সম্পত্তির লোভে আপন মা’কে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজাতে চেয়েছিল নিহত ফুলজানের (৯২) ছেলে সেলিম শিকদার (৪৫) ও হাবিবুর শিকদার (৪২)। অবশেষে নানামুখি সন্দেহে থানা পুলিশের শক্ত অবস্থানের কারণে শেষ রক্ষা হলো না তাদের। ঘটনাটি ঘটেছে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের পাচু মাদবর কান্দি গ্রামে।
২০২১ সালের ২৬ নভেম্বর দিবাগত রাতে নিখোঁজ হন ফুলজান। ভোরে বাড়ির আম গাছে তার ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। এ সময় ফুলজানের ছেলে সেলিম শিকদার ও হাবিবুর শিকদার তার মা আত্মহত্যা করেছেন বলে জানান। বিষয়টি স্থানীয় বাসিন্দারা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। এ সময় থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা এসে লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পেয়ে লাশ মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে সেলিম ও হাবিবুর বিপদ টের পেয়ে প্রথমে পালিয়ে যান। পরে এলাকার প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে ফিরে এসে মা ফুলজানের আত্মহত্যার কথা প্রচার করতে থাকেন। এতে সায় দেন প্রভাবশালীরা। একপর্যায়ে প্রভাবশালীদের পরামর্শে তারা মসজিদে খিঁচুড়ি বিতরণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এলাকাবাসী তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করে।
অবশেষে গত ২০ জানুয়ারি ২০২২ নিহত ফুলজানের মেজো ছেলে হাবিবুরকে আটক করলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে তিনি স্বীকারোক্তি দিয়ে জানান, তিনি ও তার সহোদর সেলিম শিকদার এবং উভয় পরিবারের সদস্যরা মিলে মা ফুলজানকে হত্যা করে ঘটনা অন্যখাতে প্রভাবিত করতে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছিল। মাত্র ১০ কাঠা জমি দুই ভাই মিলে আত্মসাৎ করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান জানান, মাকে হত্যা করার কথা এক ছেলে আদালতে স্বীকার করেছেন। তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরেকজনের নাম বলেছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তার বক্তব্য পেলে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার হওয়া যাবে। সূএ:ঢাকাটাইমস