিয়া দ্বিতীয়। গত ২৬শে আগস্ট স্কুলের কোচিংয়ে যাওয়ার পরে আর বাসায় ফিরে আসেনি।

সাদিয়ার মা বলেন, তিনি পেশায় একজন স্বাস্থকর্মী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। সাদিয়ার বাবা আরিফুল আলম মুন্সি ডিস্ট্রিক ফার্টিলাইজার ডিলার। ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সাদিয়া ছিল ভদ্র এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল। সে মোল্লারহাটের চুনখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। স্কুল এবং বাসার বাইরে সাদিয়া কখনো একা কোথাও যাতায়াত করেননি। ঘটনার দিন সকালে শিক্ষার্থীর বাবা তাকে সঙ্গে করে স্কুলের কোচিংয়ে দিয়ে আসেন। পরবর্তীতে তার মা বাসায় ফিরে মেয়েকে দেখতে না পেয়ে স্বামীকে জানায়। এ সময় তারা কোচিংয়ের শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে অনেক আগেই সাদিয়া বাসায় চলে গেছে বলে জানায়।

তিনি বলেন, এরপর আমরা স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করলে তারা ২৪ ঘণ্টা পরে আসতে বলেন। এ সময় সাদিয়াকে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী শাকিল চৌধুরী একটি অটোরিকশায় করে নিয়ে যাওয়ার পথে তাদের এক প্রতিবেশী দেখে ফেলেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে পরদিন একটি অপরিচিত নম্বর থেকে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাসার ফোনে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে সাদিয়াকে আপু বলে কান্না করতে শোনা যায়। হঠাৎ করে ফোনটি কেটে যায়। এরপর থেকে ওই মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্র জানায়, পরবর্তীতে গত ১লা সেপ্টেম্বর মোল্লারহাট উপজেলার সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা করে সাদিয়ার পরিবার।

অভিযুক্ত শাকিল চৌধুরী সম্পর্কে শিক্ষার্থীর পারিবারিক সূত্র জানায়, মোল্লারহাটের শাসন এলাকার একটি প্রবাসী পরিবারের বাড়ি দেখাশোনার কাজ করে শাকিলের মা। তার অপর দুই ভাই একটি দোকানে কাজ করেন। বাবা মারা যাওয়ায় মায়ের সঙ্গে অন্যের বাড়িতে আশ্রিতা হিসেবে থাকেন। এ ছাড়া অভিযুক্ত শাকিল পারিবারিক শাসন না থাকায় উচ্ছন্নে গেছেন। সে মাদক সেবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন বলে জানায় পারিবারিক সূত্র। এ ছাড়া শাকিল তার স্কুলে নিয়মিত ছিল না। এদিকে সাদিয়ার নিখোঁজের পর থেকে পাগলপ্রায় তার পরিবার। সাদিয়ার বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম বলেন, আমাদের ওখানে সীমান্ত এলাকা হওয়ায় কম বয়সী মেয়েদের চাকরি থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের ঘটনা অহরহ ঘটছে। আমার বোনের ভাগ্যে আসলে কি ঘটেছে সেটা এখনো জানি না। তবে আমাদের ধারণা প্রেমের ফাঁদে ফেলে অভিযুক্ত শাকিল তাকে ভারতে পাচার করে দিয়েছে। বোনকে হারিয়ে আমরা এখন দিশাহারা। এ সময় তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, যেকোনো মূল্যে আমরা সাদিয়াকে ফেরত পেতে চাই। এ বিষয়ে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কে, এম, আরিফুল হক  বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা হয়েছে। নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে খুঁজে পেতে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট থানা। সূএ: মানবজমিন

Facebook Comments Box
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।(দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা -মাকসুদা লিসা

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : [email protected]

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com