সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর ইন্তেকাল

জেষ্ঠ্য সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজ উল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৯ বছর।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৫ মিনিটের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাহফুজ উল্লাহর মেয়ে নুসরাত হুমায়রা এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্যাংককের হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাহফুজউল্লাহ।

গত ২১ এপ্রিল তার মৃত্যুর খবরও ছড়িয়েছিল, কিন্তু মেয়ে নুসরাত তখন জানিয়েছিলেন, তার বাবা বেঁচে আছেন। এদিকে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

মরহুমের স্ত্রী দিনারজাদী বেগম, ছোট মেয়ে ডা. নুসরাত হুমায়রা, ছোট মেয়ের জামাতা মিনহাজুল হক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

সব প্রক্রিয়া শেষে রোব বা সোমবার মাহফুজ উল্লাহর মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন মরহুমের মেয়ে নুসরাত হুমায়রা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুত্যে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মাহফুজউল্লাহ গত ২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।

স্কয়ারে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নিয়ে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে ব্যাংককে একবার তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল।

মাহফুজউল্লাহর জন্ম ১৯৫০ সালে নোয়াখালীতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন মাহফুজউল্লাহ। আইয়ুব খানের শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। তিনি পরে ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজউল্লাহ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই তিনি জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন তিনি। পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকতায় তার অবদান রয়েছে।

মাহফুজউল্লাহ মাঝে চীনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে।

বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা মাহফুজউল্লাহর বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।

পিপিবিডি

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে ডিএনসিসি মেয়রের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়

» বঙ্গভবনে ঈদের নামাজ আদায় করলেন রাষ্ট্রপতি

» এক সেলুন থেকেই করোনায় আক্রান্ত ১৪০ জন

» খালেদা জিয়ার ঈদ উদযাপন বাসায় ভাইবোনেরা, ফোনে নাতি-নাতনিরা

» ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনাকে মোদীর ফোন

» ভাইরাস রোগ থেকে মুক্তি কামনায় ঐতিহাসিক ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের জামাত

» এরশাদের ‘পল্লীনিবাস’ লকডাউন ঘোষণা

» ঈদের নামাজ শেষে ফেরার পথে ইউপি সদস্যকে গুলি করে হত্যা

» ঈদে অসহায়ের পাশে থাকুন, অমানিশা কেটে আসবে নতুন সূর্য: তথ্যমন্ত্রী

» প্রাইভেট কারে অভিনব পন্থায় লুকায়িত ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর ইন্তেকাল

জেষ্ঠ্য সাংবাদিক ও কলামিস্ট মাহফুজ উল্লাহ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছিলেন।মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৯ বছর।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ৫ মিনিটের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মাহফুজ উল্লাহর মেয়ে নুসরাত হুমায়রা এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত তিন সপ্তাহ ধরে ব্যাংককের হাসপাতালটিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মাহফুজউল্লাহ।

গত ২১ এপ্রিল তার মৃত্যুর খবরও ছড়িয়েছিল, কিন্তু মেয়ে নুসরাত তখন জানিয়েছিলেন, তার বাবা বেঁচে আছেন। এদিকে সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

মরহুমের স্ত্রী দিনারজাদী বেগম, ছোট মেয়ে ডা. নুসরাত হুমায়রা, ছোট মেয়ের জামাতা মিনহাজুল হক হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন।

সব প্রক্রিয়া শেষে রোব বা সোমবার মাহফুজ উল্লাহর মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন মরহুমের মেয়ে নুসরাত হুমায়রা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাহফুজ উল্লাহর মৃত্যুত্যে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

মাহফুজউল্লাহ গত ২ এপ্রিল হৃদরোগে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল।

স্কয়ারে কয়েকদিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১১ এপ্রিল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ব্যাংককে নিয়ে বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

তিনি হৃদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। এর আগে ব্যাংককে একবার তার বাইপাস সার্জারিও হয়েছিল।

মাহফুজউল্লাহর জন্ম ১৯৫০ সালে নোয়াখালীতে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের কর্মী হিসেবে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন মাহফুজউল্লাহ। আইয়ুব খানের শাসনামলে তাকে ঢাকা কলেজ থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল। তিনি পরে ছাত্র ইউনিয়নের (মেনন) সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রাবস্থাতেই মাহফুজউল্লাহ সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই তিনি জড়িত ছিলেন। বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন তিনি। পরিবেশ বিষয়ক সাংবাদিকতায় তার অবদান রয়েছে।

মাহফুজউল্লাহ মাঝে চীনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাসে দায়িত্ব পালন করেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন তিনি।

তিনি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত দেখা যেত তাকে।

বিভিন্ন বিষয়ে বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লেখা মাহফুজউল্লাহর বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।

পিপিবিডি

Facebook Comments
Share Button

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

উপদেষ্টা – মো: মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ, সাবেক ঢাকা মহানগর উত্তরঃ (দপ্তর সম্পাদক)

উপদেষ্টা – আনোয়ার হোসেন জীবন, উপশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ।

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: শফিকুল ইসলাম আরজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

সহযোগী সম্পাদকঃ মোঃ ফারুক হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি:মাকসুদা লিসা

 

 

 

১১২৫ পূর্ব মনিপুর , মিরপুর -২ ঢাকা -১২১৬

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন:ই-মেইল : dhakacrimenewsbd@gmail.com

মোবাইল : ০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com